ঢাকা    রোববার, ১০ মে ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

দক্ষিণ সুরমা পারাই চোখ থেকে / সিলেটে অস্ত্রের মুখে মহানগর বিএনপি সভাপতির ৫০ লাখ টাকা ছিনতাই

সিলেটের দক্ষিণ সুরমা পারাই চোখ থেকে সিলেট মহানগর বিএনপি-র সভাপতি নাসিম হোসেনের কাছ থেকে ৫০ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।বিস্তারিত আসছে...

আত্রাইয়ে অ্যাম্পল ইনজেকশন ও হেরোইনসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

পাবনার ঈশ্বরদীতে অবস্থিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ যুক্ত হওয়ার সম্ভাব্য সময়সূচি জানিয়েছেন তথ্য উপদেষ্টা। তিনি বলেন, সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে চলতি বছরের মধ্যেই পরীক্ষামূলকভাবে গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হতে পারে। তথ্য উপদেষ্টা জানান, রূপপুর কেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিং এবং প্রয়োজনীয় কারিগরি পরীক্ষা প্রায় শেষ পর্যায়ে। এখন ধাপে ধাপে রিয়্যাক্টর স্টার্টআপ, নিরাপত্তা যাচাই এবং টারবাইন পরীক্ষার কাজ চলছে। এসব প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন হলে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ যুক্ত করতে আর বড় কোনো বাধা থাকবে না। তিনি আরও বলেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র হওয়ায় এখানে সময়সূচির চেয়ে নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী একাধিক স্তরের পরীক্ষা ও অনুমোদন প্রয়োজন হয়। তাই তাড়াহুড়ো না করে প্রতিটি ধাপ সতর্কতার সঙ্গে সম্পন্ন করা হচ্ছে। সরকারি সূত্রে জানা গেছে, প্রথম ইউনিট থেকে পরীক্ষামূলক উৎপাদনের মাধ্যমে সীমিত আকারে বিদ্যুৎ গ্রিডে দেওয়া হবে। এরপর পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়নের ভিত্তিতে পূর্ণ সক্ষমতায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। দ্বিতীয় ইউনিট চালু হলে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুতের যোগান আরও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। তথ্য উপদেষ্টা বলেন, রূপপুর প্রকল্প শুধু একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নয়, এটি বাংলাদেশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও জ্বালানি নিরাপত্তার বড় প্রতীক। এই কেন্দ্র চালু হলে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনে একটি নতুন অধ্যায় শুরু হবে এবং দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি খাতে নির্ভরযোগ্যতা বাড়বে। উল্লেখ্য, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু হলে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিকভাবে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের যুগে প্রবেশ করবে। এতে জাতীয় গ্রিডে হাজার মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ যুক্ত হওয়ার পথ খুলে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বগুড়ায় ফুলকলি বেকারিতে যৌথ অভিযান, জরিমানা ২ লাখ টাকা

পাবনার ঈশ্বরদীতে অবস্থিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ যুক্ত হওয়ার সম্ভাব্য সময়সূচি জানিয়েছেন তথ্য উপদেষ্টা। তিনি বলেন, সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে চলতি বছরের মধ্যেই পরীক্ষামূলকভাবে গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হতে পারে। তথ্য উপদেষ্টা জানান, রূপপুর কেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিং এবং প্রয়োজনীয় কারিগরি পরীক্ষা প্রায় শেষ পর্যায়ে। এখন ধাপে ধাপে রিয়্যাক্টর স্টার্টআপ, নিরাপত্তা যাচাই এবং টারবাইন পরীক্ষার কাজ চলছে। এসব প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন হলে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ যুক্ত করতে আর বড় কোনো বাধা থাকবে না। তিনি আরও বলেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র হওয়ায় এখানে সময়সূচির চেয়ে নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী একাধিক স্তরের পরীক্ষা ও অনুমোদন প্রয়োজন হয়। তাই তাড়াহুড়ো না করে প্রতিটি ধাপ সতর্কতার সঙ্গে সম্পন্ন করা হচ্ছে। সরকারি সূত্রে জানা গেছে, প্রথম ইউনিট থেকে পরীক্ষামূলক উৎপাদনের মাধ্যমে সীমিত আকারে বিদ্যুৎ গ্রিডে দেওয়া হবে। এরপর পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়নের ভিত্তিতে পূর্ণ সক্ষমতায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। দ্বিতীয় ইউনিট চালু হলে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুতের যোগান আরও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। তথ্য উপদেষ্টা বলেন, রূপপুর প্রকল্প শুধু একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নয়, এটি বাংলাদেশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও জ্বালানি নিরাপত্তার বড় প্রতীক। এই কেন্দ্র চালু হলে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনে একটি নতুন অধ্যায় শুরু হবে এবং দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি খাতে নির্ভরযোগ্যতা বাড়বে। উল্লেখ্য, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু হলে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিকভাবে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের যুগে প্রবেশ করবে। এতে জাতীয় গ্রিডে হাজার মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ যুক্ত হওয়ার পথ খুলে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

লালপুরে মাদক সেবনের দায়ে যুবকের কারাদণ্ড

পাবনার ঈশ্বরদীতে অবস্থিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ যুক্ত হওয়ার সম্ভাব্য সময়সূচি জানিয়েছেন তথ্য উপদেষ্টা। তিনি বলেন, সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে চলতি বছরের মধ্যেই পরীক্ষামূলকভাবে গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হতে পারে। তথ্য উপদেষ্টা জানান, রূপপুর কেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিং এবং প্রয়োজনীয় কারিগরি পরীক্ষা প্রায় শেষ পর্যায়ে। এখন ধাপে ধাপে রিয়্যাক্টর স্টার্টআপ, নিরাপত্তা যাচাই এবং টারবাইন পরীক্ষার কাজ চলছে। এসব প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন হলে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ যুক্ত করতে আর বড় কোনো বাধা থাকবে না। তিনি আরও বলেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র হওয়ায় এখানে সময়সূচির চেয়ে নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী একাধিক স্তরের পরীক্ষা ও অনুমোদন প্রয়োজন হয়। তাই তাড়াহুড়ো না করে প্রতিটি ধাপ সতর্কতার সঙ্গে সম্পন্ন করা হচ্ছে। সরকারি সূত্রে জানা গেছে, প্রথম ইউনিট থেকে পরীক্ষামূলক উৎপাদনের মাধ্যমে সীমিত আকারে বিদ্যুৎ গ্রিডে দেওয়া হবে। এরপর পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়নের ভিত্তিতে পূর্ণ সক্ষমতায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। দ্বিতীয় ইউনিট চালু হলে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুতের যোগান আরও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। তথ্য উপদেষ্টা বলেন, রূপপুর প্রকল্প শুধু একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নয়, এটি বাংলাদেশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও জ্বালানি নিরাপত্তার বড় প্রতীক। এই কেন্দ্র চালু হলে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনে একটি নতুন অধ্যায় শুরু হবে এবং দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি খাতে নির্ভরযোগ্যতা বাড়বে। উল্লেখ্য, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু হলে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিকভাবে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের যুগে প্রবেশ করবে। এতে জাতীয় গ্রিডে হাজার মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ যুক্ত হওয়ার পথ খুলে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিশ্বজুড়ে যৌনাঙ্গ আক্রান্তকারী পরজীবী ছড়ানোর আশঙ্কা

বিশ্বজুড়ে যৌনাঙ্গ আক্রান্তকারী পরজীবী ছড়ানোর আশঙ্কা

ইরানে ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট

ইরানে ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট

২৪ ঘণ্টায় নতুন ১৪ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি

২৪ ঘণ্টায় নতুন ১৪ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি

নড়াইল-১ আসনে বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলমের বিজয়ে জনসাধারণকে অভিনন্দন জানালেন নাজমুল হক প্রিন্স

নড়াইল-১ আসনে বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলমের বিজয়ে জনসাধারণকে অভিনন্দন জানালেন নাজমুল হক প্রিন্স

মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমনকে অভিনন্দন জানালেন সাবেক চেয়ারম্যান নাজমুল হক প্রিন্স

মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমনকে অভিনন্দন জানালেন সাবেক চেয়ারম্যান নাজমুল হক প্রিন্স

সংবর্ধনার চেয়ে উন্নয়নকে অগ্রাধিকার সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ:  ডা. টিপু

সংবর্ধনার চেয়ে উন্নয়নকে অগ্রাধিকার সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ: ডা. টিপু

মানবিকতা, নেতৃত্ব ও সহমর্মিতার প্রতীক: সিমি কিবরিয়ার যাত্রা

মানবিকতা, নেতৃত্ব ও সহমর্মিতার প্রতীক: সিমি কিবরিয়ার যাত্রা

শহীদ জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করলেন নওগাঁ-৪ এর এমপি ডা. টিপু

শহীদ জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করলেন নওগাঁ-৪ এর এমপি ডা. টিপু

বিএনপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে কটূক্তি: শ্রমিক দল সভাপতি বরখাস্ত

বিএনপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে কটূক্তি: শ্রমিক দল সভাপতি বরখাস্ত

অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন আশরাফ উদ্দিন নিজানের

অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন আশরাফ উদ্দিন নিজানের

ডেনভার বিমানবন্দরে রানওয়েতে বিমান ধাক্কায় এক ব্যক্তির মৃত্যু

যুক্তরাষ্ট্রের ডেনভার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্রন্টিয়ার এয়ারলাইনসের একটি উড়োজাহাজের ধাক্কায় একজন নিহত হয়েছেন। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, দুর্ঘটনার পর বিমানের ইঞ্জিনে অল্প সময়ের জন্য আগুন ধরে যায়, যা পরে দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনে ডেনভার ফায়ার ডিপার্টমেন্ট।এয়ারলাইনস কর্তৃপক্ষের বিবৃতিতে বলা হয়, কেবিনে ধোঁয়া দেখা দেওয়ার পর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ২২৪ জন যাত্রী ও ক্রুকে জরুরি স্লাইড ব্যবহার করে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়।বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, নিহত ব্যক্তি নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেঙে বিমানবন্দরের ভেতরে প্রবেশ করেন। রানওয়ে পার হওয়ার সময় তিনি উড্ডয়নের প্রস্তুতিতে থাকা বিমানের ধাক্কায় নিহত হন।স্থানীয় সময় রাত প্রায় ১১টার দিকে ডেনভার থেকে লস অ্যাঞ্জেলেসগামী ফ্লাইটটি উড্ডয়নের সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের সঙ্গে যোগাযোগের অডিওতে দেখা যায়, পাইলট উড্ডয়নের অনুমতি পাওয়ার পরপরই জরুরি বার্তা পাঠান এবং জানান যে রানওয়েতে একজন ব্যক্তি ছিলেন এবং সংঘর্ষ হয়েছে, যার ফলে ইঞ্জিনে আগুন ধরে যায়।যুক্তরাষ্ট্রের পরিবহনমন্ত্রী শন ডাফি বলেন, সংঘর্ষের সময় বিমানটি উচ্চ গতিতে চলছিল। তিনি আরও জানান, নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেঙে ওই ব্যক্তি রানওয়েতে প্রবেশ করেন, যা গুরুতর নিরাপত্তা লঙ্ঘন। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে, নিহত ব্যক্তি বিমানবন্দরের কোনো কর্মী ছিলেন না এবং তার পরিচয় এখনও শনাক্ত করা যায়নি। সূত্র: বিবিসি

হাটহাজারীতে ব্যারিস্টার সাকিলা ফারজানা এমপিকে গণসংবর্ধনা

হাটহাজারীতে বিশাল মানুষের সমাগম হওয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ব্যারিস্টার সাকিলা ফারজানা (এম.পি) বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের লক্ষ্যে কাজ করছে।ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপি'র নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সাকিলা ফারজানা বলেছেন, দীর্ঘদিন পর একটি সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের মানুষ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করতে পেরেছে- এটি গণতন্ত্রের জন্য একটি ইতিবাচক দিক।এই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া যেন ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী ও নিরবচ্ছিন্ন থাকে, সেটি নিশ্চিত করার চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (৯ মে) বিকেলে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সাকিলা ফারজানা সংসদে শপথ গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো চট্টগ্রামের হাটহাজারীর লালিয়ারহাটে তার জন্মস্থানে আগমণ উপলক্ষ্যে চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী ও বায়েজিদ আংশিক) আসনের বিএনপি পরিবার এবং সর্বস্তরের জনসাধারণ আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।এ সময় ব্যারিস্টার সাকিলা ফারজানা-এম.পি আরও বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের লক্ষ্যে কাজ করছে। তাছাড়া তিনি দেশে নানামুখী উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনার পাশাপাশি নারী শিক্ষা এগিয়ে নিতে ডিগ্রি পর্যন্ত মেয়েদের বিনামূল্যে লেখাপড়ার ব্যবস্থা ও নারীদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। ব্যারিস্টার সাকিলা ফারজানা হাটহাজারী উপজেলার অবকাঠামো ও সার্বিক উন্নয়নে অগ্রাধিকার দেবেন এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করে বলেন, আজকের দিনটিকে তাঁর জীবনের অন্যতম ঐতিহাসিক ও গর্বের দিন।তার মরহুম পিতা চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী ও আংশিক বায়েজিদ) আসনের ৪ বারের এমপি ও সাবেক হুইপ মরহুম সৈয়দ ওয়াহিদুল আলমের সুযোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে এই অর্জন কেবল তাঁর ব্যক্তিগত নয়, বরং এটি একটি আদর্শের বিজয় এবং জনগণের আস্থার প্রতিফলন। বাবার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি আবেগঘন কণ্ঠে উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্য বলেন, আমার বাবার ত্যাগ, সততা ও মানুষের প্রতি তাঁর অগাধ ভালোবাসা আমার পথচলার চিরন্তন প্রেরণা হয়ে থাকবে। তাঁর দেখানো পথেই আমি নিজেকে পরিচালিত করে আমৃত্যু পর্যন্ত আপনাদের পাশে থেকে সেবা করে যেতে চাই।এর আগে তিনি বিকেল ৫টার দিকে তার জন্মস্থান হাটহাজারীর লালিয়ারহাট এসে পৌঁছলে হাজার হাজার নেতাকর্মী তাকে শুভেচ্ছা জানানোর জন্য ভিড় করে। এরপর তিনি তার মরহুম পিতা সৈয়দ ওয়াহিদুল আলমের কবর জিয়ারত ও মোনাজাত করেন।পরে চট্টগ্রাম-৫ আসনের বিএনপি পরিবার এবং সর্বস্তরের জনসাধারণ ব্যারিস্টার সাকিলা ফারজানা বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনে এমপি নির্বাচিত হওয়ায় আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সংবর্ধিত অতিথি হিসেবে যোগ দেন।অনুষ্ঠান শেষে তিনি তার নিজ বাসভবনে দলীয় নেতাকর্মী, গণমাধ্যমকর্মী, পেশাজীবী ও সর্বস্তরের জনসাধারণের সাথে শুভেচ্ছা ও কুশল বিনিময় করেন।

সব বিভাগের খবর

ঠাকূরগাঁওয়ে ফের কবর খুঁড়ে কঙ্কাল চুরি, আতঙ্কে এলাকাবাসী

ঠাকূরগাঁও সদর উপজেলায় আবারও কবর খুঁড়ে কঙ্কাল চুরির চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।গত শুক্রবার গভীর রাতে সদর উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের মধ্য হরিনারায়ণপুর মাস্টারপাড়া এলাকার একটি পারিবারিক গোরস্থানে এ ঘটনা ঘটে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা গোরস্থানে প্রবেশ করে মোট পাঁচটি কবর খুঁড়ে ফেলে। এর মধ্যে মৃত রেখা বেগমের কঙ্কাল চুরি করে নিয়ে যায় তারা। রেখা বেগম ঠাকুরগাঁও রোড এলাকার এক সময়ের সুপরিচিত ‘বুলবুল লাইব্রেরি’র স্বত্বাধিকারী মরহুম সিরাজুল হকের মেয়ে।ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে রেখা বেগমের ছোট ভাই মমিনুল ইসলাম বলেন,“সকালে গোরস্থানে গিয়ে কয়েকটি কবর খোঁড়া অবস্থায় দেখতে পাই। পরে বুঝতে পারি, আমার বোনের কঙ্কাল দুর্বৃত্তরা নিয়ে গেছে।”স্থানীয় ইউপি সদস্য মনছুর আলী জানান, বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।এদিকে পুলিশের এএসআই সুমন ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাথমিক তদন্ত করেন এবং কঙ্কাল চুরির বিষয়টি নিশ্চিত করেন।স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে ঠাকূরগাঁওয়ের বিভিন্ন এলাকায় কবর খুঁড়ে কঙ্কাল চুরির ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় মানুষের মধ্যে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে পারিবারিক গোরস্থানগুলো নিয়ে এলাকাবাসী আতঙ্কে রয়েছেন। এলাকাবাসীর দাবি, একটি সংঘবদ্ধ কঙ্কাল চোর চক্র এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। তারা দ্রুত চক্রটিকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ কামনা করেছেন।

সিদ্ধিরগঞ্জে যৌথবাহিনীর বিশেষ অভিযান: বিহারী কলোনি থেকে আটক ১১

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে মাদক নির্মূলে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে যৌথবাহিনী। শনিবার (৯ মে) বিকেল থেকে রাত সাড়ে ৭টা পর্যন্ত চলা এ অভিযানে আদমজী সুমিলপাড়া বিহারী কলোনি এলাকা থেকে ১১ জনকে আটক করা হয়েছে। পুলিশ সূত্র জানায়, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ, র‍্যাব-১১ ও বিজিবির সমন্বয়ে এই সাঁড়াশি অভিযান পরিচালিত হয়। মাদকের বিস্তার রোধ এবং চিহ্নিত কারবারিদের আইনের আওতায় আনতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। আটককৃতদের মধ্যে তিনজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন ফারুক (৩৮), বাবু (২৭) ও বাবলু (৩২)। বাকি আটজনের পরিচয় যাচাই-বাছাই চলছে। বর্তমানে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। স্থানীয়দের অভিযোগ, আদমজী সুমিলপাড়া বিহারী কলোনি দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবারিদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে পরিচিত। এলাকায় বেশ কয়েকটি প্রভাবশালী মাদক সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে বলেও দাবি করেন তারা। তবে দীর্ঘ সময় অভিযান চালানো হলেও কোনো মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা যায়নি। সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ এমদাদুল হক বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে যৌথভাবে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যাচাই শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযান চলাকালে বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকায় পুরো এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। মাদকবিরোধী এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

প্রতিবেশী চাচা কর্তৃক কিশোরী ধর্ষণ; আসামিকে গ্রেফতার করলো পিবিআই

খুলনা জেলার ডুমুরিয়া থানাধীন চিংড়া সাকিনস্থ বিশ্বজিৎ সরকার এবং একই গ্রামের পঞ্চানন সরকারের পুত্র আকাশ সরকার (২৭) পরস্পর প্রতিবেশী এবং সম্পর্কে ভাই। আকাশ সরকার দীর্ঘদিন যাবত বিশ্বজিৎ সরকারের মেয়ে প্রিয়াংকা সরকার (ছদ্মনাম) (১৩)-কে অশ্লীল অঙ্গ ভঙ্গিসহ কুপ্রস্তাব দিত।গত ১৫/০৩/২০২৬ ইং সকাল ১০.৩০ ঘটিকায় বিশ্বজিৎ সরকার এবং তার স্ত্রী ইতিকা সরকার বাড়িতে না থাকার সুযোগে আকাশ সরকার ভিকটিম প্রিয়াংকা সরকারের বসত ঘরে প্রবেশ করে তাকে একা পেয়ে ধর্ষণ করার জন্য ঝাপটে ধরে খাটের উপর ফেলে দেয়। ভিকটিম তখন আকাশ সরকারের নিকট হতে বাঁচার জন্য চিৎকার দেওয়ার চেষ্টা করলে আকাশ সরকার ভিকটিমের মুখ চেপে ধরে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। আকাশ সরকার চলে যাবার সময় বিষয়টি কাউকে না বলার জন্য ভিকটিমকে হুমকি দিয়ে যায়। পরবর্তীতে বিশ্বজিৎ সরকার এবং তার স্ত্রী দুপুরের পর বাড়িতে আসলে ভিকটিম প্রিয়াংকা তাদেরকে বিস্তারিত ঘটনা বলে। ভিকটিমের পরিবার মেয়ের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনায় এবং লোকলজ্জার ভয়ে বিষয়টি তাৎক্ষনিক কাউকে জানাননি।এ অবস্থায় গত ২০/০৪/২০২৬ ইং সকাল ১০.০০ ঘটিকায় ইতিকা সরকার এবং তার স্বামী তাদের শিশুপুত্রকে নিয়ে পাসপোর্ট করার উদ্দেশ্যে খুলনা পাসপোর্ট অফিসে গেলে সেই সুযোগে ঐ দিন ১৫.৫০ ঘটিকায় আকাশ সরকার পুনরায় ভিকটিম প্রিয়াংকার ঘরে প্রবেশ করে ভিকটিমকে জড়িয়ে ধরে ভিকটিমের শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেয় এবং ধর্ষণের চেষ্টা করে।পরবর্তীতে ভিকটিমের মা ইতিকা সরকার পুলিশ সুপার, পিবিআই, খুলনা বরাবর আসামি আকাশ সরকারের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ইতিকা সরকারের লিখিত অভিযোগ প্রাপ্ত হয়ে পুলিশ সুপার, পিবিআই, খুলনা বিষয়টি ছায়া তদন্তের জন্য এসআই (নিঃ) গুলশান আরা শীলাকে তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ করেন। তদন্তকারী কর্মকর্তা অভিযোগের বিষয়ে ছায়া তদন্তকালে আসামি আকাশ সরকার ভিকটিম প্রিয়াংকা সরকারকে গত ১৫/০৩/২০২৬ ইং সকাল ১০.৩০ ঘটিকায় ধর্ষণ করেছে মর্মে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যায়।পরবর্তীতে ভিকটিমের মা ইতিকা সরকার এই ঘটনায় আসামি আকাশ সরকারের রিরুদ্ধে ডুমুরিয়া থানার মামলা নং-৭, তারিখ: ০৮/০৫/২০২৬ ইং, ধারা-নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধীত-২০০৩) এর ৯(১) দায়ের করেন। মামলাটি পিবিআই এর শিডিউলভুক্ত হওয়ায় পিবিআই, খুলনা স্ব-উদ্যোগে মামলাটি গ্রহণ করে এবং তদন্তভার এসআই (নিঃ) গুলশান আরা শীলার উপর অর্পণ করা হয়। পরবর্তীতে পিবিআই প্রধান জনাব মোঃ মোস্তফা কামাল, অ্যাডিশনাল আইজিপি, বাংলাদেশ পুলিশ এর সঠিক তত্ত্বাবধান ও দিক নির্দেশনায়, পিবিআই খুলনা জেলা ইউনিট ইনচার্জ পুলিশ সুপার রেশমা শারমিন, পিপিএম-সেবা এর নেতৃত্ত্বে পুঃ পরিঃ (নিঃ) মোঃ আব্দুল্লাহ-আল-মামুন বিশ্বাস এবং এসআই (নিঃ) গুলশান আরা শীলা  ডুমুরিয়া থানা এলাকা থেকে  আসামির বসতবাড়ি হতে গ্রেফতার করা হয়। ০৮/০৫/২০২৬ ইং আসামিকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করলে আসামি বিজ্ঞ আদালতে ফৌঃকাঃবিঃ ১৬৪ ধারা মোতাবেক দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী প্রদান করে। মামলাটির তদন্ত অব্যাহত আছে।

নড়াইলে হাসপাতাল থেকে এসির আউটডোর ইউনিট চুরি, আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে

নড়াইলের নড়াইল জেলা-এ ‘আল্লাহর দান হাসপাতাল’ থেকে একটি এসির আউটডোর ইউনিট চুরির অভিযোগ উঠেছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিচালকের অসুস্থতার সুযোগে এ চুরির ঘটনা ঘটে।জানা যায়, হাসপাতালের পরিচালক অসুস্থ থাকাকালীন সময়ে অজ্ঞাত চোরচক্র হাসপাতাল প্রাঙ্গণে ঢুকে একটি এসির আউটডোর ইউনিট (কম্প্রেসারসহ) নিয়ে যায়। বিষয়টি টের পেয়ে পরবর্তীতে কর্তৃপক্ষ থানায় জানায় এবং চোর শনাক্তে সহায়তা করতে পারলে পুরস্কারের ঘোষণাও দিয়েছে।স্থানীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, নড়াইল জেলা ও লোহাগড়া এলাকায় একটি সংঘবদ্ধ চোরচক্র দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় রয়েছে। তারা মূলত বাড়ি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের এসির কম্প্রেসার ও আউটডোর ইউনিট টার্গেট করে চুরি করছে।এর আগেও জয়পুর পশ্চিমপাড়া নায়েব বাড়ি থেকে একটি এসির কম্প্রেসার চুরির ঘটনা ঘটে। একইভাবে গোপীনাথপুর এলাকার একলাছুর রহমান প্রফেসরের বাড়ি থেকেও কম্প্রেসার চুরির অভিযোগ পাওয়া গেছে।এদিকে একের পর এক এমন ঘটনায় লোহাগড়া উপজেলা ও শহর এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই রাতে বাড়ি ও প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।স্থানীয়রা বলছেন, চুরির ঘটনা বাড়তে থাকলেও এখনো পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা দেখা যাচ্ছে না। তারা দ্রুত চোরচক্র শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে স্থানীয়রা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও নিয়মিত টহল জোরদারের দাবি জানিয়ে বলেন, এভাবে চলতে থাকলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা আরও ঝুঁকির মুখে পড়বে।

ভাঙ্গায় জমি-জমা বিরোধকে কেন্দ্র করে হামলা বাড়ি-ঘর ভাংচুর- আহত ৫

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলা-এ জায়গা-জমি ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণকে কেন্দ্র করে চাচার বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে ভাতিজার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে উপজেলার তুজারপুর ইউনিয়নের উচাবাড়ী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরে খবর পেয়ে ভাঙ্গা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোলজার ফকির ও তার ভাতিজা বাহার ফকিরের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জায়গা-জমি এবং সীমানা প্রাচীর নিয়ে বিরোধ চলছিল। দুই দিন আগে গোলজার ফকির তার বাড়ির পাশে একটি সীমানা প্রাচীর ও ওয়াল নির্মাণ করেন। এরপর থেকেই উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকে।অভিযোগ রয়েছে, শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রাচীর নির্মাণকে কেন্দ্র করে গোলজার ফকির ও বাহার ফকিরের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে বাহার ফকির ও তার সহযোগীরা হামলা চালিয়ে গোলজার ও ফরিদ ফকিরের বাড়িতে ভাঙচুর করে। এ সময় ৪ থেকে ৫টি ঘর, বেড়া ও ইটের তৈরি প্রাচীর ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।হামলায় গোলজার ফকিরের পক্ষের অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। আহতদের স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।এ বিষয়ে ভাঙ্গা থানা পুলিশ-এর ওসি (তদন্ত) মো. আল আমিন বলেন, “চাচা গোলজার ফকির ও ভাতিজা বাহার ফকিরের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা ও সীমানা প্রাচীর নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। শুক্রবার সন্ধ্যায় এ নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।”তিনি আরও বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে। এখন পর্যন্ত থানায় কেউ লিখিত অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

কটিয়াদীতে দেওয়াল ধসে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর মৃত্যু

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী পৌর এলাকায় পুরাতন দেওয়াল ধসে আরাবি (১১) নামে এক মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।রবিবার (১০ মে) সকালে ঢাকার শাহবাগ পিজি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।নিহত আরাবি কটিয়াদী পৌর এলাকার পূর্বপাড়া ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আনার মিয়ার ছেলে। সে স্থানীয় নুরুল কুরআন হাফেজিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ছিল।পরিবার সূত্রে জানা যায়, শনিবার সন্ধ্যায় আরাবি তার বন্ধুদের সঙ্গে এলাকার একটি বাসার আমগাছের নিচে দাঁড়িয়ে ছিল। এ সময় তার এক বন্ধু পুরাতন ও নড়বড়ে একটি দেওয়ালে উঠে আম পাড়ার চেষ্টা করলে হঠাৎ দেওয়ালের একটি বড় অংশ ভেঙে পড়ে। এতে নিচে দাঁড়িয়ে থাকা আরাবির শরীরে দেওয়ালের ধ্বংসাবশেষ পড়ে গেলে সে গুরুতর আহত হয়।পরে স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে প্রথমে বাজিতপুর জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার শাহবাগ পিজি হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রবিবার সকালে তার মৃত্যু হয়।বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নিহতের চাচা মালয়েশিয়া প্রবাসী মনিরুজ্জামান মনির। তিনি জানান, “আম পাড়াকে কেন্দ্র করে এমন দুর্ঘটনা ঘটবে কেউ কল্পনাও করতে পারেনি। পরিবারের সবাই শোকে ভেঙে পড়েছে।”আরাবির অকাল মৃত্যুতে এলাকায় গভীর শোকের সৃষ্টি হয়েছে। স্বজন ও স্থানীয়দের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। এলাকাবাসী ঝুঁকিপূর্ণ ও জরাজীর্ণ স্থাপনা দ্রুত অপসারণের দাবি জানিয়েছেন।

দক্ষিণ সুরমায় ট্রাক চাপায় শিশু নিহত, শোকে স্তব্ধ জালালপুর

সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার জালালপুর বাজারে নিয়ন্ত্রণ হারানো একটি ট্রাকের চাপায় তুহিন (১২) নামে এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।নিহত তুহিন জালালপুর ইউনিয়নের বাদেশপুর গ্রামের সিএনজি অটোরিকশা চালক গেদন মিয়ার একমাত্র ছেলে। সে দীর্ঘদিন ধরে জালালপুর বাজারের ‘স্বাদ’ মিষ্টিঘরে কর্মচারী হিসেবে কাজ করছিল।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার সন্ধ্যায় তুহিন দোকানের কাজ শেষে বাজার এলাকায় অবস্থান করছিল। এ সময় দ্রুতগতির একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তাকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই গুরুতর আহত হয় তুহিন। স্থানীয় লোকজন দ্রুত তাকে উদ্ধার করার চেষ্টা করলেও তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে পড়ে। পরে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা।দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে বাজার এলাকায় মুহূর্তেই উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। স্থানীয় এলাকাবাসী ঘাতক ট্রাকটি আটক করে রাখেন। পরে খবর পেয়ে মোগলাবাজার থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং দুর্ঘটনার বিষয়ে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে।তুহিনের মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে শোকের মাতম। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে বাবা-মা বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। স্থানীয়দের অনেকেই বলেন, অল্প বয়সেই পরিবারের সহায়তার জন্য কাজ করত তুহিন। তার এমন মৃত্যু কেউ মেনে নিতে পারছেন না।এ ঘটনায় এলাকাবাসী জালালপুর বাজার এলাকায় ভারী যানবাহন চলাচলে কঠোর নিয়ন্ত্রণ এবং সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।

ভাঙ্গায় ভ্যান উল্টে গৃহবধূর মৃত্যু, এলাকায় শোক

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলা পৌরসভার বাস্তোর খোলা এলাকায় ভ্যান উল্টে কোহিনুর বেগম (৪৫) নামে এক গৃহবধূর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। নিহত কোহিনুর বেগম স্থানীয় ইব্রাহিমের স্ত্রী। এ ঘটনায় পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (৯ মে) বিকেলে কোহিনুর বেগম তার মেয়েকে ডাক্তার দেখিয়ে ভ্যানযোগে বাড়ি ফিরছিলেন। বাড়ির কাছাকাছি পৌঁছালে গ্রাম্য সড়কের ওপর হঠাৎ কয়েকটি কুকুর দৌড়ে চলে আসে। এ সময় একটি কুকুর ভ্যানের নিচে পড়ে গেলে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। মুহূর্তের মধ্যেই ভ্যানটি উল্টে যায় এবং যাত্রীরা সড়কে ছিটকে পড়েন।দুর্ঘটনায় কোহিনুর বেগম গুরুতর আহত হন। স্থানীয় লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করেন এবং ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকরা তার শারীরিক অবস্থার অবনতি দেখতে পেয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।পরিবারের সদস্যরা জানান, ঢাকায় নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতেই কোহিনুর বেগম মারা যান। তার মৃত্যু সংবাদ এলাকায় পৌঁছালে স্বজনদের মাঝে কান্নার রোল পড়ে যায়। প্রতিবেশী ও স্থানীয়রাও এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।স্থানীয়রা জানান, গ্রাম্য সড়কগুলোতে বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় প্রায়ই দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। তারা এ বিষয়ে প্রশাসনের জরুরি পদক্ষেপ কামনা করেছেন। এদিকে কোহিনুর বেগমের অকাল মৃত্যুতে তার পরিবারে নেমে এসেছে শোকের মাতম। স্বজনদের আহাজারিতে এলাকার পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে।

কোরবানির গরু কিনলে ছাগল ফ্রি

কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে ব্যতিক্রমী এক অফার ঘোষণা করেছেন বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার এক খামারি। তার খামারের বড় দুটি ষাঁড় ‘কালু’ বা ‘ধলু’ কিনলে ক্রেতারা উপহার হিসেবে একটি করে ছাগল পাবেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মোরেলগঞ্জ উপজেলার ১৬ নম্বর খাওলিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম খাওলিয়া গ্রামে অবস্থিত ‘তাজু ডেইরী ফার্ম’-এর মালিক তাজুল ইসলাম এই ঘোষণা দেন। তার খামারে লালন-পালন করা বিশাল আকৃতির দুই ষাঁড় এখন এলাকায় ব্যাপক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। খামারির তথ্যমতে, ফ্রিজিয়ান জাতের ‘কালু’ নামের ষাঁড়টির ওজন প্রায় ৪০ মণ এবং দৈর্ঘ্য ৭ ফুট। এটিকে তিনি বাগেরহাট জেলার সবচেয়ে বড় গরু হিসেবে দাবি করছেন। এর দাম ধরা হয়েছে প্রায় ১৫ লাখ টাকা। একই খামারের আরেকটি ষাঁড় ‘ধলু’র ওজন প্রায় ২৫ মণ এবং দাম চাওয়া হচ্ছে ১০ লাখ টাকা। তাজুল ইসলাম জানান, প্রায় ২৮ থেকে ২৯ মাস ধরে সম্পূর্ণ দেশীয় পদ্ধতিতে গরুগুলো লালন-পালন করা হয়েছে। কাঁচা ঘাস, কুঁড়া ও ভুসি ছাড়া কোনো ক্ষতিকর খাবার দেওয়া হয়নি বলে তিনি দাবি করেন। ঈদ উপলক্ষে ক্রেতাদের জন্য বিশেষ অফার হিসেবে প্রতিটি গরুর সঙ্গে ২৫ হাজার টাকা মূল্যের একটি করে ছাগল উপহার দেওয়া হবে। ফলে একসঙ্গে দুটি গরু কিনলে প্রায় ৫০ হাজার টাকার দুটি ছাগল পাওয়া যাবে। এ ব্যতিক্রমী অফারের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ খামারে ভিড় করছেন। অনেকেই গরু দুটি দেখতে এসে ছবি ও ভিডিও ধারণ করছেন, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে। স্থানীয়দের মতে, এবারের কোরবানির হাটে ‘কালু’ ও ‘ধলু’ই মোরেলগঞ্জের প্রধান আকর্ষণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। খামারি তাজুল ইসলাম মূলত দুগ্ধ খামার পরিচালনা করলেও শখের বশে কোরবানির জন্য ষাঁড় লালন-পালন করেন। এবারই প্রথম এত বড় আকৃতির গরু নিয়ে তিনি ব্যাপক আলোচনায় এসেছেন।

জাতীয় দলের নতুন কোচ চূড়ান্তে বাফুফের জরুরি বৈঠক

বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের নতুন হেড কোচ নিয়োগের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে আজ রোববার সন্ধ্যা ৬টায় জরুরি বৈঠকে বসছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের জাতীয় দল ব্যবস্থাপনা কমিটি।ফেডারেশন সভাপতি ও কমিটির চেয়ারম্যান তাবিথ আউয়ালের ঘোষণার অনুযায়ী আজই জাতীয় দলের নতুন কোচের নাম চূড়ান্ত হওয়ার কথা রয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে শর্টলিস্টে থাকা বিদেশি কোচদের সঙ্গে ভার্চুয়াল সাক্ষাৎকার নিচ্ছে বাফুফে।আলোচিত কোচ ক্রিস কোলম্যানের সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত হয়েছে গতকাল। অন্যদিকে আলোচনায় থাকা রোজারিও মিকেল ইতোমধ্যে ব্রাজিলের একটি ক্লাবের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হওয়ায় শেষ মুহূর্তে নতুন করে হিসাব-নিকাশে পড়েছে ফেডারেশন।সহকারী কোচ নিয়োগ নিয়েও জটিলতা রয়েছে। এ পদে আলাদা বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হলেও অধিকাংশ প্রধান কোচ নিজেদের পছন্দের সহকারী কোচ নিয়ে কাজ করতে আগ্রহ দেখিয়েছেন। বিষয়টিও বৈঠকে আলোচনায় আসবে।চার বছরের বেশি সময় দায়িত্ব পালনের পর গত ৩০ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ দলের দায়িত্ব শেষ হয় হাভিয়ের কাবরেরার। তার অধীনে বাংলাদেশ ৩৯টি ম্যাচ খেলেছে। এর মধ্যে জয় এসেছে ১০টিতে, ড্র ১০টি এবং হার ১৯ ম্যাচে। কাবরেরার বিদায়ের পর থেকেই নতুন কোচ নিয়োগের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু করে বাফুফে।

রক্তে হিমোগ্লোবিন বেশি হওয়াও কি খারাপ?

সাধারণত রক্তে হিমোগ্লোবিন কমে যাওয়া বা রক্তশূন্যতা নিয়ে মানুষের মধ্যে সচেতনতা থাকলেও এর আধিক্য যে কতটা ভয়াবহ হতে পারে তা অনেকেরই অজানা। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়ে যাওয়াকে পলিসাইথেমিয়া বলা হয়। রক্তে হিমোগ্লোবিন বেড়ে গেলে রক্ত অতিরিক্ত ঘন ও আঠালো হয়ে যায় যা শরীরের স্বাভাবিক রক্ত সঞ্চালনকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করে। যখন রক্তনালীর ভেতর দিয়ে রক্ত সহজে প্রবাহিত হতে পারে না তখন শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গে অক্সিজেন সরবরাহে ঘাটতি দেখা দেয়।বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে উচ্চ হিমোগ্লোবিনের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো রক্ত জমাট বাঁধা বা ব্লাড ক্লট। এই জমাটবদ্ধ রক্ত মস্তিষ্কে রক্ত চলাচলে বাধা দিলে স্ট্রোক এবং হার্টে বাধা দিলে হার্ট অ্যাটাকের মতো প্রাণঘাতী পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। সাধারণত দীর্ঘমেয়াদী ধূমপান, অতিরিক্ত উচ্চতায় বসবাস, পানিশূন্যতা কিংবা ফুসফুসের জটিল রোগের কারণে শরীর অতিরিক্ত হিমোগ্লোবিন তৈরি করতে শুরু করে। এছাড়াও হাড়ের মজ্জার বিশেষ কিছু রোগের কারণেও লোহিত রক্তকণিকা অস্বাভাবিক হারে বাড়তে পারে। যাদের হিমোগ্লোবিন বেশি তাদের ক্ষেত্রে প্রায়ই তীব্র মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা, ঝাপসা দৃষ্টি এবং ত্বক অস্বাভাবিক লালচে হয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা যায়।এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে চিকিৎসকরা প্রচুর পরিমাণে পানি পান করার পরামর্শ দিয়েছেন যাতে রক্ত পাতলা থাকে। পাশাপাশি ধূমপান ত্যাগ করা এবং নিয়মিত শরীরচর্চা করা হিমোগ্লোবিন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। অনেক ক্ষেত্রে পরিস্থিতি জটিল হলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শে শরীর থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ রক্ত বের করে দেওয়ার বা থেরাপিউটিক ফ্লেবোটমির প্রয়োজন পড়ে। তাই হিমোগ্লোবিন বেশি হলে তাকে সুস্বাস্থ্যের লক্ষণ ভেবে অবহেলা না করে দ্রুত রক্তরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। সাধারণত পুরুষের ক্ষেত্রে ১৭.৫ এবং নারীর ক্ষেত্রে ১৫.৫ গ্রাম/ডেসিলিটারের বেশি হিমোগ্লোবিন থাকলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া আবশ্যক।

প্রাথমিকে নির্বাচিত ১৪ হাজার শিক্ষকের নিয়োগে যাচাই-বাছাইয়ের নির্দেশ

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ-২০২৫ এর আওতায় প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত ১৪ হাজার ৩৮৪ প্রার্থীর তথ্য ও কাগজপত্র যাচাইয়ে জরুরি নির্দেশনা দিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। ইতোমধ্যে তাদের পুলিশ ভেরিফিকেশন কার্যক্রম শুরু হয়েছে।রোববার জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।চিঠিতে বলা হয়েছে, প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের পূর্ব কার্যকলাপ পুলিশি তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করতে হবে। পাশাপাশি তাদের জমা দেওয়া কাগজপত্র ও প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টসের সত্যতাও নিশ্চিত করতে হবে। এ নির্দেশনা দ্রুত বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের বলা হয়েছে।প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, আগের সরকারের সময়েই এ নিয়োগ প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত কাজ সম্পন্ন হয়েছিল। উল্লেখ্য, পার্বত্য তিন জেলা বাদে দেশের ৬১ জেলায় গত ৯ জানুয়ারি সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৬৯ হাজার ২৬৫ জন প্রার্থীর মধ্য থেকে চূড়ান্তভাবে ১৪ হাজার ৩৮৪ জনকে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত করা হয়।

৮ জেলায় ঝড়-বৃষ্টি, নদীবন্দরে সতর্কসংকেত

দেশের আট জেলায় সন্ধ্যার মধ্যে ঝোড়ো হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সংস্থাটি জানিয়েছে, ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে হতে পারে এই ঝড়। এ জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, রংপুর, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ, সিলেট, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম/উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

বালিয়াডাঙ্গীতে কৃষি উন্নয়ন “পার্টনার কংগ্রেস-২০২৬” অনুষ্ঠিত

ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীতে কৃষি উন্নয়ন, পুষ্টি নিরাপত্তা, উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে “পার্টনার কংগ্রেস-২০২৬” অনুষ্ঠিত হয়েছে।রবিবার (১০ মে) উপজেলা কৃষি অফিস ও কৃষক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, বালিয়াডাঙ্গীর আয়োজনে এ কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়। এতে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, কৃষক প্রতিনিধি, এনজিও কর্মী ও কৃষি উদ্যোক্তারা অংশ নেন।অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা কৃষি অফিসার তামান্না ফেরদৌস। প্রধান অতিথি ছিলেন ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মাজেদুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা সিনিয়র মনিটরিং অফিসার সনজয় দেবনাথ। আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশিক্ষণ অফিসার মোছাঃ সাইমা নাসমিন, কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার মোঃ লতিফুর রহমান ও মোঃ গুলজার হোসেন।বক্তারা বলেন, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর চাষাবাদ, মানসম্মত বীজ ও কৃষি উপকরণের ব্যবহার এবং সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে টেকসই কৃষি উন্নয়ন সম্ভব। তারা উৎপাদন বৃদ্ধি, পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং কৃষকের আর্থসামাজিক উন্নয়নে প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।সভায় ধান, গম, ভুট্টা, আলু, সবজি ও তেলবীজ ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধিতে আধুনিক কৌশল, সুষম সার ব্যবহার, নিয়মিত মাটি পরীক্ষা, সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা (আইপিএম) এবং জলবায়ু সহনশীল জাত সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনা হয়।এছাড়া কৃষিপণ্য সংরক্ষণ, বাজারজাতকরণ এবং কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।সভা শেষে ইউনিয়নভিত্তিক কৃষক তালিকা হালনাগাদ, নিয়মিত সমন্বয় সভা আয়োজন এবং প্রতি তিন মাস অন্তর অগ্রগতি পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অংশগ্রহণকারীরা আশা প্রকাশ করেন, এ উদ্যোগ বালিয়াডাঙ্গীর কৃষিখাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।

কটিয়াদীতে দেওয়াল ধসে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর মৃত্যু

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী পৌর এলাকায় পুরাতন দেওয়াল ধসে আরাবি (১১) নামে এক মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।রবিবার (১০ মে) সকালে ঢাকার শাহবাগ পিজি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।নিহত আরাবি কটিয়াদী পৌর এলাকার পূর্বপাড়া ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আনার মিয়ার ছেলে। সে স্থানীয় নুরুল কুরআন হাফেজিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ছিল।পরিবার সূত্রে জানা যায়, শনিবার সন্ধ্যায় আরাবি তার বন্ধুদের সঙ্গে এলাকার একটি বাসার আমগাছের নিচে দাঁড়িয়ে ছিল। এ সময় তার এক বন্ধু পুরাতন ও নড়বড়ে একটি দেওয়ালে উঠে আম পাড়ার চেষ্টা করলে হঠাৎ দেওয়ালের একটি বড় অংশ ভেঙে পড়ে। এতে নিচে দাঁড়িয়ে থাকা আরাবির শরীরে দেওয়ালের ধ্বংসাবশেষ পড়ে গেলে সে গুরুতর আহত হয়।পরে স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে প্রথমে বাজিতপুর জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার শাহবাগ পিজি হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রবিবার সকালে তার মৃত্যু হয়।বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নিহতের চাচা মালয়েশিয়া প্রবাসী মনিরুজ্জামান মনির। তিনি জানান, “আম পাড়াকে কেন্দ্র করে এমন দুর্ঘটনা ঘটবে কেউ কল্পনাও করতে পারেনি। পরিবারের সবাই শোকে ভেঙে পড়েছে।”আরাবির অকাল মৃত্যুতে এলাকায় গভীর শোকের সৃষ্টি হয়েছে। স্বজন ও স্থানীয়দের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। এলাকাবাসী ঝুঁকিপূর্ণ ও জরাজীর্ণ স্থাপনা দ্রুত অপসারণের দাবি জানিয়েছেন।

ঐতিহাসিক বদর দিবস আজ: ইসলামের প্রথম বিজয় স্মরণে

আজ ১৭ রমজান, ইসলামের ইতিহাসে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিন—ঐতিহাসিক বদর দিবস। দ্বিতীয় হিজরির এই দিনে, ৬২৪ খ্রিস্টাব্দের ১৩ মার্চ, মদিনা মুনাওয়ারা থেকে ৮০ মাইল দক্ষিণে বদর প্রান্তরে সংঘটিত হয়েছিল ইসলামের প্রথম যুদ্ধ বদর যুদ্ধ।বদর যুদ্ধে ৩১৩ জন সাহাবি নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নেতৃত্বে অংশগ্রহণ করেছিলেন। মুসলিমরা তৎকালীন সময়ের আধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত মক্কার কাফের-মুশরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করে বিজয় অর্জন করে। মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার সাহায্যে ফেরেশতাদের মাধ্যমে মুসলিমদের এই বিজয় সম্ভব হয়েছিল।ঐতিহাসিক হিসেবে জানা যায়, মুসলিমদের মধ্যে ১৪ জন সাহাবি শহীদ হন। কাফেরদের মধ্যে ৭০ জন নিহত ও ৭০ জন বন্দি হন। মুসলিমদের এই অভাবনীয় বিজয় ইসলামের বিজয়ের সূচনা হিসেবে ইতিহাসে চিহ্নিত।প্রতি বছর ১৭ রমজান বিশ্বব্যাপী পালিত হয় বদর দিবস হিসেবে, মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য এটি মহান আল্লাহর সাহায্য ও ন্যায়ের প্রতি আস্থা স্মরণ করার দিন।

পলাশবাড়ীতে দুঃস্থ-অসহায় সনাতন ধর্মাবলম্বী পরিবারের মাঝে চাল বিতরণ

গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলায় দুঃস্থ ও অসহায় সনাতন ধর্মাবলম্বী প্রায় ৪ হাজার পরিবারের মাঝে চাল বিতরণ করা হয়েছে। মানবিক সহায়তা কর্মসূচির অংশ হিসেবে হোসেনপুর ইউনিয়নের মধ্যরামচন্দ্র (বৃন্দাবনপাড়া) শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ ও কালী মন্দির প্রাঙ্গণে এ বিতরণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।অনুষ্ঠানে প্রধান উদ্যোক্তা হিসেবে উপস্থিত থেকে চাল বিতরণ করেন মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা এবং চয়েস টু চেঞ্জ অফ হিন্দু ফাউন্ডেশনের পরিচালক শ্রী হরিদাস চন্দ্র তরণী দাস।এ সময় ভক্তবৃন্দের মধ্যে প্রবীর বাবু, নির্মল কুমার মিত্র, সন্তোষ তালুকদার, সজিব রায়সহ ফাউন্ডেশনের সদস্যরা এবং মন্দির সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এলাকার দরিদ্র ও অসহায় পরিবারগুলোর মাঝে ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়েছে। সুবিধাভোগী পরিবারের আর্থিক অবস্থা বিবেচনায় এনে সুশৃঙ্খলভাবে তালিকা অনুযায়ী এই সহায়তা প্রদান করা হয়।চাল বিতরণ অনুষ্ঠানে শ্রী হরিদাস চন্দ্র তরণী দাস বলেন, “আমার জীবনের সবকিছুই মানুষের জন্য। বিশেষ করে দরিদ্র ও অসহায় মানুষ যেন অন্তত খাদ্যের কষ্ট থেকে কিছুটা মুক্তি পায়, সেটাই আমার চেষ্টা। যতদিন বেঁচে থাকব, সামর্থ্য অনুযায়ী মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করব।”তিনি আরও বলেন, তিনি শুধু সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নয়, সকল ধর্মের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে আসছেন এবং ভবিষ্যতেও এই মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখবেন। চাল পেয়ে উপকারভোগী পরিবারগুলো আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তারা জানান, এমন সহায়তা তাদের দৈনন্দিন জীবনযাপনে বড় ধরনের সহায়তা দেবে। একই সঙ্গে এ ধরনের উদ্যোগ সামাজিক সম্প্রীতি ও মানবিক বন্ধন আরও দৃঢ় করবে বলে আশা প্রকাশ করেন স্থানীয়রা।

কোরবানির ঈদ সামনে রেখে ব্যস্ততার তুঙ্গে নীলফামারীর খামারিরা

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে নীলফামারীর খামারগুলোতে এখন চলছে কোরবানির পশু প্রস্তুতির শেষ সময়ের ব্যস্ততা। ঈদের প্রায় এক মাস আগে থেকেই জেলার খামারিরা গরু-ছাগল লালন-পালন, পরিচর্যা ও মোটাতাজাকরণে দিন-রাত পরিশ্রম করছেন। সুস্থ, সবল ও রোগমুক্ত পশু বাজারে সরবরাহ নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য।জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এ বছর নীলফামারীতে বাণিজ্যিক ও পারিবারিক মিলিয়ে মোট ৩৪ হাজার ৮০৩টি খামারে ২ লাখ ৮২ হাজার ৮৫০টি কোরবানিযোগ্য পশু প্রস্তুত রয়েছে। এর মধ্যে ষাঁড় ৫১ হাজার ৮৮১টি, বলদ ৪ হাজার ১৬৪টি, গাভী ২৫ হাজার ৮৬৫টি, মহিষ ৯৪টি, ছাগল ১ লাখ ৮৫ হাজার ৩০৯টি এবং ভেড়া ১৫ হাজার ৫৩২টি। জেলার মোট চাহিদা ২ লাখ ৩২ হাজার ৬৭৬টি হলেও প্রায় ৫০ হাজারের বেশি পশু উদ্বৃত্ত থাকবে, যা দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হবে। সরেজমিনে নীলফামারী সদর উপজেলার বিভিন্ন খামার ঘুরে দেখা যায়, খামারিরা প্রাকৃতিক উপায়ে গরু মোটাতাজাকরণে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন। পশুর খাদ্যতালিকায় রাখা হচ্ছে কাঁচা ঘাস, ভুট্টা, খৈল, সরিষার খৈল, গমের ভুসি, ধানের কুঁড়া ও খড়। নিয়মিত গোসল, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থাও নিশ্চিত করা হচ্ছে।খামারিরা জানান, পশুকে সুস্থ রাখতে নিয়মিত ভ্যাকসিন, ভিটামিন ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এতে স্থানীয় পশুর প্রতি ক্রেতাদের আস্থা বাড়ছে। তবে পশুখাদ্যের মূল্যবৃদ্ধি খামারিদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভুট্টা, খৈলসহ বিভিন্ন খাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ বেড়েছে। তবুও ভালো দামের আশায় শেষ মুহূর্তের পরিচর্যায় কোনো কমতি রাখছেন না তারা।নীলফামারী সদরের রামনগর চাঁদেরহাট এলাকার খামারি গোলাম রব্বানি বলেন, “এ বছর ৩২টি গরু পালন করেছি। ব্যবসায়ীরা ইতোমধ্যে খামারে এসে দরদাম করছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ভালো দাম পাবো বলে আশা করছি।”জেলার বিভিন্ন এলাকায় ইতোমধ্যে পশু ব্যবসায়ী ও ব্যাপারীরা খামারে গিয়ে গরু দেখে দরদাম শুরু করেছেন। অনেক খামারি খামার থেকেই পশু বিক্রি করছেন। পাশাপাশি অনলাইন প্ল্যাটফর্মেও বিক্রির প্রবণতা বাড়ছে। তবে কোরবানির হাট পুরোপুরি জমে উঠতে আরও কিছুদিন সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।খামারিদের একাংশ ভারতীয় গরুর সম্ভাব্য আমদানি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, ভারতীয় গরু বাজারে এলে দেশীয় গরুর দাম কমে যেতে পারে। তবে আমদানি নিয়ন্ত্রণে থাকলে দেশীয় খামারিরাই বেশি লাভবান হবেন বলে তারা মনে করেন।নীলফামারী সদরের পুলিশ লাইন্স এলাকার ‘আম্মার লাইভস্টক অ্যান্ড এগ্রো’-এর স্বত্বাধিকারী মো. সাইফুল আযম সৈকত বলেন, “দেশি গরুর চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। ভারতীয় গরু না এলে আমাদের খামারিরা ভালো লাভ করতে পারবেন।”অন্যদিকে ইটাখোলা বনানী আবাসিক এলাকার ‘মোহনা এগ্রো ফার্ম’-এর স্বত্বাধিকারী নুরুজ্জামান সুমন জানান, এবছর তার খামারে ৫০টি দেশি ষাঁড় প্রস্তুত রয়েছে এবং ইতোমধ্যে অনেক ক্রেতা আগাম বুকিং দিয়েছেন। তিনি বলেন, “খরচ বেড়েছে, কিন্তু প্রাকৃতিক উপায়ে গরু মোটাতাজা করায় ক্রেতাদের আগ্রহ বেশি।”এদিকে কেমিক্যাল বা হরমোন ব্যবহার করে গরু মোটাতাজাকরণ ঠেকাতে প্রাণিসম্পদ বিভাগ নিয়মিত তদারকি করছে। খামারিদের প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে পশু লালন-পালনের জন্য প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।নীলফামারী জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ভেটেরিনারি সার্জন ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, “খামারিদের দানাদার খাদ্য, কাঁচা ঘাস ও ভিটামিন ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। কোনো ধরনের নিষিদ্ধ রাসায়নিক ব্যবহার না করতে কঠোর নির্দেশনা রয়েছে।”জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. রাশেদুল ইসলাম জানান, “এ বছর জেলার চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত পশু প্রস্তুত রয়েছে। কোরবানির হাটে নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা ও নির্বিঘ্ন বেচাকেনা নিশ্চিত করতে প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে। পশু অসুস্থ হলে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দেওয়ার ব্যবস্থাও থাকবে।”সব মিলিয়ে, কোরবানির ঈদ সামনে রেখে নীলফামারীর খামারগুলোতে এখন ব্যস্ততা চরমে। প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে লালিত দেশীয় পশুর সরবরাহ ও চাহিদা ইতিবাচক অবস্থানে থাকলেও খরচ বৃদ্ধি ও বাজার পরিস্থিতি নিয়ে কিছুটা শঙ্কা রয়েছে। তবুও ভালো দামের প্রত্যাশায় আশাবাদী খামারিরা।

রোয়াংছড়িতে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় 'বুদ্ধ পূর্ণিমা' উদযাপিত

পার্বত্য জেলা বান্দরবানের রোয়াংছড়িতে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব 'বুদ্ধ পূর্ণিমা' এ বছরও গভীর শ্রদ্ধা, ভক্তি ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হচ্ছে।ত্রি-স্মৃতি বিজড়িত এই পবিত্র দিনে গৌতম বুদ্ধের জন্ম, বুদ্ধত্ব লাভ এবং মহাপরিনির্বাণকে স্মরণ করে দিনব্যাপী নানা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালিত হচ্ছে, যা পুরো উপজেলাজুড়ে সৃষ্টি করেছে এক অনন্য আধ্যাত্মিক আবহ।বৃহস্পতিবার ভোর থেকেই রোয়াংছড়ির কেন্দ্রীয় জেতবন বৌদ্ধ বিহারসহ উপজেলার ছোট-বড় সব বিহার প্রাঙ্গণে পুণ্যার্থীদের উপস্থিতিতে প্রাণচাঞ্চল্য দেখা যায়। ভক্তরা পরিচ্ছন্ন পোশাকে বিহারে এসে ধর্মীয় নিয়ম-কানুন মেনে পূজা-অর্চনায় অংশ নেন। সকাল সাড়ে ৯টায় কেন্দ্রীয় জেতবন বৌদ্ধ বিহার থেকে এক বিশাল বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়, যা ছিল দিনের অন্যতম আকর্ষণ। রঙিন ব্যানার, ফুলে সজ্জিত প্রতীকী উপকরণ এবং ঐতিহ্যবাহী পোশাকে সজ্জিত নারী-পুরুষ ও শিশুদের অংশগ্রহণে শোভাযাত্রাটি হয়ে ওঠে দৃষ্টিনন্দন।জেতবন বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ ভদন্ত পঞ্ঞনাইদা মহাথেরের নেতৃত্বে আয়োজিত এই শোভাযাত্রায় বিভিন্ন বিহারের ভিক্ষু সংঘ, দায়ক-দায়িকা এবং শত শত বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী অংশ নেন। শোভাযাত্রাটি উপজেলার প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে বটতলি এলাকায় গিয়ে প্রথম পর্বের সমাপ্তি ঘটে। পথিমধ্যে স্থানীয় বাসিন্দারাও এই শোভাযাত্রা উপভোগ করেন এবং অনেকেই এতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।দিনের শুরুতেই ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার অংশ হিসেবে ছোয়াইন পূজা (অন্নদান) অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ভিক্ষুদের মাঝে আহার দান করা হয়। এরপর বোধিবৃক্ষের মূলে চন্দন জল ঢেলে পূজা অর্চনা, প্রদীপ প্রজ্বলন এবং পবিত্র পটঠান সূত্র পাঠ করা হয়। এসব আচার-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ভক্তরা বুদ্ধের শান্তি, অহিংসা ও মৈত্রীর বাণী হৃদয়ে ধারণ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত চলতে থাকে সমবেত প্রার্থনা, যেখানে আবালবৃদ্ধবনিতা অংশ নিয়ে দেশ, জাতি ও সমগ্র বিশ্বের কল্যাণ কামনা করেন।বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্ব। এ পর্বে হাজারো দায়ক-দায়িকা বিভিন্ন পাত্রে চন্দন জল, ফুল এবং মঙ্গল বৃক্ষের পাতা (বিশেষত জামপাতা) নিয়ে বৃক্ষ পূজায় অংশ নেবেন। পাশাপাশি আয়োজিত হবে ধর্মীয় আলোচনা সভা, যেখানে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা পঞ্চশীল, অষ্টশীল ও নবমশীল গ্রহণের মাধ্যমে নিজেদের আত্মশুদ্ধির পাশাপাশি দেশ ও মানবজাতির মঙ্গল কামনায় প্রার্থনা করবেন।কেন্দ্রীয় জেতবন বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ ভদন্ত পঞ্ঞনাইদা মহাথেরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ধর্মীয় সভায় প্রাজ্ঞ ভিক্ষু সংঘ বুদ্ধের জীবনাদর্শ, মানবকল্যাণ, সহনশীলতা এবং অহিংস দর্শন নিয়ে দেশনা প্রদান করবেন। এতে অংশগ্রহণকারীরা নৈতিকতা, সংযম ও মানবিক মূল্যবোধের গুরুত্ব সম্পর্কে দিকনির্দেশনা লাভ করবেন।রোয়াংছড়ি সদর ছাড়াও উপজেলার প্রত্যন্ত পাহাড়ি অঞ্চলের ছোট-বড় সব বৌদ্ধ বিহারেও একইভাবে বুদ্ধ পূর্ণিমা উদযাপিত হচ্ছে। প্রতিটি এলাকায় উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে, তবে তার সঙ্গে রয়েছে গভীর ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য। শান্তি, সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের বার্তা ছড়িয়ে দিতে এই পবিত্র তিথিটি পালন করছেন বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা। সব মিলিয়ে, 'বুদ্ধ পূর্ণিমা' শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি মানবতা, শান্তি ও সৌহার্দ্যের এক অনন্য বার্তা বহন করে- যা আজকের বিশ্বে আরও বেশি প্রাসঙ্গিক। 

ওসমানীনগরে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে 'চড়ক পূজা' সম্পন্ন হয়েছে

সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার গোয়ালাবাজার ইউনিয়নের পুরকায়স্থ পাড়া গ্রামে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী 'চড়ক পূজা'। টানা ৩২ বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে এই পূজা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে, যা এলাকাবাসীর কাছে এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও সামাজিক ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রন মালাকার (আদল সন্ন্যাসী)-এর উদ্যোগ ও পরিচালনায় এবং গ্রামবাসীর সার্বিক সহযোগিতায় প্রতিবছরের মতো এবারও পূজার আয়োজন সম্পন্ন হয়। দুই দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানের শুরু হয় নীল ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে। সোমবার (২০ এপ্রিল) প্রথমে নীল ষষ্ঠী পূজা অনুষ্ঠিত হয় এবং মধ্যরাতে মহাকালের ভোগের মাধ্যমে চড়ক পূজার আনুষ্ঠানিক সূচনা করা হয়। এরপর কালীকাচ ও মহাযজ্ঞ সম্পন্ন হয়।পরদিন মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকালে মহাদেবের প্রতীক হিসেবে চড়ক গাছ স্থাপন করা হয়। এরপর ধারাবাহিকভাবে হরগৌরী পূজা, চড়ক গাছের তলায় মহাদেবের আরাধনা, অগ্নিহোত্র যজ্ঞসহ নানা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। দিনভর চলে শিব-গৌরী নৃত্য, কালী নৃত্য এবং বিভিন্ন ধর্মীয় আচার, যা ভক্তদের মধ্যে গভীর আধ্যাত্মিক আবহ তৈরি করে।অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে চড়ক গাছে ভক্তদের অংশগ্রহণে বিশেষ আচার পালন করা হয়, যা এই পূজার ঐতিহ্যবাহী রীতির অংশ। এতে অংশ নিতে দূর-দূরান্ত থেকে হাজারো ভক্ত ও দর্শনার্থীর সমাগম ঘটে। পুরো এলাকা জুড়ে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ, যেখানে ধর্মীয় আবেগ ও ঐতিহ্যের মেলবন্ধন দেখা যায়।অনুষ্ঠানের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন মতিলাল বাদ্যকর ও তার দল। দীর্ঘদিন ধরে একই ধারাবাহিকতায় এই পূজা পরিচালনা করে আসছেন রন মালাকার (আদল সন্ন্যাসী), যার উদ্যোগকে কেন্দ্র করেই এ ঐতিহ্য টিকে আছে বলে জানান স্থানীয়রা।এ সময় বক্তব্য রাখেন সিহট্ট পুরোহিত মণ্ডলী সংঘের সভাপতি রক্ষাবিজয় ভট্টাচার্য, রিপন ভৌমিক, সমর দেব, কৃষ্ণ গিরি, সাংবাদিক সুবল চন্দ্র দাস, অনিক দেবসহ অনেকে। বক্তারা বলেন, ৩২ বছরের ধারাবাহিক এই পূজা শুধু ধর্মীয় আচার নয়, বরং এটি এলাকার ঐতিহ্য ও সম্প্রীতির প্রতীক হয়ে উঠেছে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত সন্ন্যাসীদের মধ্যে ছিলেন কানু কর, সজল বাদ্যকর, সজল কর, নিলয় কর, আশিষ বাদ্যকর, সাধন কর, চয়ন কর, বিধিন করসহ আরও অনেকে। স্থানীয়দের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো আয়োজনটি ধর্মীয় সম্প্রীতি, ঐতিহ্য ও সামাজিক ঐক্যের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে পরিণত হয়।