দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার ঐতিহ্যবাহী রানীগঞ্জ হাটের মাজার মোড় থেকে শালিকাদহ পর্যন্ত দীর্ঘ ১৬ কিলোমিটার পাকা সড়ক এখন জনদুর্ভোগের অন্য নাম। রাস্তার কার্পেটিং উঠে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত। কোথাও কোথাও সড়কটি এতটাই দেবে গেছে যে, যানবাহন তো দূরে থাক, পথচারীদের হেঁটে চলাচল করাই দায় হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় এই সড়কটি এখন ওই অঞ্চলের মানুষের জন্য মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার সিংড়া কলাবাড়ি মাজার মোড় হতে কুলানন্দপুর ও কলাবাড়ি বলগাড়ি হয়ে শালিকাদহ পর্যন্ত ১৬ কিলোমিটার রাস্তার বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিংয়ের কোনো চিহ্ন নেই। ইটের খোয়া উঠে গিয়ে গর্তগুলো এখন কর্দমাক্ত ডোবায় পরিণত হয়েছে। এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন ঘোড়াঘাট উপজেলার বুলাকিপুর ইউনিয়ন ও রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার প্রায় ৩০টি গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ যাতায়াত করেন।
সবজি চাষের জন্য বিখ্যাত বুলাকিপুর ইউনিয়নের কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ধান, মরিচ, পাট ও আলু উত্তরাঞ্চলের সবচেয়ে বড় হাট রানীগঞ্জে নিয়ে যেতে পারছেন না। ভাঙা রাস্তার কারণে পণ্য পরিবহনে খরচ ও সময়- দুই-ই বেড়ে গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, মুমূর্ষু রোগীদের নিয়ে অ্যাম্বুলেন্স গর্তে আটকা পড়ে অনেক সময় জীবনঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা সময়মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পৌঁছাতে পারছে না।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রায় চার বছর আগে মাত্র ৪ কিলোমিটার রাস্তা সংস্কার করা হলেও অতিবৃষ্টি এবং ভারী যানবাহন ও পাওয়ার টিলারের অনিয়ন্ত্রিত চলাচলে পুরো ১৬ কিলোমিটার রাস্তাই এখন চলাচলের অযোগ্য। স্থানীয় এক ভ্যান চালক বলেন, "রাস্তার যে অবস্থা, প্রতিদিন গাড়ি ঠিক করতে গ্যারেজে যেতে হয়। একবার এই রাস্তা দিয়ে গেলে সারা শরীরে ব্যথা হয়ে যায়।"
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঘোড়াঘাট উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ সিরাজুল ইসলাম জানান, সড়কটির বেহাল অবস্থার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, “সড়কটির উন্নয়নের জন্য ইতোমধ্যে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ ও অনুমোদন পেলে দ্রুতই সংস্কার কাজ শুরু করা হবে।”
এলাকাবাসীর দাবি, শুধু জোড়াতালি নয়, বরং টেকসই সংস্কার ও সড়কের দুই পাশ প্রশস্ত করে দ্রুত জনসাধারণের চলাচলের উপযোগী করা হোক।

রোববার, ১০ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ মে ২০২৬
দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার ঐতিহ্যবাহী রানীগঞ্জ হাটের মাজার মোড় থেকে শালিকাদহ পর্যন্ত দীর্ঘ ১৬ কিলোমিটার পাকা সড়ক এখন জনদুর্ভোগের অন্য নাম। রাস্তার কার্পেটিং উঠে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত। কোথাও কোথাও সড়কটি এতটাই দেবে গেছে যে, যানবাহন তো দূরে থাক, পথচারীদের হেঁটে চলাচল করাই দায় হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় এই সড়কটি এখন ওই অঞ্চলের মানুষের জন্য মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার সিংড়া কলাবাড়ি মাজার মোড় হতে কুলানন্দপুর ও কলাবাড়ি বলগাড়ি হয়ে শালিকাদহ পর্যন্ত ১৬ কিলোমিটার রাস্তার বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিংয়ের কোনো চিহ্ন নেই। ইটের খোয়া উঠে গিয়ে গর্তগুলো এখন কর্দমাক্ত ডোবায় পরিণত হয়েছে। এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন ঘোড়াঘাট উপজেলার বুলাকিপুর ইউনিয়ন ও রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার প্রায় ৩০টি গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ যাতায়াত করেন।
সবজি চাষের জন্য বিখ্যাত বুলাকিপুর ইউনিয়নের কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ধান, মরিচ, পাট ও আলু উত্তরাঞ্চলের সবচেয়ে বড় হাট রানীগঞ্জে নিয়ে যেতে পারছেন না। ভাঙা রাস্তার কারণে পণ্য পরিবহনে খরচ ও সময়- দুই-ই বেড়ে গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, মুমূর্ষু রোগীদের নিয়ে অ্যাম্বুলেন্স গর্তে আটকা পড়ে অনেক সময় জীবনঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা সময়মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পৌঁছাতে পারছে না।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রায় চার বছর আগে মাত্র ৪ কিলোমিটার রাস্তা সংস্কার করা হলেও অতিবৃষ্টি এবং ভারী যানবাহন ও পাওয়ার টিলারের অনিয়ন্ত্রিত চলাচলে পুরো ১৬ কিলোমিটার রাস্তাই এখন চলাচলের অযোগ্য। স্থানীয় এক ভ্যান চালক বলেন, "রাস্তার যে অবস্থা, প্রতিদিন গাড়ি ঠিক করতে গ্যারেজে যেতে হয়। একবার এই রাস্তা দিয়ে গেলে সারা শরীরে ব্যথা হয়ে যায়।"
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঘোড়াঘাট উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ সিরাজুল ইসলাম জানান, সড়কটির বেহাল অবস্থার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, “সড়কটির উন্নয়নের জন্য ইতোমধ্যে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ ও অনুমোদন পেলে দ্রুতই সংস্কার কাজ শুরু করা হবে।”
এলাকাবাসীর দাবি, শুধু জোড়াতালি নয়, বরং টেকসই সংস্কার ও সড়কের দুই পাশ প্রশস্ত করে দ্রুত জনসাধারণের চলাচলের উপযোগী করা হোক।

আপনার মতামত লিখুন