ঢাকা    রোববার, ১০ মে ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

বিশ্ব লুপাস দিবস: কিডনি জটিলতার বড় ঝুঁকি লুপাস নেফ্রাইটিস


নিজস্ব প্রতিনিধি
নিজস্ব প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১০ মে ২০২৬

বিশ্ব লুপাস দিবস: কিডনি জটিলতার বড় ঝুঁকি লুপাস নেফ্রাইটিস
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বজুড়ে কিডনি বিকল হওয়ার অন্যতম কারণ লুপাস বা এসএলই। লুপাসে আক্রান্ত রোগীদের ৫০ শতাংশ জীবনে কখনো না কখনো কিডনিজনিত জটিলতায় আক্রান্ত হন। তাঁদের মধ্যে ৩০ শতাংশের কিডনি বিকল হয়ে ডায়ালাইসিস পর্যন্ত যেতে হয়। লুপাস থেকে যখন কিডনিতে প্রদাহ হয়, তখন একে লুপাস নেফ্রাইটিস বলে। আজ ১০ মে বিশ্ব লুপাস দিবস।

লুপাস একধরনের অটোইমিউন রোগ, অর্থাৎ এতে শরীরের রোগ প্রতিরোধী কোষগুলো নিজেরই শরীরের বিভিন্ন কোষ ও কলাকে ভুলে আক্রমণ করে বসে এবং ক্ষতি করতে থাকে। মাথার চুল থেকে পায়ের পাতা অবধি যেকোনো কোষ বা কলা এর দ্বারা আক্রান্ত হতে পারে। এ রোগে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয় অল্পবয়সী মেয়েরা। তবে যেকোনো বয়সী মানুষ আর ছেলেদেরও এ রোগ হতে পারে।               

লুপাসের রোগীদের কিডনি আক্রান্ত হওয়ার শুরুতে তেমন লক্ষণ না–ও থাকতে পারে। এটি তাঁদের নিয়মিত পরীক্ষায় ধরা পড়ে। লুপাসে আক্রান্ত ব্যক্তির প্রস্রাবে ফেনা যাওয়া, প্রস্রাবের রং পরিবর্তন, মুখ–চোখ ফুলে যাওয়া, প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া, অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ ইত্যাদি দেখা দিলে দ্রুত কিডনির পরীক্ষা করতে হবে।                                                                                                               সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রস্রাব পরীক্ষা। প্রস্রাবের রুটিন পরীক্ষায় প্রস্রাবে আমিষ, রক্তকণিকা, কাস্ট ইত্যাদি পাওয়া যায়। প্রস্রাবে নির্গত মোট আমিষের পরিমাপ করতে হয়। কিডনির কার্যকারিতা বুঝতে সাহায্য করে ক্রিয়েটিনিন বা জিএফআর। কিডনির কার্যকারিতা সাময়িক বা দীর্ঘ মেয়াদে কমে যেতে পারে, সে অনুযায়ী ক্রিয়েটিনিন বৃদ্ধি পায়। এ ছাড়া সি ফোর, সি থ্রি বা অ্যান্টিডিএস ডিএনএ টেস্টগুলো সহায়ক ভূমিকা পালন করে। লুপাস নেফ্রাইটিসের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হলো কিডনির টিস্যু বায়োপসি। এর রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে লুপাস নেফ্রাইটিসকে ১ থেকে ৬ পর্যন্ত ধাপে ভাগ করা হয়। প্রতিটি ধাপের জন্য চিকিৎসার পৃথক নির্দেশনা আছে।

বিগত বছরগুলোয় লুপাস নেফ্রাইটিসের চিকিৎসায় যুগান্তকারী পরিবর্তন এসেছে। এর চিকিৎসায় মূলত উচ্চমাত্রার স্টেরয়েড ও ইমিউনোসাপ্রেসিভ ওষুধ ব্যবহার করা হয়।                                                                                                   লুপাস নেফ্রাইটিসের ক্ষেত্রে কোনো চিকিৎসা শতভাগ কার্যকর নয়। ওষুধ শুরু করার পর ধাপে ধাপে স্টেরয়েডের মাত্রা কমাতে হবে, অন্যান্য ওষুধের মাত্রা সমন্বয় করতে হবে। তা ছাড়া এসব ওষুধের নানা রকম পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে। সে জন্য নিয়মিত ফলো–আপ প্রয়োজন।                                                                               অধ্যাপক ডা. রওশন আরা, মেডিসিন ও বাতরোগ বিশেষজ্ঞ, গ্রিন লাইফ মেডিকেল কলেজ

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

রোববার, ১০ মে ২০২৬


বিশ্ব লুপাস দিবস: কিডনি জটিলতার বড় ঝুঁকি লুপাস নেফ্রাইটিস

প্রকাশের তারিখ : ১০ মে ২০২৬

featured Image

বিশ্বজুড়ে কিডনি বিকল হওয়ার অন্যতম কারণ লুপাস বা এসএলই। লুপাসে আক্রান্ত রোগীদের ৫০ শতাংশ জীবনে কখনো না কখনো কিডনিজনিত জটিলতায় আক্রান্ত হন। তাঁদের মধ্যে ৩০ শতাংশের কিডনি বিকল হয়ে ডায়ালাইসিস পর্যন্ত যেতে হয়। লুপাস থেকে যখন কিডনিতে প্রদাহ হয়, তখন একে লুপাস নেফ্রাইটিস বলে। আজ ১০ মে বিশ্ব লুপাস দিবস।


লুপাস একধরনের অটোইমিউন রোগ, অর্থাৎ এতে শরীরের রোগ প্রতিরোধী কোষগুলো নিজেরই শরীরের বিভিন্ন কোষ ও কলাকে ভুলে আক্রমণ করে বসে এবং ক্ষতি করতে থাকে। মাথার চুল থেকে পায়ের পাতা অবধি যেকোনো কোষ বা কলা এর দ্বারা আক্রান্ত হতে পারে। এ রোগে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয় অল্পবয়সী মেয়েরা। তবে যেকোনো বয়সী মানুষ আর ছেলেদেরও এ রোগ হতে পারে।               

লুপাসের রোগীদের কিডনি আক্রান্ত হওয়ার শুরুতে তেমন লক্ষণ না–ও থাকতে পারে। এটি তাঁদের নিয়মিত পরীক্ষায় ধরা পড়ে। লুপাসে আক্রান্ত ব্যক্তির প্রস্রাবে ফেনা যাওয়া, প্রস্রাবের রং পরিবর্তন, মুখ–চোখ ফুলে যাওয়া, প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া, অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ ইত্যাদি দেখা দিলে দ্রুত কিডনির পরীক্ষা করতে হবে।                                                                                                               সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রস্রাব পরীক্ষা। প্রস্রাবের রুটিন পরীক্ষায় প্রস্রাবে আমিষ, রক্তকণিকা, কাস্ট ইত্যাদি পাওয়া যায়। প্রস্রাবে নির্গত মোট আমিষের পরিমাপ করতে হয়। কিডনির কার্যকারিতা বুঝতে সাহায্য করে ক্রিয়েটিনিন বা জিএফআর। কিডনির কার্যকারিতা সাময়িক বা দীর্ঘ মেয়াদে কমে যেতে পারে, সে অনুযায়ী ক্রিয়েটিনিন বৃদ্ধি পায়। এ ছাড়া সি ফোর, সি থ্রি বা অ্যান্টিডিএস ডিএনএ টেস্টগুলো সহায়ক ভূমিকা পালন করে। লুপাস নেফ্রাইটিসের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হলো কিডনির টিস্যু বায়োপসি। এর রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে লুপাস নেফ্রাইটিসকে ১ থেকে ৬ পর্যন্ত ধাপে ভাগ করা হয়। প্রতিটি ধাপের জন্য চিকিৎসার পৃথক নির্দেশনা আছে।


বিগত বছরগুলোয় লুপাস নেফ্রাইটিসের চিকিৎসায় যুগান্তকারী পরিবর্তন এসেছে। এর চিকিৎসায় মূলত উচ্চমাত্রার স্টেরয়েড ও ইমিউনোসাপ্রেসিভ ওষুধ ব্যবহার করা হয়।                                                                                                   লুপাস নেফ্রাইটিসের ক্ষেত্রে কোনো চিকিৎসা শতভাগ কার্যকর নয়। ওষুধ শুরু করার পর ধাপে ধাপে স্টেরয়েডের মাত্রা কমাতে হবে, অন্যান্য ওষুধের মাত্রা সমন্বয় করতে হবে। তা ছাড়া এসব ওষুধের নানা রকম পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে। সে জন্য নিয়মিত ফলো–আপ প্রয়োজন।                                                                               অধ্যাপক ডা. রওশন আরা, মেডিসিন ও বাতরোগ বিশেষজ্ঞ, গ্রিন লাইফ মেডিকেল কলেজ



দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ