দীর্ঘ রাজনৈতিক দূরত্ব ও ঐতিহাসিক টানাপোড়েনের পর নিরাপত্তা সহযোগিতায় নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান। সম্প্রতি ঢাকায় স্বাক্ষরিত এক সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে দুই দেশ গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, যৌথ তদন্ত এবং নিরাপত্তা সমন্বয়ের আনুষ্ঠানিক কাঠামো তৈরি করেছে।
শ্রীলঙ্কাভিত্তিক সংবাদমাধ্যম শ্রীলঙ্কা গার্ডিয়ান–এর এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর এই প্রথম বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে প্রকাশ্য নিরাপত্তা সহযোগিতার এমন কাঠামো গড়ে উঠল।
গত ৮ মে ঢাকায় চুক্তিতে সই করেন বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ এবং পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Syed Mohsin Raza Naqvi। আনুষ্ঠানিকভাবে এটি মাদক ও মানবপাচারবিরোধী সহযোগিতা চুক্তি হিসেবে উপস্থাপন করা হলেও বিশ্লেষকদের মতে এর পরিধি আরও বিস্তৃত।
চুক্তির আওতায় দুই দেশের নিরাপত্তা সংস্থার মধ্যে নিয়মিত গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, যৌথ তদন্ত কার্যক্রম এবং নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি আন্তঃসীমান্ত মাদক পাচার, চোরাচালান এবং সংঘবদ্ধ অপরাধ মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগের বিষয়ও রয়েছে।
এতে ‘কন্ট্রোলড ডেলিভারি অপারেশন’ পদ্ধতি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অবৈধ চালান নজরদারি ও অনুসরণ করা হয়। এছাড়া বাংলাদেশের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এবং পাকিস্তানের অ্যান্টি-নারকোটিক্স ফোর্সের মধ্যে প্রযুক্তিগত সহযোগিতা ও প্রশিক্ষণ বিনিময়ের সুযোগ রাখা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার পর দুই দেশের মধ্যে এ ধরনের কাঠামোবদ্ধ নিরাপত্তা সহযোগিতা বিরল ঘটনা। দীর্ঘদিনের সীমিত যোগাযোগ ও রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এটি সম্পর্কের নতুন বাস্তবতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
তারা মনে করছেন, দক্ষিণ এশিয়ায় পরিবর্তিত ভূরাজনীতি, ভারতীয় নিরাপত্তা উদ্বেগ, চীনের বাড়তি প্রভাব এবং আঞ্চলিক অপরাধ নেটওয়ার্ক মোকাবিলার প্রয়োজনীয়তা—সব মিলিয়ে এই চুক্তি ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত কৌশলগত অংশীদারিত্বের ভিত্তি হতে পারে।
তবে আপাতত দুই দেশই এটিকে কারিগরি ও সীমিত সহযোগিতা হিসেবে তুলে ধরছে। এখন নজর থাকবে, এই সমঝোতা বাস্তবে কতটা কার্যকর হয় এবং ভবিষ্যতে এর পরিধি কতটা বিস্তৃত হয়।

রোববার, ১০ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ মে ২০২৬
দীর্ঘ রাজনৈতিক দূরত্ব ও ঐতিহাসিক টানাপোড়েনের পর নিরাপত্তা সহযোগিতায় নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান। সম্প্রতি ঢাকায় স্বাক্ষরিত এক সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে দুই দেশ গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, যৌথ তদন্ত এবং নিরাপত্তা সমন্বয়ের আনুষ্ঠানিক কাঠামো তৈরি করেছে।
শ্রীলঙ্কাভিত্তিক সংবাদমাধ্যম শ্রীলঙ্কা গার্ডিয়ান–এর এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর এই প্রথম বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে প্রকাশ্য নিরাপত্তা সহযোগিতার এমন কাঠামো গড়ে উঠল।
গত ৮ মে ঢাকায় চুক্তিতে সই করেন বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ এবং পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Syed Mohsin Raza Naqvi। আনুষ্ঠানিকভাবে এটি মাদক ও মানবপাচারবিরোধী সহযোগিতা চুক্তি হিসেবে উপস্থাপন করা হলেও বিশ্লেষকদের মতে এর পরিধি আরও বিস্তৃত।
চুক্তির আওতায় দুই দেশের নিরাপত্তা সংস্থার মধ্যে নিয়মিত গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, যৌথ তদন্ত কার্যক্রম এবং নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি আন্তঃসীমান্ত মাদক পাচার, চোরাচালান এবং সংঘবদ্ধ অপরাধ মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগের বিষয়ও রয়েছে।
এতে ‘কন্ট্রোলড ডেলিভারি অপারেশন’ পদ্ধতি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অবৈধ চালান নজরদারি ও অনুসরণ করা হয়। এছাড়া বাংলাদেশের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এবং পাকিস্তানের অ্যান্টি-নারকোটিক্স ফোর্সের মধ্যে প্রযুক্তিগত সহযোগিতা ও প্রশিক্ষণ বিনিময়ের সুযোগ রাখা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার পর দুই দেশের মধ্যে এ ধরনের কাঠামোবদ্ধ নিরাপত্তা সহযোগিতা বিরল ঘটনা। দীর্ঘদিনের সীমিত যোগাযোগ ও রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এটি সম্পর্কের নতুন বাস্তবতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
তারা মনে করছেন, দক্ষিণ এশিয়ায় পরিবর্তিত ভূরাজনীতি, ভারতীয় নিরাপত্তা উদ্বেগ, চীনের বাড়তি প্রভাব এবং আঞ্চলিক অপরাধ নেটওয়ার্ক মোকাবিলার প্রয়োজনীয়তা—সব মিলিয়ে এই চুক্তি ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত কৌশলগত অংশীদারিত্বের ভিত্তি হতে পারে।
তবে আপাতত দুই দেশই এটিকে কারিগরি ও সীমিত সহযোগিতা হিসেবে তুলে ধরছে। এখন নজর থাকবে, এই সমঝোতা বাস্তবে কতটা কার্যকর হয় এবং ভবিষ্যতে এর পরিধি কতটা বিস্তৃত হয়।

আপনার মতামত লিখুন