সাধারণত রক্তে হিমোগ্লোবিন কমে যাওয়া বা রক্তশূন্যতা নিয়ে মানুষের মধ্যে সচেতনতা থাকলেও এর আধিক্য যে কতটা ভয়াবহ হতে পারে তা অনেকেরই অজানা। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়ে যাওয়াকে পলিসাইথেমিয়া বলা হয়। রক্তে হিমোগ্লোবিন বেড়ে গেলে রক্ত অতিরিক্ত ঘন ও আঠালো হয়ে যায় যা শরীরের স্বাভাবিক রক্ত সঞ্চালনকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করে। যখন রক্তনালীর ভেতর দিয়ে রক্ত সহজে প্রবাহিত হতে পারে না তখন শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গে অক্সিজেন সরবরাহে ঘাটতি দেখা দেয়।বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে উচ্চ হিমোগ্লোবিনের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো রক্ত জমাট বাঁধা বা ব্লাড ক্লট। এই জমাটবদ্ধ রক্ত মস্তিষ্কে রক্ত চলাচলে বাধা দিলে স্ট্রোক এবং হার্টে বাধা দিলে হার্ট অ্যাটাকের মতো প্রাণঘাতী পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। সাধারণত দীর্ঘমেয়াদী ধূমপান, অতিরিক্ত উচ্চতায় বসবাস, পানিশূন্যতা কিংবা ফুসফুসের জটিল রোগের কারণে শরীর অতিরিক্ত হিমোগ্লোবিন তৈরি করতে শুরু করে। এছাড়াও হাড়ের মজ্জার বিশেষ কিছু রোগের কারণেও লোহিত রক্তকণিকা অস্বাভাবিক হারে বাড়তে পারে। যাদের হিমোগ্লোবিন বেশি তাদের ক্ষেত্রে প্রায়ই তীব্র মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা, ঝাপসা দৃষ্টি এবং ত্বক অস্বাভাবিক লালচে হয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা যায়।এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে চিকিৎসকরা প্রচুর পরিমাণে পানি পান করার পরামর্শ দিয়েছেন যাতে রক্ত পাতলা থাকে। পাশাপাশি ধূমপান ত্যাগ করা এবং নিয়মিত শরীরচর্চা করা হিমোগ্লোবিন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। অনেক ক্ষেত্রে পরিস্থিতি জটিল হলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শে শরীর থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ রক্ত বের করে দেওয়ার বা থেরাপিউটিক ফ্লেবোটমির প্রয়োজন পড়ে। তাই হিমোগ্লোবিন বেশি হলে তাকে সুস্বাস্থ্যের লক্ষণ ভেবে অবহেলা না করে দ্রুত রক্তরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। সাধারণত পুরুষের ক্ষেত্রে ১৭.৫ এবং নারীর ক্ষেত্রে ১৫.৫ গ্রাম/ডেসিলিটারের বেশি হিমোগ্লোবিন থাকলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া আবশ্যক।