হান্টাভাইরাসে আক্রান্ত একটি প্রমোদতরী থেকে যাত্রীদের সরিয়ে নিতে স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে ব্যাপক উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছে। তেনেরিফের কাছে নোঙর করা ‘এমএস হন্ডিয়াস’ নামের ওই জাহাজে থাকা যাত্রী ও ক্রুদের ধাপে ধাপে উপকূলে নামিয়ে নিজ নিজ দেশে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
স্পেনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী মনিকা গার্সিয়া জানিয়েছেন, উদ্ধার কার্যক্রম “স্বাভাবিকভাবে এগোচ্ছে” এবং এখন পর্যন্ত জাহাজের কোনো যাত্রীর শরীরে নতুন করে উপসর্গ দেখা যায়নি।
রোববার ভোরে জাহাজটি গ্রানাদিয়া বন্দরের কাছে পৌঁছালে এটিকে সরাসরি তীরে ভেড়ানোর অনুমতি দেওয়া হয়নি। বরং জাহাজটির চারপাশে এক নটিক্যাল মাইলজুড়ে নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়। পরে মেডিকেল টিম জাহাজে উঠে যাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা শুরু করে।
উদ্ধার অভিযানের বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা যায়, যাত্রীরা সাদা মেডিকেল মাস্ক পরে জাহাজের ডেকে অবস্থান করছেন। উপকূলে পৌঁছানোর পর স্বাস্থ্যকর্মীরা হ্যাজম্যাট স্যুট পরে যাত্রীদের গ্রহণ করেন। অনেককে বিমানে ওঠার আগে জীবাণুনাশক পানি ছিটিয়ে জীবাণুমুক্ত করা হয়।
স্পেনীয় নাগরিকদের প্রথমে নামানো হচ্ছে। এরপর ডাচ, গ্রিক, জার্মান ও অন্যান্য দেশের যাত্রীদের আলাদা ফ্লাইটে নিজ নিজ দেশে পাঠানো হবে। সর্বশেষ ফ্লাইটটি অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশে সোমবার ছেড়ে যাওয়ার কথা রয়েছে।
জাহাজটিতে প্রথম এক যাত্রীর মৃত্যুর এক মাস পর এই উদ্ধার অভিযান শুরু হলো। এখন পর্যন্ত তিনজন যাত্রীর মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, আর্জেন্টিনার দক্ষিণাঞ্চলের একটি এলাকায় ইঁদুরের মাধ্যমে ভাইরাসটি ছড়ায়। আন্দিজ স্ট্রেইনের এই হান্টাভাইরাস মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমিত হওয়ার বিরল ক্ষমতা রাখে।
সম্ভাব্য জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় তেনেরিফের ক্যান্ডেলেরিয়া হাসপাতালে বিশেষ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সেখানে নিবিড় পরিচর্যা বিশেষজ্ঞদের প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং আইসোলেশন ইউনিটে ভেন্টিলেটর, টেস্টিং কিটসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম রাখা হয়েছে।
আইসোলেশন ইউনিটের প্রধান চিকিৎসক মার মার্টিন বলেন, “আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত। আগে কখনো এই ভাইরাসের রোগী না পেলেও সংক্রামক রোগ মোকাবিলায় আমাদের প্রশিক্ষণ রয়েছে।”
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মহাপরিচালক তেদ্রোস আধানম ঘেব্রেয়েসুস তেনেরিফে অবস্থান করে উদ্ধার কার্যক্রম তদারকি করছেন।
তিনি স্পেন সরকারের পদক্ষেপের প্রশংসা করে বলেন, “কোভিড মহামারির অভিজ্ঞতার কারণে মানুষের উদ্বেগ স্বাভাবিক। তবে এই ভাইরাস ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কম।”
তবে জাহাজটি তেনেরিফে আনার সিদ্ধান্ত নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বন্দর শ্রমিকদের একটি অংশ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করে বিক্ষোভও করেছে। পরে স্পেন সরকার জনগণকে আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানায়।
প্রমোদতরীর প্রায় ৩০ জন ক্রু সদস্য জাহাজে থেকেই সেটিকে নেদারল্যান্ডসে ফিরিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব পালন করবেন। অন্য যাত্রীদের জন্য শুরু হচ্ছে দীর্ঘ কয়েক সপ্তাহের কোয়ারেন্টাইন জীবন।

সোমবার, ১১ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ মে ২০২৬
হান্টাভাইরাসে আক্রান্ত একটি প্রমোদতরী থেকে যাত্রীদের সরিয়ে নিতে স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে ব্যাপক উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছে। তেনেরিফের কাছে নোঙর করা ‘এমএস হন্ডিয়াস’ নামের ওই জাহাজে থাকা যাত্রী ও ক্রুদের ধাপে ধাপে উপকূলে নামিয়ে নিজ নিজ দেশে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
স্পেনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী মনিকা গার্সিয়া জানিয়েছেন, উদ্ধার কার্যক্রম “স্বাভাবিকভাবে এগোচ্ছে” এবং এখন পর্যন্ত জাহাজের কোনো যাত্রীর শরীরে নতুন করে উপসর্গ দেখা যায়নি।
রোববার ভোরে জাহাজটি গ্রানাদিয়া বন্দরের কাছে পৌঁছালে এটিকে সরাসরি তীরে ভেড়ানোর অনুমতি দেওয়া হয়নি। বরং জাহাজটির চারপাশে এক নটিক্যাল মাইলজুড়ে নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়। পরে মেডিকেল টিম জাহাজে উঠে যাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা শুরু করে।
উদ্ধার অভিযানের বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা যায়, যাত্রীরা সাদা মেডিকেল মাস্ক পরে জাহাজের ডেকে অবস্থান করছেন। উপকূলে পৌঁছানোর পর স্বাস্থ্যকর্মীরা হ্যাজম্যাট স্যুট পরে যাত্রীদের গ্রহণ করেন। অনেককে বিমানে ওঠার আগে জীবাণুনাশক পানি ছিটিয়ে জীবাণুমুক্ত করা হয়।
স্পেনীয় নাগরিকদের প্রথমে নামানো হচ্ছে। এরপর ডাচ, গ্রিক, জার্মান ও অন্যান্য দেশের যাত্রীদের আলাদা ফ্লাইটে নিজ নিজ দেশে পাঠানো হবে। সর্বশেষ ফ্লাইটটি অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশে সোমবার ছেড়ে যাওয়ার কথা রয়েছে।
জাহাজটিতে প্রথম এক যাত্রীর মৃত্যুর এক মাস পর এই উদ্ধার অভিযান শুরু হলো। এখন পর্যন্ত তিনজন যাত্রীর মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, আর্জেন্টিনার দক্ষিণাঞ্চলের একটি এলাকায় ইঁদুরের মাধ্যমে ভাইরাসটি ছড়ায়। আন্দিজ স্ট্রেইনের এই হান্টাভাইরাস মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমিত হওয়ার বিরল ক্ষমতা রাখে।
সম্ভাব্য জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় তেনেরিফের ক্যান্ডেলেরিয়া হাসপাতালে বিশেষ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সেখানে নিবিড় পরিচর্যা বিশেষজ্ঞদের প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং আইসোলেশন ইউনিটে ভেন্টিলেটর, টেস্টিং কিটসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম রাখা হয়েছে।
আইসোলেশন ইউনিটের প্রধান চিকিৎসক মার মার্টিন বলেন, “আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত। আগে কখনো এই ভাইরাসের রোগী না পেলেও সংক্রামক রোগ মোকাবিলায় আমাদের প্রশিক্ষণ রয়েছে।”
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মহাপরিচালক তেদ্রোস আধানম ঘেব্রেয়েসুস তেনেরিফে অবস্থান করে উদ্ধার কার্যক্রম তদারকি করছেন।
তিনি স্পেন সরকারের পদক্ষেপের প্রশংসা করে বলেন, “কোভিড মহামারির অভিজ্ঞতার কারণে মানুষের উদ্বেগ স্বাভাবিক। তবে এই ভাইরাস ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কম।”
তবে জাহাজটি তেনেরিফে আনার সিদ্ধান্ত নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বন্দর শ্রমিকদের একটি অংশ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করে বিক্ষোভও করেছে। পরে স্পেন সরকার জনগণকে আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানায়।
প্রমোদতরীর প্রায় ৩০ জন ক্রু সদস্য জাহাজে থেকেই সেটিকে নেদারল্যান্ডসে ফিরিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব পালন করবেন। অন্য যাত্রীদের জন্য শুরু হচ্ছে দীর্ঘ কয়েক সপ্তাহের কোয়ারেন্টাইন জীবন।

আপনার মতামত লিখুন