ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে উড়োজাহাজের জ্বালানি বা জেট ফুয়েলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে জ্বালানির দাম, যার কারণে বড় ধরনের আর্থিক চাপে পড়েছে আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলো। একই সঙ্গে বাতিল হয়েছে হাজার হাজার ফ্লাইট।
আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান গোল্ডম্যান স্যাকস সতর্ক করে জানিয়েছে, চলতি জুনের মধ্যে বৈশ্বিক জেট ফুয়েল মজুত আন্তর্জাতিক শক্তি সংস্থার নির্ধারিত সংকটসীমার নিচে নেমে যেতে পারে। বিশেষ করে যুক্তরাজ্য সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
যুদ্ধ শুরুর আগে যেখানে জেট ফুয়েলের দাম তুলনামূলক স্থিতিশীল ছিল, এখন তা প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১৮১ ডলারে পৌঁছেছে। ইউরোপে উড়োজাহাজের জ্বালানি মজুতও প্রায় ৫০ শতাংশ কমে গেছে।
জ্বালানি সংকটের কারণে জার্মানির জাতীয় বিমান সংস্থা লুফথানসা আগামী অক্টোবর পর্যন্ত প্রায় ২০ হাজার ফ্লাইট বাতিল করেছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক স্পিরিট এয়ারলাইন্স সরকারি সহায়তা না পেয়ে আর্থিকভাবে ধসে পড়েছে। আমেরিকান এয়ারলাইনস ও ডেলটার মতো বড় কোম্পানিগুলো অতিরিক্ত কয়েকশ কোটি ডলারের জ্বালানি ব্যয়ের মুখে পড়েছে।
সংকট মোকাবিলায় বিমান খাত এখন বিকল্প জ্বালানি ‘সাসটেইনেবল অ্যাভিয়েশন ফুয়েল’ (এসএএফ)-এর দিকে ঝুঁকছে। ব্যবহৃত রান্নার তেল, কৃষি বর্জ্য ও সঞ্চিত কার্বন থেকে তৈরি এই জ্বালানিকে পরিবেশবান্ধব বিকল্প হিসেবে দেখা হলেও সরবরাহ সীমিত হওয়ায় তা এখনো ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা সম্ভব হয়নি।
আন্তর্জাতিক উড়োজাহাজ পরিবহন সংস্থার তথ্যমতে, ২০৫০ সালের মধ্যে কার্বন নির্গমন কমাতে বছরে অন্তত ২৫ কোটি টন এসএএফ প্রয়োজন হবে। তবে উৎপাদন ও সরবরাহ সীমাবদ্ধতার কারণে এই লক্ষ্য অর্জন কঠিন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাজ্য বিমান সংস্থাগুলোকে ধীরে ধীরে এসএএফ এবং ভবিষ্যতে ই-এসএএফ ব্যবহারে উৎসাহিত করছে। তবে এয়ারলাইনসগুলো বলছে, প্রয়োজনীয় পরিমাণ জ্বালানি এখনো বাজারে পাওয়া যাচ্ছে না।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শান্তিচুক্তি হলেও বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক হতে আরও কয়েক মাস সময় লাগতে পারে।

সোমবার, ১১ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ মে ২০২৬
ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে উড়োজাহাজের জ্বালানি বা জেট ফুয়েলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে জ্বালানির দাম, যার কারণে বড় ধরনের আর্থিক চাপে পড়েছে আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলো। একই সঙ্গে বাতিল হয়েছে হাজার হাজার ফ্লাইট।
আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান গোল্ডম্যান স্যাকস সতর্ক করে জানিয়েছে, চলতি জুনের মধ্যে বৈশ্বিক জেট ফুয়েল মজুত আন্তর্জাতিক শক্তি সংস্থার নির্ধারিত সংকটসীমার নিচে নেমে যেতে পারে। বিশেষ করে যুক্তরাজ্য সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
যুদ্ধ শুরুর আগে যেখানে জেট ফুয়েলের দাম তুলনামূলক স্থিতিশীল ছিল, এখন তা প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১৮১ ডলারে পৌঁছেছে। ইউরোপে উড়োজাহাজের জ্বালানি মজুতও প্রায় ৫০ শতাংশ কমে গেছে।
জ্বালানি সংকটের কারণে জার্মানির জাতীয় বিমান সংস্থা লুফথানসা আগামী অক্টোবর পর্যন্ত প্রায় ২০ হাজার ফ্লাইট বাতিল করেছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক স্পিরিট এয়ারলাইন্স সরকারি সহায়তা না পেয়ে আর্থিকভাবে ধসে পড়েছে। আমেরিকান এয়ারলাইনস ও ডেলটার মতো বড় কোম্পানিগুলো অতিরিক্ত কয়েকশ কোটি ডলারের জ্বালানি ব্যয়ের মুখে পড়েছে।
সংকট মোকাবিলায় বিমান খাত এখন বিকল্প জ্বালানি ‘সাসটেইনেবল অ্যাভিয়েশন ফুয়েল’ (এসএএফ)-এর দিকে ঝুঁকছে। ব্যবহৃত রান্নার তেল, কৃষি বর্জ্য ও সঞ্চিত কার্বন থেকে তৈরি এই জ্বালানিকে পরিবেশবান্ধব বিকল্প হিসেবে দেখা হলেও সরবরাহ সীমিত হওয়ায় তা এখনো ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা সম্ভব হয়নি।
আন্তর্জাতিক উড়োজাহাজ পরিবহন সংস্থার তথ্যমতে, ২০৫০ সালের মধ্যে কার্বন নির্গমন কমাতে বছরে অন্তত ২৫ কোটি টন এসএএফ প্রয়োজন হবে। তবে উৎপাদন ও সরবরাহ সীমাবদ্ধতার কারণে এই লক্ষ্য অর্জন কঠিন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাজ্য বিমান সংস্থাগুলোকে ধীরে ধীরে এসএএফ এবং ভবিষ্যতে ই-এসএএফ ব্যবহারে উৎসাহিত করছে। তবে এয়ারলাইনসগুলো বলছে, প্রয়োজনীয় পরিমাণ জ্বালানি এখনো বাজারে পাওয়া যাচ্ছে না।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শান্তিচুক্তি হলেও বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক হতে আরও কয়েক মাস সময় লাগতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন