পার্বত্য জেলা বান্দরবানের রোয়াংছড়িতে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির সম্প্রসারণ, পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং কৃষকদের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘পার্টনার ফিল্ড স্কুল কংগ্রেস’।
সোমবার (১১ মে ২০২৬) সকাল সাড়ে ১১টায় উপজেলা মিলনায়তনে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে বর্ণাঢ্য এই কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আগত শতাধিক কৃষক-কৃষাণীর প্রাণবন্ত অংশগ্রহণে মিলনায়তন পরিণত হয় কৃষি উন্নয়নের এক মিলনমেলায়।
‘প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচার অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন, এন্টারপ্রাইজ অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ (পার্টনার)’ প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আবু নঈম মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন।
সভাপতিত্ব করেন রোয়াংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাজমিন আলম তুলি। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা পাপন সরকার। শুরুতেই স্বাগত বক্তব্য দেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. এহসানুল হক।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, দেশের কৃষি ব্যবস্থাকে আরও টেকসই ও আধুনিক করতে হলে কৃষকদের প্রযুক্তিনির্ভর জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি। ‘পার্টনার’ প্রকল্পের মাধ্যমে শুধু কৃষি উৎপাদন বাড়ানো নয়, কৃষকদের দক্ষ কৃষি উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বক্তারা উল্লেখ করেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা করে কীভাবে কম খরচে অধিক ফলন নিশ্চিত করা যায়, সে বিষয়ে কৃষকদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। একইসঙ্গে নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য উৎপাদনের মাধ্যমে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপ-পরিচালক আবু নঈম মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন বলেন, বর্তমান সময়ে কৃষিকে শুধু জীবিকা নয়, সম্ভাবনাময় শিল্পখাত হিসেবেও দেখতে হবে। কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তি ও বাজার ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে পারলে পার্বত্য অঞ্চলের কৃষিতেও নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।
তিনি বলেন, সরকারের কৃষিবান্ধব নীতিমালা বাস্তবায়নে মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তারা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
সভাপতির বক্তব্যে ইউএনও তাজমিন আলম তুলি বলেন, কৃষি ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় কৃষকদের আরও সচেতন ও দক্ষ করে তুলতে হবে। তিনি কৃষকদের আধুনিক কৃষি পদ্ধতি গ্রহণে উৎসাহিত করেন এবং সরকারি বিভিন্ন কৃষি সহায়তা কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ১নং রোয়াংছড়ি সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মেহ্লাঅং মারমা, ২নং তারাছা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান চনুমং মারমাসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীরা।
গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রথম আলোর জেলা প্রতিনিধি বুদ্ধজ্যোতি চাকমা, ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি মংখিংসাইং মারমা, কালের কণ্ঠের জেলা প্রতিনিধি রিমন পাল, রোয়াংছড়ি প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সাথোয়াইঅং মারমা এবং অর্থ সম্পাদক হ্লাছোহ্রী মারমা।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে কৃষকরা নিজেদের মাঠ পর্যায়ের অভিজ্ঞতা, সফলতা ও বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ নিয়ে মতবিনিময় করেন।
কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের বিভিন্ন সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধান ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেন। পাশাপাশি আধুনিক কৃষি সরঞ্জামের সঠিক ব্যবহার, টেকসই চাষাবাদ পদ্ধতি এবং সরকারের উন্নয়নমুখী কৃষি নীতির সঙ্গে প্রান্তিক কৃষকদের সম্পৃক্ত করার অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে কংগ্রেসের সমাপ্তি ঘটে।

সোমবার, ১১ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ মে ২০২৬
পার্বত্য জেলা বান্দরবানের রোয়াংছড়িতে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির সম্প্রসারণ, পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং কৃষকদের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘পার্টনার ফিল্ড স্কুল কংগ্রেস’।
সোমবার (১১ মে ২০২৬) সকাল সাড়ে ১১টায় উপজেলা মিলনায়তনে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে বর্ণাঢ্য এই কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আগত শতাধিক কৃষক-কৃষাণীর প্রাণবন্ত অংশগ্রহণে মিলনায়তন পরিণত হয় কৃষি উন্নয়নের এক মিলনমেলায়।
‘প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচার অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন, এন্টারপ্রাইজ অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ (পার্টনার)’ প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আবু নঈম মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন।
সভাপতিত্ব করেন রোয়াংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাজমিন আলম তুলি। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা পাপন সরকার। শুরুতেই স্বাগত বক্তব্য দেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. এহসানুল হক।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, দেশের কৃষি ব্যবস্থাকে আরও টেকসই ও আধুনিক করতে হলে কৃষকদের প্রযুক্তিনির্ভর জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি। ‘পার্টনার’ প্রকল্পের মাধ্যমে শুধু কৃষি উৎপাদন বাড়ানো নয়, কৃষকদের দক্ষ কৃষি উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বক্তারা উল্লেখ করেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা করে কীভাবে কম খরচে অধিক ফলন নিশ্চিত করা যায়, সে বিষয়ে কৃষকদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। একইসঙ্গে নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য উৎপাদনের মাধ্যমে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপ-পরিচালক আবু নঈম মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন বলেন, বর্তমান সময়ে কৃষিকে শুধু জীবিকা নয়, সম্ভাবনাময় শিল্পখাত হিসেবেও দেখতে হবে। কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তি ও বাজার ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে পারলে পার্বত্য অঞ্চলের কৃষিতেও নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।
তিনি বলেন, সরকারের কৃষিবান্ধব নীতিমালা বাস্তবায়নে মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তারা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
সভাপতির বক্তব্যে ইউএনও তাজমিন আলম তুলি বলেন, কৃষি ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় কৃষকদের আরও সচেতন ও দক্ষ করে তুলতে হবে। তিনি কৃষকদের আধুনিক কৃষি পদ্ধতি গ্রহণে উৎসাহিত করেন এবং সরকারি বিভিন্ন কৃষি সহায়তা কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ১নং রোয়াংছড়ি সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মেহ্লাঅং মারমা, ২নং তারাছা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান চনুমং মারমাসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীরা।
গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রথম আলোর জেলা প্রতিনিধি বুদ্ধজ্যোতি চাকমা, ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি মংখিংসাইং মারমা, কালের কণ্ঠের জেলা প্রতিনিধি রিমন পাল, রোয়াংছড়ি প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সাথোয়াইঅং মারমা এবং অর্থ সম্পাদক হ্লাছোহ্রী মারমা।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে কৃষকরা নিজেদের মাঠ পর্যায়ের অভিজ্ঞতা, সফলতা ও বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ নিয়ে মতবিনিময় করেন।
কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের বিভিন্ন সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধান ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেন। পাশাপাশি আধুনিক কৃষি সরঞ্জামের সঠিক ব্যবহার, টেকসই চাষাবাদ পদ্ধতি এবং সরকারের উন্নয়নমুখী কৃষি নীতির সঙ্গে প্রান্তিক কৃষকদের সম্পৃক্ত করার অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে কংগ্রেসের সমাপ্তি ঘটে।

আপনার মতামত লিখুন