ঢাকা    সোমবার, ১১ মে ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

দেবীগঞ্জে রেকর্ড মরিচ উৎপাদন, দাম কমে চাষিদের মাথায় হাত



দেবীগঞ্জে রেকর্ড মরিচ উৎপাদন, দাম কমে চাষিদের মাথায় হাত
ছবি : কৃষি

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলায় চলতি মৌসুমে মরিচের রেকর্ড উৎপাদন হলেও পাইকারি বাজারে দামের ধস নামায় চাষিদের মধ্যে দেখা দিয়েছে হতাশা। লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে আবাদ ও ভালো ফলনের পরও ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় অনেক কৃষক খরচ উঠানো নিয়েই দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।

মঙ্গলবার (৫ মে) সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন মরিচ হাটে গিয়ে দেখা যায়, ভোর থেকেই কৃষকরা ক্ষেত থেকে তোলা তাজা মরিচ নিয়ে বাজারে আসছেন। কিন্তু সরবরাহ বেশি হওয়ায় পাইকাররা তুলনামূলক কম দামে মরিচ কিনছেন। এতে হাটজুড়ে এক ধরনের চাপা অসন্তোষ বিরাজ করছে।

বর্তমানে প্রতি মণ কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকায়। অথচ মাত্র দুই দিন আগেও একই মরিচ বিক্রি হয়েছে ১ হাজার ৮০০ থেকে ১ হাজার ৯০০ টাকায়। অর্থাৎ অল্প সময়ের ব্যবধানে প্রতি মণে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত দাম কমে গেছে, যা কৃষকদের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা দিয়েছে।

দেবীগঞ্জ সদর ইউনিয়নের কৃষক সাদ্দাম হোসেন বলেন, এবারের ফলন ভালো হলেও বাজারে এসে কম দামে মরিচ বিক্রি করতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন খরচ তুলতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে। একই ধরনের হতাশা প্রকাশ করেছেন সোনাহার মল্লিকাদহ ইউনিয়নের কৃষক রাসেল আহমেদ। তিনি জানান, কয়েকদিনের অনুকূল আবহাওয়ার কারণে একসঙ্গে প্রচুর মরিচ বাজারে আসছে। অন্যদিকে শ্রমিক, সার ও সেচের খরচ বেড়ে যাওয়ায় এই দামে বিক্রি করলে অনেক সময় লোকসান গুনতে হচ্ছে। উপরন্তু ওজনের সময় অতিরিক্ত ৩-৪ কেজি নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে, যা কৃষকদের ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়াচ্ছে।

ব্যবসায়ীদের মতে, বর্তমানে বাজারে মরিচের জোগান চাহিদার তুলনায় অনেক বেশি। বিভিন্ন এলাকা থেকে একযোগে সরবরাহ বাড়ায় স্বাভাবিকভাবেই দাম কমেছে। তবে তারা আশা করছেন, সামনে সরবরাহ কিছুটা কমে এলে বাজারে আবার দামের উন্নতি হতে পারে।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে দেবীগঞ্জে মরিচ চাষে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে যেখানে ৫৭৭ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছিল, সেখানে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৮৫ হেক্টরে। ইতোমধ্যে প্রায় ৩০ হেক্টর জমির মরিচ কর্তন করা হয়েছে, ফলে বাজারে সরবরাহ দ্রুত বেড়েছে।

কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতির কারণে এ বছর ফলন আশাতীত হয়েছে। ফেরোমন ফাঁদ ও হলুদ ফাঁদ ব্যবহার, মালচিং পদ্ধতিতে চাষাবাদ এবং পরিমিত সার ও কীটনাশক প্রয়োগের ফলে উৎপাদন বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. নাঈম মোর্শেদ বলেন, অনুকূল আবহাওয়া ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের কারণে এ বছর মরিচের উৎপাদন ভালো হয়েছে। ফলে বাজারে সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় সাময়িকভাবে দাম কমেছে। তবে ধীরে ধীরে বাজারে ভারসাম্য ফিরে এলে কৃষকরা ন্যায্য মূল্য পাবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সোমবার, ১১ মে ২০২৬


দেবীগঞ্জে রেকর্ড মরিচ উৎপাদন, দাম কমে চাষিদের মাথায় হাত

প্রকাশের তারিখ : ০৫ মে ২০২৬

featured Image

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলায় চলতি মৌসুমে মরিচের রেকর্ড উৎপাদন হলেও পাইকারি বাজারে দামের ধস নামায় চাষিদের মধ্যে দেখা দিয়েছে হতাশা। লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে আবাদ ও ভালো ফলনের পরও ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় অনেক কৃষক খরচ উঠানো নিয়েই দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।

মঙ্গলবার (৫ মে) সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন মরিচ হাটে গিয়ে দেখা যায়, ভোর থেকেই কৃষকরা ক্ষেত থেকে তোলা তাজা মরিচ নিয়ে বাজারে আসছেন। কিন্তু সরবরাহ বেশি হওয়ায় পাইকাররা তুলনামূলক কম দামে মরিচ কিনছেন। এতে হাটজুড়ে এক ধরনের চাপা অসন্তোষ বিরাজ করছে।

বর্তমানে প্রতি মণ কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকায়। অথচ মাত্র দুই দিন আগেও একই মরিচ বিক্রি হয়েছে ১ হাজার ৮০০ থেকে ১ হাজার ৯০০ টাকায়। অর্থাৎ অল্প সময়ের ব্যবধানে প্রতি মণে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত দাম কমে গেছে, যা কৃষকদের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা দিয়েছে।

দেবীগঞ্জ সদর ইউনিয়নের কৃষক সাদ্দাম হোসেন বলেন, এবারের ফলন ভালো হলেও বাজারে এসে কম দামে মরিচ বিক্রি করতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন খরচ তুলতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে। একই ধরনের হতাশা প্রকাশ করেছেন সোনাহার মল্লিকাদহ ইউনিয়নের কৃষক রাসেল আহমেদ। তিনি জানান, কয়েকদিনের অনুকূল আবহাওয়ার কারণে একসঙ্গে প্রচুর মরিচ বাজারে আসছে। অন্যদিকে শ্রমিক, সার ও সেচের খরচ বেড়ে যাওয়ায় এই দামে বিক্রি করলে অনেক সময় লোকসান গুনতে হচ্ছে। উপরন্তু ওজনের সময় অতিরিক্ত ৩-৪ কেজি নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে, যা কৃষকদের ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়াচ্ছে।

ব্যবসায়ীদের মতে, বর্তমানে বাজারে মরিচের জোগান চাহিদার তুলনায় অনেক বেশি। বিভিন্ন এলাকা থেকে একযোগে সরবরাহ বাড়ায় স্বাভাবিকভাবেই দাম কমেছে। তবে তারা আশা করছেন, সামনে সরবরাহ কিছুটা কমে এলে বাজারে আবার দামের উন্নতি হতে পারে।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে দেবীগঞ্জে মরিচ চাষে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে যেখানে ৫৭৭ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছিল, সেখানে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৮৫ হেক্টরে। ইতোমধ্যে প্রায় ৩০ হেক্টর জমির মরিচ কর্তন করা হয়েছে, ফলে বাজারে সরবরাহ দ্রুত বেড়েছে।

কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতির কারণে এ বছর ফলন আশাতীত হয়েছে। ফেরোমন ফাঁদ ও হলুদ ফাঁদ ব্যবহার, মালচিং পদ্ধতিতে চাষাবাদ এবং পরিমিত সার ও কীটনাশক প্রয়োগের ফলে উৎপাদন বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. নাঈম মোর্শেদ বলেন, অনুকূল আবহাওয়া ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের কারণে এ বছর মরিচের উৎপাদন ভালো হয়েছে। ফলে বাজারে সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় সাময়িকভাবে দাম কমেছে। তবে ধীরে ধীরে বাজারে ভারসাম্য ফিরে এলে কৃষকরা ন্যায্য মূল্য পাবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ