ঢাকা    সোমবার, ১১ মে ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সামনে এলো কোটি টাকার সাইবার সিন্ডিকেট

অনলাইন জুয়ার অন্ধকার সাম্রাজ্যের ‘গডফাদার’ ফিলসন গ্রেফতার


নিজস্ব প্রতিনিধি
নিজস্ব প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১১ মে ২০২৬

অনলাইন জুয়ার অন্ধকার সাম্রাজ্যের ‘গডফাদার’ ফিলসন গ্রেফতার
ছবি : সংগৃহীত

মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলার কোমরপুর গ্রামের বাসিন্দা আখতারুজ্জামান ফিলসনের গ্রেপ্তারকে ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এসেছে দেশের অনলাইন জুয়ার ভয়ংকর বিস্তার। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি শুধু একজন অনলাইন জুয়ার এজেন্ট নন, বরং একটি বড় সাইবারভিত্তিক অর্থনৈতিক চক্রের সক্রিয় পরিচালকদের একজন।

জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) গত ৮ মে মেহেরপুরের কোমরপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। তার বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইনের একাধিক মামলা রয়েছে। পুলিশের দাবি, আন্তর্জাতিক অনলাইন ক্যাসিনো প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে দেশে-বিদেশে অর্থ লেনদেন, মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা স্থানান্তর এবং অনলাইন জুয়ার নেটওয়ার্ক পরিচালনার সঙ্গে তিনি জড়িত ছিলেন।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বিকাশ, নগদ, রকেট ও উপায়ের মতো মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস ব্যবহার করে এই চক্র অর্থ লেনদেন করত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বিশেষ করে ফেসবুক গ্রুপ ও টেলিগ্রাম চ্যানেলের মাধ্যমে দ্রুত ধনী হওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তরুণদের অনলাইন জুয়ার সঙ্গে যুক্ত করা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই নেটওয়ার্ক এখন আর শুধু বড় শহরকেন্দ্রিক নয়। মেহেরপুর, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গাসহ সীমান্তবর্তী বিভিন্ন জেলায় গত কয়েক বছরে অনলাইন জুয়ার বিস্তার আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। বিভিন্ন অভিযানে একাধিক জুয়া পরিচালনাকারী, এজেন্ট ও অর্থ লেনদেনকারীদের গ্রেপ্তারের তথ্য পাওয়া গেছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্যমতে, ফিলসনের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫-এর ২০(২), ২৪(২) ও ২৭(২) ধারায় মামলা রয়েছে। গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে দুটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে এবং সেগুলোর ফরেনসিক পরীক্ষা চলছে।

স্থানীয়ভাবে ফিলসনকে “অনলাইন জুয়ার গডফাদার” হিসেবে পরিচিত বলা হলেও, এই উপাধি মূলত গণমাধ্যম ও স্থানীয় সূত্রের বর্ণনা। এখন পর্যন্ত আদালতে উপস্থাপিত অভিযোগের বিচারিক নিষ্পত্তি হয়নি। তাই তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো তদন্তাধীন বিষয় হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

এ ঘটনায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে, একজন ব্যক্তি কীভাবে দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে থেকেও এত বড় নেটওয়ার্ক পরিচালনা করছিলেন? স্থানীয়দের দাবি, এর আগে এক অভিযানের সময় তিনি বাড়ির পানির ট্যাংকে লুকিয়ে পালিয়ে যান। পরে আত্মগোপনে থেকেও তার কার্যক্রম চালু ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, অনলাইন জুয়া এখন শুধু সামাজিক অবক্ষয়ের বিষয় নয়; এটি অর্থ পাচার, সাইবার অপরাধ এবং তরুণ সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেওয়া বড় ধরনের হুমকিতে পরিণত হয়েছে। প্রযুক্তির অপব্যবহার, বিদেশি সার্ভার, গোপন অ্যাপ ও মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবস্থার সমন্বয়ে এই অপরাধচক্র আরও জটিল হয়ে উঠছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, শুধু কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করলেই এই সমস্যা বন্ধ হবে না। মূল নেটওয়ার্ক, অর্থের উৎস, প্রযুক্তিগত সহায়তাকারী ও আড়ালের পৃষ্ঠপোষকদের শনাক্ত করে পুরো সিন্ডিকেট ভাঙতে না পারলে অনলাইন জুয়ার এই অদৃশ্য সাম্রাজ্য আরও বিস্তৃত হতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সোমবার, ১১ মে ২০২৬


অনলাইন জুয়ার অন্ধকার সাম্রাজ্যের ‘গডফাদার’ ফিলসন গ্রেফতার

প্রকাশের তারিখ : ১১ মে ২০২৬

featured Image

মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলার কোমরপুর গ্রামের বাসিন্দা আখতারুজ্জামান ফিলসনের গ্রেপ্তারকে ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এসেছে দেশের অনলাইন জুয়ার ভয়ংকর বিস্তার। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি শুধু একজন অনলাইন জুয়ার এজেন্ট নন, বরং একটি বড় সাইবারভিত্তিক অর্থনৈতিক চক্রের সক্রিয় পরিচালকদের একজন।

জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) গত ৮ মে মেহেরপুরের কোমরপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। তার বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইনের একাধিক মামলা রয়েছে। পুলিশের দাবি, আন্তর্জাতিক অনলাইন ক্যাসিনো প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে দেশে-বিদেশে অর্থ লেনদেন, মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা স্থানান্তর এবং অনলাইন জুয়ার নেটওয়ার্ক পরিচালনার সঙ্গে তিনি জড়িত ছিলেন।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বিকাশ, নগদ, রকেট ও উপায়ের মতো মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস ব্যবহার করে এই চক্র অর্থ লেনদেন করত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বিশেষ করে ফেসবুক গ্রুপ ও টেলিগ্রাম চ্যানেলের মাধ্যমে দ্রুত ধনী হওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তরুণদের অনলাইন জুয়ার সঙ্গে যুক্ত করা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই নেটওয়ার্ক এখন আর শুধু বড় শহরকেন্দ্রিক নয়। মেহেরপুর, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গাসহ সীমান্তবর্তী বিভিন্ন জেলায় গত কয়েক বছরে অনলাইন জুয়ার বিস্তার আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। বিভিন্ন অভিযানে একাধিক জুয়া পরিচালনাকারী, এজেন্ট ও অর্থ লেনদেনকারীদের গ্রেপ্তারের তথ্য পাওয়া গেছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্যমতে, ফিলসনের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫-এর ২০(২), ২৪(২) ও ২৭(২) ধারায় মামলা রয়েছে। গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে দুটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে এবং সেগুলোর ফরেনসিক পরীক্ষা চলছে।

স্থানীয়ভাবে ফিলসনকে “অনলাইন জুয়ার গডফাদার” হিসেবে পরিচিত বলা হলেও, এই উপাধি মূলত গণমাধ্যম ও স্থানীয় সূত্রের বর্ণনা। এখন পর্যন্ত আদালতে উপস্থাপিত অভিযোগের বিচারিক নিষ্পত্তি হয়নি। তাই তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো তদন্তাধীন বিষয় হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

এ ঘটনায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে, একজন ব্যক্তি কীভাবে দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে থেকেও এত বড় নেটওয়ার্ক পরিচালনা করছিলেন? স্থানীয়দের দাবি, এর আগে এক অভিযানের সময় তিনি বাড়ির পানির ট্যাংকে লুকিয়ে পালিয়ে যান। পরে আত্মগোপনে থেকেও তার কার্যক্রম চালু ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, অনলাইন জুয়া এখন শুধু সামাজিক অবক্ষয়ের বিষয় নয়; এটি অর্থ পাচার, সাইবার অপরাধ এবং তরুণ সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেওয়া বড় ধরনের হুমকিতে পরিণত হয়েছে। প্রযুক্তির অপব্যবহার, বিদেশি সার্ভার, গোপন অ্যাপ ও মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবস্থার সমন্বয়ে এই অপরাধচক্র আরও জটিল হয়ে উঠছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, শুধু কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করলেই এই সমস্যা বন্ধ হবে না। মূল নেটওয়ার্ক, অর্থের উৎস, প্রযুক্তিগত সহায়তাকারী ও আড়ালের পৃষ্ঠপোষকদের শনাক্ত করে পুরো সিন্ডিকেট ভাঙতে না পারলে অনলাইন জুয়ার এই অদৃশ্য সাম্রাজ্য আরও বিস্তৃত হতে পারে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ