বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলোতে ছাত্র রাজনীতি বন্ধের বিক্ষোভ নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ছাত্রদল-শিবিরের। ছাত্রদলের অভিযোগ, সাধারণ শিক্ষার্থীর নামে উন্মুক্ত রাজনীতি বন্ধের চেষ্টা করছে শিবির। তবে, শিবির নেতাদের ভাষ্য, দখলের রাজনীতি চান না শিক্ষার্থীরা। অপরদিকে, অপরাজনীতির জন্য দু'পক্ষকেই দুষছে ছাত্রশক্তি। শিক্ষার্থীদের কেউ কেউ বলেন, একেবারে ছাত্র রাজনীতির প্রয়োজন নেই— ব্যাপারটা এমন নয়। শিক্ষার্থীদের কল্যাণে যে রাজনীতি আমরা সেটিই চাই। পাশাপাশি হল, গণরুম ও গেস্টরুম নির্ভর রাজনীতি যুক্তিসঙ্গত না বলেও জানান।
গেলো কয়েকদিনে ছাত্র রাজনীতি বন্ধে ইডেন ও তিতুমীর কলেজসহ বিভিন্ন ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে সেসব আন্দোলন নিয়ে। ছাত্রদলের দাবি, সাধারণ নামে বিক্ষোভ করলেও তারা কেউ দল নিরপেক্ষ নয়। অভিযোগ, শিবিরের নেতাকর্মীরাই পরিচয় গোপন করে রাজনীতি বন্ধের দাবি জানাচ্ছে।
ছাত্রদলের সহ-সভাপতি মনজুরুল আলম রিয়াদের অভিযোগ— নারী শিক্ষার্থীদের দিয়ে ছাত্র রাজনীতির বিপরীতে একটি অবস্থান নেওয়ার প্রচেষ্টা চালিয়েছে শিবির।
ছাত্রদল নেতা শেখ তানভীর বারী হামিম শিবিরকে উদ্দেশ্য করে বলেন, 'শিবিরের যে ছাত্রীসংস্থা রয়েছে, সেই সদস্যদের ব্যবহার করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে তারাই ছাত্র রাজনীতি বন্ধে আন্দোলন পরিচালনা করছে।'
যদিও এমন অভিযোগ নাকচ করেছেন ছাত্রশিবির নেতারা। বলেন, রাজনীতি না করাও শিক্ষার্থীদের অধিকার। জোরপূর্বক হল দখলের নামে রাজনীতি নিশ্চয়ই সমর্থনযোগ্য নয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) জিএস এস এম ফরহাদ ছাত্রদলকে উদ্দেশ্য করে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বিভিন্ন দোকানে চাঁদাবাজির ঘটনা, নেত্রকোণা মেডিকেল কলেজে শিক্ষার্থীদের কানধরে উঠবস করানোসহ ছাত্রদলের একাধিক কর্মকাণ্ড যখন গণমাধ্যমে এসেছে, তখন তারা সেটিকে চাপা দিয়ে এর বিপরীতে পাল্টা একটি বয়ান তৈরির চেষ্টায় আছে।
ঢাবি ছাত্রীসংস্থার সেক্রেটারি আফসানা আক্তার বলেন, 'ক্যাম্পাসে ছাত্র রাজনীতি থাকবে কি না, এই ইস্যুতে বেশিরভাগ শিক্ষার্থীর অভিমত কী তা জানতে হবে। ছাত্রদল সেই ব্যাপারে দৃষ্টি না দিয়ে যারা ছাত্র রাজনীতির বিরুদ্ধে কথা বলছে, তাদের একটি নির্দিষ্ট ট্যাগ দিয়ে দমানোর চেষ্টা করছে। এটি তো রাজনৈতিক সংস্কৃতি হতে পারে না।' অপরদিকে, জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতারা বলেন, সংকটের পেছনে দায়ী ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির উভয়ই। পুরোনো ধাঁচের রাজনীতি চায় না শিক্ষার্থীরা। রাজনীতির ধারা কেমন হবে আলোচনার মাধ্যেমে তাদেরই ঠিক করতে হবে।
ঢাবি ছাত্রশক্তির আইন ও মানবাধিকার সম্পাদক সরদার তানভীর বিন নজরুল বলেন, ছাত্র রাজনীতি অবশ্যই থাকবে। তবে, দলীয় লেজুরবৃত্তি ও আধিপত্য বিস্তারের বাইরে এসে নতুন ধাঁচের রাজনীতি নিয়ে আসতে হবে। এজন্য সবাইকে বসে সেই নতুন ছাত্র রাজনীতির মডেল ঠিক করতে হবে।
সহিংসতামুক্ত ও নিরাপদ ক্যাম্পাসে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিতের দাবি সবার। তবে চলমান সংকট কাটিয়ে কীভাবে একটি সুস্থ গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা যায়, সেটিই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

সোমবার, ১১ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ মে ২০২৬
বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলোতে ছাত্র রাজনীতি বন্ধের বিক্ষোভ নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ছাত্রদল-শিবিরের। ছাত্রদলের অভিযোগ, সাধারণ শিক্ষার্থীর নামে উন্মুক্ত রাজনীতি বন্ধের চেষ্টা করছে শিবির। তবে, শিবির নেতাদের ভাষ্য, দখলের রাজনীতি চান না শিক্ষার্থীরা। অপরদিকে, অপরাজনীতির জন্য দু'পক্ষকেই দুষছে ছাত্রশক্তি। শিক্ষার্থীদের কেউ কেউ বলেন, একেবারে ছাত্র রাজনীতির প্রয়োজন নেই— ব্যাপারটা এমন নয়। শিক্ষার্থীদের কল্যাণে যে রাজনীতি আমরা সেটিই চাই। পাশাপাশি হল, গণরুম ও গেস্টরুম নির্ভর রাজনীতি যুক্তিসঙ্গত না বলেও জানান।
গেলো কয়েকদিনে ছাত্র রাজনীতি বন্ধে ইডেন ও তিতুমীর কলেজসহ বিভিন্ন ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে সেসব আন্দোলন নিয়ে। ছাত্রদলের দাবি, সাধারণ নামে বিক্ষোভ করলেও তারা কেউ দল নিরপেক্ষ নয়। অভিযোগ, শিবিরের নেতাকর্মীরাই পরিচয় গোপন করে রাজনীতি বন্ধের দাবি জানাচ্ছে।
ছাত্রদলের সহ-সভাপতি মনজুরুল আলম রিয়াদের অভিযোগ— নারী শিক্ষার্থীদের দিয়ে ছাত্র রাজনীতির বিপরীতে একটি অবস্থান নেওয়ার প্রচেষ্টা চালিয়েছে শিবির।
ছাত্রদল নেতা শেখ তানভীর বারী হামিম শিবিরকে উদ্দেশ্য করে বলেন, 'শিবিরের যে ছাত্রীসংস্থা রয়েছে, সেই সদস্যদের ব্যবহার করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে তারাই ছাত্র রাজনীতি বন্ধে আন্দোলন পরিচালনা করছে।'
যদিও এমন অভিযোগ নাকচ করেছেন ছাত্রশিবির নেতারা। বলেন, রাজনীতি না করাও শিক্ষার্থীদের অধিকার। জোরপূর্বক হল দখলের নামে রাজনীতি নিশ্চয়ই সমর্থনযোগ্য নয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) জিএস এস এম ফরহাদ ছাত্রদলকে উদ্দেশ্য করে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বিভিন্ন দোকানে চাঁদাবাজির ঘটনা, নেত্রকোণা মেডিকেল কলেজে শিক্ষার্থীদের কানধরে উঠবস করানোসহ ছাত্রদলের একাধিক কর্মকাণ্ড যখন গণমাধ্যমে এসেছে, তখন তারা সেটিকে চাপা দিয়ে এর বিপরীতে পাল্টা একটি বয়ান তৈরির চেষ্টায় আছে।
ঢাবি ছাত্রীসংস্থার সেক্রেটারি আফসানা আক্তার বলেন, 'ক্যাম্পাসে ছাত্র রাজনীতি থাকবে কি না, এই ইস্যুতে বেশিরভাগ শিক্ষার্থীর অভিমত কী তা জানতে হবে। ছাত্রদল সেই ব্যাপারে দৃষ্টি না দিয়ে যারা ছাত্র রাজনীতির বিরুদ্ধে কথা বলছে, তাদের একটি নির্দিষ্ট ট্যাগ দিয়ে দমানোর চেষ্টা করছে। এটি তো রাজনৈতিক সংস্কৃতি হতে পারে না।' অপরদিকে, জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতারা বলেন, সংকটের পেছনে দায়ী ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির উভয়ই। পুরোনো ধাঁচের রাজনীতি চায় না শিক্ষার্থীরা। রাজনীতির ধারা কেমন হবে আলোচনার মাধ্যেমে তাদেরই ঠিক করতে হবে।
ঢাবি ছাত্রশক্তির আইন ও মানবাধিকার সম্পাদক সরদার তানভীর বিন নজরুল বলেন, ছাত্র রাজনীতি অবশ্যই থাকবে। তবে, দলীয় লেজুরবৃত্তি ও আধিপত্য বিস্তারের বাইরে এসে নতুন ধাঁচের রাজনীতি নিয়ে আসতে হবে। এজন্য সবাইকে বসে সেই নতুন ছাত্র রাজনীতির মডেল ঠিক করতে হবে।
সহিংসতামুক্ত ও নিরাপদ ক্যাম্পাসে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিতের দাবি সবার। তবে চলমান সংকট কাটিয়ে কীভাবে একটি সুস্থ গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা যায়, সেটিই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

আপনার মতামত লিখুন