ঢাকা    সোমবার, ১১ মে ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

চলছে ডিম থেকে রেণু ফোটানোর প্রক্রিয়া, শুরু হতে পারে বিক্রি



চলছে ডিম থেকে রেণু ফোটানোর প্রক্রিয়া, শুরু হতে পারে বিক্রি
ছবি : প্রতিনিধি

চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলারাউজান উপজেলা-ঘেঁষা ঐতিহাসিক হালদা নদী-কে কেন্দ্র করে চলছে কার্প জাতীয় মা মাছের ডিম থেকে রেণু ফোটানোর ব্যস্ত প্রক্রিয়া। দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র প্রাকৃতিক প্রজননক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত এই নদীতে ডিম সংগ্রহের মৌসুমে আবারও প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে।

গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে ডিম সংগ্রহকারীরা সরকারি হ্যাচারি ও মাটির কুয়াগুলোতে টানা কাজ করছেন। রেণু ফোটানোর এই প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে পৌঁছালে আগামী এক–দুই দিনের মধ্যে বাজারে রেণু বিক্রি শুরু হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

জানা গেছে, এবার ২৯ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া তৃতীয় তিথিতে মা মাছ কিছুটা বেশি পরিমাণে ডিম ছেড়েছে। বজ্রসহ বৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল এবং উজান থেকে নেমে আসা পানির কারণে নদীর পানি ঘোলা ও অনুকূলে থাকায় প্রাকৃতিক পরিবেশ ডিম ছাড়ার জন্য সহায়ক হয়ে ওঠে। সাধারণত এমন পরিবেশে কার্প জাতীয় মাছ ডিম ছাড়ে।

ডিম সংগ্রহকারীদের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, নদীর পানির তাপমাত্রা ও অবস্থা অনেক সময় ডিম সংগ্রহের পরিমাণকে প্রভাবিত করে। অনেকেই জানান, ডিম ছাড়ার আগে নদীর পানি কিছুটা উষ্ণ থাকে, কিন্তু এবার পানি তুলনামূলক ঠান্ডা থাকায় অনেক সংগ্রহকারী শুরুতে নদী থেকে উঠে আসেন। পরে ডিম ছাড়ার খবর পেয়ে তারা আবার কাজে ফেরেন, তবে সবাই সমানভাবে ডিম সংগ্রহ করতে পারেননি।

বর্তমানে ডিম সংগ্রহ করা হচ্ছে হাটহাজারীর শাহ মাদারী, মদুনাঘাট, মাছুয়াঘোনা ও রাউজানের মোবারকখীল সরকারি হ্যাচারিসহ বিভিন্ন মাটির কুয়ায়। এসব স্থানে ডিম থেকে রেণু ফোটানোর কাজ চলছে নিরবচ্ছিন্নভাবে।

সরকারি ও বেসরকারি সূত্রে পাওয়া তথ্যে দেখা যায়, এবার মোট ডিম সংগ্রহের পরিমাণ প্রায় ৪ হাজার ৮৫০ কেজি। এর মধ্যে মদুনাঘাট হ্যাচারিতে ৮০০ কেজি, মাছুয়াঘোনা হ্যাচারিতে ৯৭০ কেজি, বাড়িঘোনা মাটির কুয়ায় ৬৫০ কেজি, আইডিএফ মাটির কুয়ায় ৫৯০ কেজি, মোবারকখীল সরকারি হ্যাচারিতে ৩৯০ কেজি এবং অন্যান্য স্থানে বিভিন্ন পরিমাণে ডিম সংগ্রহ হয়েছে।

তবে ডিমের প্রকৃত পরিমাণ নিয়ে কিছুটা ভিন্নমত রয়েছে সংগ্রহকারী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মধ্যে। অনেক ডিম সংগ্রহকারীর দাবি, কুয়া ও হ্যাচারিতে বালতি প্রতি যে হিসাব ধরা হয়েছে, বাস্তবে তার সঙ্গে কিছুটা পার্থক্য থাকতে পারে। কারও মতে কেউ এক কেজি পেয়েছেন, কেউ আবার কয়েকশ গ্রাম, আবার কেউ তুলনামূলক বেশি পেয়েছেন।

এ বিষয়ে হাটহাজারীর সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. শওকত আলী জানান, প্রতিটি হ্যাচারি ও কুয়ায় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার উপস্থিতিতেই ডিম সংরক্ষণ ও হিসাব করা হয়েছে। সামান্য পার্থক্য থাকতে পারে, তবে মোট পরিমাণ মোটামুটি সঠিকভাবেই নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, প্রাকৃতিক পরিবেশ অনুকূলে থাকলে আগামী পূর্ণিমায় আরও বড় পরিসরে মা মাছ ডিম ছাড়তে পারে, যা হালদা নদীর জন্য ইতিবাচক একটি সংকেত।

প্রতিবছর এপ্রিল থেকে জুলাই পর্যন্ত সময়কে কার্প জাতীয় মাছের প্রধান প্রজনন মৌসুম হিসেবে ধরা হয়। এই সময় বজ্রসহ বৃষ্টি ও উজানের পানি নামার ফলে হালদা নদীতে প্রাকৃতিকভাবে ডিম ছাড়ে রুই, কাতলা, মৃগেল ও কালিবাউশ মাছ, যা দেশের মৎস্য সম্পদে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সোমবার, ১১ মে ২০২৬


চলছে ডিম থেকে রেণু ফোটানোর প্রক্রিয়া, শুরু হতে পারে বিক্রি

প্রকাশের তারিখ : ০৪ মে ২০২৬

featured Image

চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলারাউজান উপজেলা-ঘেঁষা ঐতিহাসিক হালদা নদী-কে কেন্দ্র করে চলছে কার্প জাতীয় মা মাছের ডিম থেকে রেণু ফোটানোর ব্যস্ত প্রক্রিয়া। দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র প্রাকৃতিক প্রজননক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত এই নদীতে ডিম সংগ্রহের মৌসুমে আবারও প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে।

গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে ডিম সংগ্রহকারীরা সরকারি হ্যাচারি ও মাটির কুয়াগুলোতে টানা কাজ করছেন। রেণু ফোটানোর এই প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে পৌঁছালে আগামী এক–দুই দিনের মধ্যে বাজারে রেণু বিক্রি শুরু হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

জানা গেছে, এবার ২৯ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া তৃতীয় তিথিতে মা মাছ কিছুটা বেশি পরিমাণে ডিম ছেড়েছে। বজ্রসহ বৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল এবং উজান থেকে নেমে আসা পানির কারণে নদীর পানি ঘোলা ও অনুকূলে থাকায় প্রাকৃতিক পরিবেশ ডিম ছাড়ার জন্য সহায়ক হয়ে ওঠে। সাধারণত এমন পরিবেশে কার্প জাতীয় মাছ ডিম ছাড়ে।

ডিম সংগ্রহকারীদের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, নদীর পানির তাপমাত্রা ও অবস্থা অনেক সময় ডিম সংগ্রহের পরিমাণকে প্রভাবিত করে। অনেকেই জানান, ডিম ছাড়ার আগে নদীর পানি কিছুটা উষ্ণ থাকে, কিন্তু এবার পানি তুলনামূলক ঠান্ডা থাকায় অনেক সংগ্রহকারী শুরুতে নদী থেকে উঠে আসেন। পরে ডিম ছাড়ার খবর পেয়ে তারা আবার কাজে ফেরেন, তবে সবাই সমানভাবে ডিম সংগ্রহ করতে পারেননি।

বর্তমানে ডিম সংগ্রহ করা হচ্ছে হাটহাজারীর শাহ মাদারী, মদুনাঘাট, মাছুয়াঘোনা ও রাউজানের মোবারকখীল সরকারি হ্যাচারিসহ বিভিন্ন মাটির কুয়ায়। এসব স্থানে ডিম থেকে রেণু ফোটানোর কাজ চলছে নিরবচ্ছিন্নভাবে।

সরকারি ও বেসরকারি সূত্রে পাওয়া তথ্যে দেখা যায়, এবার মোট ডিম সংগ্রহের পরিমাণ প্রায় ৪ হাজার ৮৫০ কেজি। এর মধ্যে মদুনাঘাট হ্যাচারিতে ৮০০ কেজি, মাছুয়াঘোনা হ্যাচারিতে ৯৭০ কেজি, বাড়িঘোনা মাটির কুয়ায় ৬৫০ কেজি, আইডিএফ মাটির কুয়ায় ৫৯০ কেজি, মোবারকখীল সরকারি হ্যাচারিতে ৩৯০ কেজি এবং অন্যান্য স্থানে বিভিন্ন পরিমাণে ডিম সংগ্রহ হয়েছে।

তবে ডিমের প্রকৃত পরিমাণ নিয়ে কিছুটা ভিন্নমত রয়েছে সংগ্রহকারী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মধ্যে। অনেক ডিম সংগ্রহকারীর দাবি, কুয়া ও হ্যাচারিতে বালতি প্রতি যে হিসাব ধরা হয়েছে, বাস্তবে তার সঙ্গে কিছুটা পার্থক্য থাকতে পারে। কারও মতে কেউ এক কেজি পেয়েছেন, কেউ আবার কয়েকশ গ্রাম, আবার কেউ তুলনামূলক বেশি পেয়েছেন।

এ বিষয়ে হাটহাজারীর সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. শওকত আলী জানান, প্রতিটি হ্যাচারি ও কুয়ায় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার উপস্থিতিতেই ডিম সংরক্ষণ ও হিসাব করা হয়েছে। সামান্য পার্থক্য থাকতে পারে, তবে মোট পরিমাণ মোটামুটি সঠিকভাবেই নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, প্রাকৃতিক পরিবেশ অনুকূলে থাকলে আগামী পূর্ণিমায় আরও বড় পরিসরে মা মাছ ডিম ছাড়তে পারে, যা হালদা নদীর জন্য ইতিবাচক একটি সংকেত।

প্রতিবছর এপ্রিল থেকে জুলাই পর্যন্ত সময়কে কার্প জাতীয় মাছের প্রধান প্রজনন মৌসুম হিসেবে ধরা হয়। এই সময় বজ্রসহ বৃষ্টি ও উজানের পানি নামার ফলে হালদা নদীতে প্রাকৃতিকভাবে ডিম ছাড়ে রুই, কাতলা, মৃগেল ও কালিবাউশ মাছ, যা দেশের মৎস্য সম্পদে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ