দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার বুলাকীপুর ইউনিয়নের কুলানন্দপুর গ্রামের করতোয়া নদীর পাড় এখন স্থানীয়দের কাছে আর সাধারণ নদীপথ নয়, বরং একটি ভয়াবহ ও অঘোষিত জুয়ার কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, মাসের পর মাস এখানে কোটি কোটি টাকার জুয়া চললেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না প্রশাসন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট নদীর দুর্গম তীরকে ব্যবহার করে এই জুয়ার আসর পরিচালনা করছে। প্রতিদিন দুপুরের পর থেকেই শুরু হয় জুয়ার কার্যক্রম। দিনাজপুর, গাইবান্ধা, বগুড়াসহ আশপাশের কয়েকটি জেলা থেকে সিএনজি ও মোটরসাইকেলে করে পেশাদার জুয়াড়িরা এখানে আসেন বলে জানা গেছে।
দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে সিন্ডিকেটের নিয়োগ করা কিছু লোক প্রশাসনের গতিবিধি নজরদারি করে বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে পুলিশ আসার আগেই মূল আয়োজকরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। মাঝে মাঝে অভিযান চালিয়ে কিছু লোককে আটক করা হলেও মূল হোতারা ধরা-ছোঁয়ার বাইরে রয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব অভিযান অনেকটা নিয়ম রক্ষার মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা প্রশ্ন তুলছেন, কেন জুয়ার মূল গডফাদারদের বিরুদ্ধে কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। এতে প্রশাসনের ভেতরে কোনো ধরনের গোপন সমঝোতা বা সুবিধা বিনিময়ের বিষয় রয়েছে কি না, তা নিয়েও জনমনে সন্দেহ তৈরি হয়েছে।
এদিকে এই জুয়ার আসরকে ঘিরে নদীর তীরে নেশার আসরও বসছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে এলাকার তরুণ সমাজ ক্ষতির মুখে পড়ছে। পাশাপাশি চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা বাড়ছে বলেও জানিয়েছেন স্থানীয়রা। প্রতিবাদ করলে উল্টো হুমকি, মামলা বা ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও রয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক প্রবীণ স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, জুয়াড়িরা বিভিন্ন এলাকা থেকে এসে প্রকাশ্যে গ্রামে ঢুকে পড়ে। পুলিশ মাঝেমধ্যে এসে কয়েকজনকে ধরে নিয়ে গেলেও মূল আয়োজকরা সবসময় ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকে।
এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও থানা পুলিশের পক্ষ থেকে বারবার জিরো টলারেন্স নীতির কথা বলা হলেও বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন নেই বলে দাবি করছেন এলাকাবাসী। তারা দ্রুত কার্যকর অভিযান পরিচালনা করে জুয়ার এই অঘোষিত সাম্রাজ্য বন্ধ করার জোর দাবি জানিয়েছেন।

সোমবার, ১১ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৮ মে ২০২৬
দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার বুলাকীপুর ইউনিয়নের কুলানন্দপুর গ্রামের করতোয়া নদীর পাড় এখন স্থানীয়দের কাছে আর সাধারণ নদীপথ নয়, বরং একটি ভয়াবহ ও অঘোষিত জুয়ার কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, মাসের পর মাস এখানে কোটি কোটি টাকার জুয়া চললেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না প্রশাসন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট নদীর দুর্গম তীরকে ব্যবহার করে এই জুয়ার আসর পরিচালনা করছে। প্রতিদিন দুপুরের পর থেকেই শুরু হয় জুয়ার কার্যক্রম। দিনাজপুর, গাইবান্ধা, বগুড়াসহ আশপাশের কয়েকটি জেলা থেকে সিএনজি ও মোটরসাইকেলে করে পেশাদার জুয়াড়িরা এখানে আসেন বলে জানা গেছে।
দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে সিন্ডিকেটের নিয়োগ করা কিছু লোক প্রশাসনের গতিবিধি নজরদারি করে বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে পুলিশ আসার আগেই মূল আয়োজকরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। মাঝে মাঝে অভিযান চালিয়ে কিছু লোককে আটক করা হলেও মূল হোতারা ধরা-ছোঁয়ার বাইরে রয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব অভিযান অনেকটা নিয়ম রক্ষার মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা প্রশ্ন তুলছেন, কেন জুয়ার মূল গডফাদারদের বিরুদ্ধে কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। এতে প্রশাসনের ভেতরে কোনো ধরনের গোপন সমঝোতা বা সুবিধা বিনিময়ের বিষয় রয়েছে কি না, তা নিয়েও জনমনে সন্দেহ তৈরি হয়েছে।
এদিকে এই জুয়ার আসরকে ঘিরে নদীর তীরে নেশার আসরও বসছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে এলাকার তরুণ সমাজ ক্ষতির মুখে পড়ছে। পাশাপাশি চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা বাড়ছে বলেও জানিয়েছেন স্থানীয়রা। প্রতিবাদ করলে উল্টো হুমকি, মামলা বা ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও রয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক প্রবীণ স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, জুয়াড়িরা বিভিন্ন এলাকা থেকে এসে প্রকাশ্যে গ্রামে ঢুকে পড়ে। পুলিশ মাঝেমধ্যে এসে কয়েকজনকে ধরে নিয়ে গেলেও মূল আয়োজকরা সবসময় ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকে।
এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও থানা পুলিশের পক্ষ থেকে বারবার জিরো টলারেন্স নীতির কথা বলা হলেও বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন নেই বলে দাবি করছেন এলাকাবাসী। তারা দ্রুত কার্যকর অভিযান পরিচালনা করে জুয়ার এই অঘোষিত সাম্রাজ্য বন্ধ করার জোর দাবি জানিয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন