ঢাকা    সোমবার, ১১ মে ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

পশ্চিমবঙ্গে ভোটের আগে উত্তেজনা, ইভিএম কারচুপির অভিযোগ


আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ০১ মে ২০২৬

পশ্চিমবঙ্গে ভোটের আগে উত্তেজনা, ইভিএম কারচুপির অভিযোগ

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গণনার আগমুহূর্তে রাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) কারচুপির অভিযোগ তুলে সরব হয়েছে ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেস। এই অভিযোগকে ঘিরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠার মধ্যেই রাতেই ইভিএম সংরক্ষণাগার বা স্ট্রংরুমে উপস্থিত হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী ৪ মে নির্ধারিত ভোট গণনার আগে তৃণমূল কংগ্রেস একটি ভিডিও প্রকাশ করে নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগ তোলে। দলটির দাবি, সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে—কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধির উপস্থিতি ছাড়াই ব্যালট বক্স খোলা হয়েছে, যা গুরুতর নির্বাচনী বিধি লঙ্ঘনের শামিল।

তৃণমূল কংগ্রেস তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে এই ভিডিও প্রকাশ করে অভিযোগ করেছে, এটি ভারতীয় জনতা পার্টি এবং নির্বাচন কমিশনের মধ্যে ‘যোগসাজশে পরিচালিত বড় ধরনের জালিয়াতি’। দলটির নেতারা দাবি করেছেন, এ ধরনের ঘটনা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে এবং ভোটের ফলাফলকে প্রভাবিত করতে পারে।

এই বিতর্কের মধ্যেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি ঘটনাস্থলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি রাতে সাখাওয়াত মেমোরিয়াল হাই স্কুলে অবস্থিত একটি ইভিএম স্ট্রংরুমে পৌঁছান। তার এই পদক্ষেপকে রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ এটি দলের অভিযোগের প্রতি সরাসরি নজরদারির বার্তা দেয়।

এদিকে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এমনিতেই টানটান অবস্থায় রয়েছে। বিভিন্ন এক্সিট পোলের ফলাফল রাজ্যে সম্ভাব্য ক্ষমতার পালাবদলের ইঙ্গিত দিয়েছে। বিশেষ করে ‘টুডেজ চাণক্য’সহ কয়েকটি সংস্থা বিজেপিকে এগিয়ে রেখেছে, যেখানে তাদের সম্ভাব্য আসন সংখ্যা ১৯২ পর্যন্ত হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। বিপরীতে তৃণমূল কংগ্রেস জোটের আসন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে সব জরিপ একই চিত্র দেয়নি। পিপলস পালস ও জনমতসহ কিছু সংস্থা আবার তৃণমূল কংগ্রেসের জয়ের পূর্বাভাস দিয়েছে। ফলে চূড়ান্ত ফলাফল নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।

প্রসঙ্গত, ২৯৪ আসনের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১৪৮টি আসন। ফলে নির্বাচনের ফলাফল যেদিকেই যাক না কেন, তা রাজ্যের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

বিশ্লেষকদের মতে, ভোটের আগে ইভিএম কারচুপির অভিযোগ এবং রাজনৈতিক নেতাদের সরাসরি হস্তক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে। এতে ভোট-পরবর্তী সহিংসতা বা অস্থিরতার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

সব মিলিয়ে, ভোট গণনার আগে পশ্চিমবঙ্গে যে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, তা এখন কেন্দ্রবিন্দুতে। অভিযোগ-প্রতিঅভিযোগের এই পরিস্থিতিতে নজর এখন নির্বাচন কমিশনের পদক্ষেপ এবং ৪ মে ঘোষিত ফলাফলের দিকে, যা নির্ধারণ করবে রাজ্যের ক্ষমতার পালাবদল ঘটবে, নাকি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আবারও ক্ষমতায় ফিরবেন।

বিষয় : পশ্চিমবঙ্গ

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সোমবার, ১১ মে ২০২৬


পশ্চিমবঙ্গে ভোটের আগে উত্তেজনা, ইভিএম কারচুপির অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ০১ মে ২০২৬

featured Image

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গণনার আগমুহূর্তে রাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) কারচুপির অভিযোগ তুলে সরব হয়েছে ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেস। এই অভিযোগকে ঘিরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠার মধ্যেই রাতেই ইভিএম সংরক্ষণাগার বা স্ট্রংরুমে উপস্থিত হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী ৪ মে নির্ধারিত ভোট গণনার আগে তৃণমূল কংগ্রেস একটি ভিডিও প্রকাশ করে নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগ তোলে। দলটির দাবি, সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে—কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধির উপস্থিতি ছাড়াই ব্যালট বক্স খোলা হয়েছে, যা গুরুতর নির্বাচনী বিধি লঙ্ঘনের শামিল।

তৃণমূল কংগ্রেস তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে এই ভিডিও প্রকাশ করে অভিযোগ করেছে, এটি ভারতীয় জনতা পার্টি এবং নির্বাচন কমিশনের মধ্যে ‘যোগসাজশে পরিচালিত বড় ধরনের জালিয়াতি’। দলটির নেতারা দাবি করেছেন, এ ধরনের ঘটনা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে এবং ভোটের ফলাফলকে প্রভাবিত করতে পারে।

এই বিতর্কের মধ্যেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি ঘটনাস্থলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি রাতে সাখাওয়াত মেমোরিয়াল হাই স্কুলে অবস্থিত একটি ইভিএম স্ট্রংরুমে পৌঁছান। তার এই পদক্ষেপকে রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ এটি দলের অভিযোগের প্রতি সরাসরি নজরদারির বার্তা দেয়।

এদিকে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এমনিতেই টানটান অবস্থায় রয়েছে। বিভিন্ন এক্সিট পোলের ফলাফল রাজ্যে সম্ভাব্য ক্ষমতার পালাবদলের ইঙ্গিত দিয়েছে। বিশেষ করে ‘টুডেজ চাণক্য’সহ কয়েকটি সংস্থা বিজেপিকে এগিয়ে রেখেছে, যেখানে তাদের সম্ভাব্য আসন সংখ্যা ১৯২ পর্যন্ত হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। বিপরীতে তৃণমূল কংগ্রেস জোটের আসন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে সব জরিপ একই চিত্র দেয়নি। পিপলস পালস ও জনমতসহ কিছু সংস্থা আবার তৃণমূল কংগ্রেসের জয়ের পূর্বাভাস দিয়েছে। ফলে চূড়ান্ত ফলাফল নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।

প্রসঙ্গত, ২৯৪ আসনের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১৪৮টি আসন। ফলে নির্বাচনের ফলাফল যেদিকেই যাক না কেন, তা রাজ্যের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

বিশ্লেষকদের মতে, ভোটের আগে ইভিএম কারচুপির অভিযোগ এবং রাজনৈতিক নেতাদের সরাসরি হস্তক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে। এতে ভোট-পরবর্তী সহিংসতা বা অস্থিরতার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

সব মিলিয়ে, ভোট গণনার আগে পশ্চিমবঙ্গে যে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, তা এখন কেন্দ্রবিন্দুতে। অভিযোগ-প্রতিঅভিযোগের এই পরিস্থিতিতে নজর এখন নির্বাচন কমিশনের পদক্ষেপ এবং ৪ মে ঘোষিত ফলাফলের দিকে, যা নির্ধারণ করবে রাজ্যের ক্ষমতার পালাবদল ঘটবে, নাকি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আবারও ক্ষমতায় ফিরবেন।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ