ঢাকা    সোমবার, ১১ মে ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

পশ্চিমবঙ্গে পালাবদলের ইঙ্গিত, নাকি ফিরছেন মমতা


আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ০১ মে ২০২৬

পশ্চিমবঙ্গে পালাবদলের ইঙ্গিত, নাকি ফিরছেন মমতা

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা নতুন মাত্রা পেয়েছে বিভিন্ন এক্সিট পোল প্রকাশের পর। কোথাও ক্ষমতার পালাবদলের ইঙ্গিত, আবার কোথাও ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেস-এর প্রত্যাবর্তনের পূর্বাভাস—এই দ্বৈত চিত্রে রাজ্যজুড়ে আলোচনা তুঙ্গে।

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জরিপকারী প্রতিষ্ঠান ‘টুডেজ চাণক্য’-র বিশ্লেষণে রাজ্যে ভারতীয় জনতা পার্টি-এর বড় ব্যবধানে এগিয়ে থাকার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। তাদের হিসাবে, বিজেপি প্রায় ১৯২টি আসন পেতে পারে, যা সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার অনেক ওপরে। বিপরীতে তৃণমূল কংগ্রেস জোটের আসন কমে দাঁড়াতে পারে ১০০ ± ১১-এ, ভোটের হার প্রায় ৩৮ শতাংশ।

এই পূর্বাভাস অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যে ক্ষমতায় থাকা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের জন্য বড় ধরনের ধাক্কার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। অন্যদিকে ছোট দলগুলোর উপস্থিতি প্রায় বিলীন হয়ে যেতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে, যেখানে অন্যান্য দল মিলিয়ে মাত্র ২ ± ২টি আসন পেতে পারে।

তবে সব এক্সিট পোল একই চিত্র তুলে ধরেনি। পিপলস পালস ও জনমত নামের দুটি সংস্থা উল্টো পূর্বাভাস দিয়ে বলেছে, তৃণমূল কংগ্রেসই আবারও ক্ষমতায় ফিরতে পারে। পিপলস পালসের হিসাবে টিএমসি পেতে পারে ১৭৭-১৮৭ আসন, আর বিজেপি ৯৫-১১০। জনমতের পূর্বাভাসে টিএমসি আরও এগিয়ে, যেখানে তাদের সম্ভাব্য আসন ১৯৫-২০৫ এবং বিজেপি জোট ৮০-৯০ আসনে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে।

অন্য জরিপগুলোতে অবশ্য বিজেপির এগিয়ে থাকার প্রবণতাই বেশি দেখা গেছে। ম্যাট্রাইজ, পি-মার্ক, পোল ডায়েরি ও প্রজা পোলের মতো সংস্থাগুলো বিজেপিকে সংখ্যাগরিষ্ঠতার কাছাকাছি বা তার ওপরে দেখিয়েছে। এর মধ্যে প্রজা পোল সবচেয়ে বেশি আসন দিয়েছে বিজেপিকে—১৭৮ থেকে ২০৮টির মধ্যে।

প্রসঙ্গত, ২৯৪ আসনের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১৪৮টি আসন। ফলে বেশিরভাগ জরিপে বিজেপির সম্ভাব্য সংখ্যাগরিষ্ঠতা রাজনৈতিক পালাবদলের জোরালো ইঙ্গিত দিচ্ছে, যদিও চূড়ান্ত ফলাফলের আগে এই পূর্বাভাসকে সতর্কতার সঙ্গে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা।

এবারের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতিও ছিল নজিরবিহীন। দুই দফায় অনুষ্ঠিত ভোটে অংশগ্রহণের হার ছিল যথাক্রমে ৯৩.১৯ শতাংশ ও ৯২.৬৭ শতাংশ, যা স্বাধীনতার পর সর্বোচ্চ বলে দাবি করা হচ্ছে। এই বিপুল অংশগ্রহণ ফলাফলের ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

এদিকে জাতীয় পর্যায়ে অন্যান্য রাজ্যের চিত্রও সামনে এসেছে। তামিলনাড়ুতে ডিএমকে নেতৃত্বাধীন জোট পুনরায় ক্ষমতায় ফিরতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যদিও নতুন রাজনৈতিক শক্তির উত্থান সেখানে আলোচনায় রয়েছে। কেরালায় ঐতিহ্যগত পালাবদলের ধারাবাহিকতায় কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ এগিয়ে থাকতে পারে, আর আসামে বিজেপি তাদের শক্ত অবস্থান ধরে রাখতে পারে বলে পূর্বাভাসে বলা হয়েছে।

সব মিলিয়ে, পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী লড়াইয়ে চূড়ান্ত ফলাফল নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। এক্সিট পোলগুলো ভিন্ন ভিন্ন চিত্র তুলে ধরায় এখন নজর রয়েছে ভোট গণনার দিকে, যা নির্ধারণ করবে রাজ্যের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কোন পথে এগোবে।

বিষয় : পশ্চিমবঙ্গ

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সোমবার, ১১ মে ২০২৬


পশ্চিমবঙ্গে পালাবদলের ইঙ্গিত, নাকি ফিরছেন মমতা

প্রকাশের তারিখ : ০১ মে ২০২৬

featured Image

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা নতুন মাত্রা পেয়েছে বিভিন্ন এক্সিট পোল প্রকাশের পর। কোথাও ক্ষমতার পালাবদলের ইঙ্গিত, আবার কোথাও ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেস-এর প্রত্যাবর্তনের পূর্বাভাস—এই দ্বৈত চিত্রে রাজ্যজুড়ে আলোচনা তুঙ্গে।

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জরিপকারী প্রতিষ্ঠান ‘টুডেজ চাণক্য’-র বিশ্লেষণে রাজ্যে ভারতীয় জনতা পার্টি-এর বড় ব্যবধানে এগিয়ে থাকার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। তাদের হিসাবে, বিজেপি প্রায় ১৯২টি আসন পেতে পারে, যা সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার অনেক ওপরে। বিপরীতে তৃণমূল কংগ্রেস জোটের আসন কমে দাঁড়াতে পারে ১০০ ± ১১-এ, ভোটের হার প্রায় ৩৮ শতাংশ।

এই পূর্বাভাস অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যে ক্ষমতায় থাকা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের জন্য বড় ধরনের ধাক্কার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। অন্যদিকে ছোট দলগুলোর উপস্থিতি প্রায় বিলীন হয়ে যেতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে, যেখানে অন্যান্য দল মিলিয়ে মাত্র ২ ± ২টি আসন পেতে পারে।

তবে সব এক্সিট পোল একই চিত্র তুলে ধরেনি। পিপলস পালস ও জনমত নামের দুটি সংস্থা উল্টো পূর্বাভাস দিয়ে বলেছে, তৃণমূল কংগ্রেসই আবারও ক্ষমতায় ফিরতে পারে। পিপলস পালসের হিসাবে টিএমসি পেতে পারে ১৭৭-১৮৭ আসন, আর বিজেপি ৯৫-১১০। জনমতের পূর্বাভাসে টিএমসি আরও এগিয়ে, যেখানে তাদের সম্ভাব্য আসন ১৯৫-২০৫ এবং বিজেপি জোট ৮০-৯০ আসনে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে।

অন্য জরিপগুলোতে অবশ্য বিজেপির এগিয়ে থাকার প্রবণতাই বেশি দেখা গেছে। ম্যাট্রাইজ, পি-মার্ক, পোল ডায়েরি ও প্রজা পোলের মতো সংস্থাগুলো বিজেপিকে সংখ্যাগরিষ্ঠতার কাছাকাছি বা তার ওপরে দেখিয়েছে। এর মধ্যে প্রজা পোল সবচেয়ে বেশি আসন দিয়েছে বিজেপিকে—১৭৮ থেকে ২০৮টির মধ্যে।

প্রসঙ্গত, ২৯৪ আসনের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১৪৮টি আসন। ফলে বেশিরভাগ জরিপে বিজেপির সম্ভাব্য সংখ্যাগরিষ্ঠতা রাজনৈতিক পালাবদলের জোরালো ইঙ্গিত দিচ্ছে, যদিও চূড়ান্ত ফলাফলের আগে এই পূর্বাভাসকে সতর্কতার সঙ্গে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা।

এবারের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতিও ছিল নজিরবিহীন। দুই দফায় অনুষ্ঠিত ভোটে অংশগ্রহণের হার ছিল যথাক্রমে ৯৩.১৯ শতাংশ ও ৯২.৬৭ শতাংশ, যা স্বাধীনতার পর সর্বোচ্চ বলে দাবি করা হচ্ছে। এই বিপুল অংশগ্রহণ ফলাফলের ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

এদিকে জাতীয় পর্যায়ে অন্যান্য রাজ্যের চিত্রও সামনে এসেছে। তামিলনাড়ুতে ডিএমকে নেতৃত্বাধীন জোট পুনরায় ক্ষমতায় ফিরতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যদিও নতুন রাজনৈতিক শক্তির উত্থান সেখানে আলোচনায় রয়েছে। কেরালায় ঐতিহ্যগত পালাবদলের ধারাবাহিকতায় কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ এগিয়ে থাকতে পারে, আর আসামে বিজেপি তাদের শক্ত অবস্থান ধরে রাখতে পারে বলে পূর্বাভাসে বলা হয়েছে।

সব মিলিয়ে, পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী লড়াইয়ে চূড়ান্ত ফলাফল নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। এক্সিট পোলগুলো ভিন্ন ভিন্ন চিত্র তুলে ধরায় এখন নজর রয়েছে ভোট গণনার দিকে, যা নির্ধারণ করবে রাজ্যের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কোন পথে এগোবে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ