ঢাকা    সোমবার, ১১ মে ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

বাংলাদেশি দুই শিক্ষার্থী হত্যাকাণ্ড: তদন্তে চ্যাটজিপিটি ব্যবহার ইস্যু


আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ২৯ এপ্রিল ২০২৬

বাংলাদেশি দুই শিক্ষার্থী হত্যাকাণ্ড: তদন্তে চ্যাটজিপিটি ব্যবহার ইস্যু

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী হত্যাকাণ্ডে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাটবট চ্যাটজিপিটির সম্ভাব্য ব্যবহার নিয়ে নতুন করে তদন্ত শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মের ভূমিকা কতটা হতে পারে—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে ফ্লোরিডার অ্যাটর্নি জেনারেল দপ্তর।

স্থানীয় সময় সোমবার (২৭ এপ্রিল) অ্যাটর্নি জেনারেল জেমস উথমেয়াইর জানান, ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার (ইউএসএফ) এই দ্বৈত হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে চলমান তদন্তের পরিধি বাড়ানো হয়েছে। তদন্তকারীরা এখন প্রযুক্তির সম্ভাব্য অপব্যবহার এবং অপরাধ পরিকল্পনায় এর ভূমিকা বিশ্লেষণ করছেন।

ঘটনায় অভিযুক্ত ২৬ বছর বয়সী হিশাম আবুঘারবিয়েহ। তার বিরুদ্ধে নিজের রুমমেট জামিল লিমন ও বন্ধু নাহিদা বৃষ্টি—দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থীকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। নিহতদের বয়স ছিল ২৭ বছর। পুলিশ জানায়, গত ১৬ এপ্রিল তাদের শেষবার জীবিত দেখা যায়।

পরে তদন্তে লিমনের মরদেহ একাধিক প্লাস্টিক ব্যাগে ভরে ফেলে দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়। আরেকজনের মরদেহের খণ্ডিত অংশ কাছের একটি জলাশয় থেকে উদ্ধার করা হলেও সেটির পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী কমিউনিটিতে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি করেছে।

আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ঘটনার কয়েক দিন আগে সন্দেহভাজন ব্যক্তি চ্যাটজিপিটিতে একাধিক প্রশ্ন করেন। এর মধ্যে ছিল—কীভাবে কাউকে গোপনে প্লাস্টিক ব্যাগে লুকিয়ে ফেলা যায়, “নিখোঁজ ঝুঁকিপূর্ণ প্রাপ্তবয়স্ক” বলতে কী বোঝায়, এবং আগ্নেয়াস্ত্র বা গাড়ির পরিচয়সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশ্ন। তদন্তকারীদের মতে, এসব প্রশ্ন অপরাধ পরিকল্পনার ইঙ্গিত দিতে পারে।

এই তথ্যের ভিত্তিতে কর্তৃপক্ষ মনে করছে, অপরাধ পরিকল্পনায় প্রযুক্তির সম্ভাব্য ব্যবহার থাকতে পারে। এ কারণে ওপেনএআইয়ের ভূমিকা এবং এআই প্ল্যাটফর্মের দায়বদ্ধতা নিয়ে তদন্ত সম্প্রসারণ করা হয়েছে।

অ্যাটর্নি জেনারেল জেমস উথমেয়াইর সামাজিক মাধ্যমে বলেন, “প্রধান সন্দেহভাজন চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করেছেন—এই তথ্যের পর আমরা ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে তদন্ত আরও বিস্তৃত করছি।”

তবে ওপেনএআই এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এটি একটি ভয়াবহ ও মর্মান্তিক ঘটনা। প্রতিষ্ঠানটি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে। একই সঙ্গে তারা বলেছে, তদন্তে প্রয়োজনীয় সব ধরনের তথ্য দিয়ে সহায়তা করা হবে।

বর্তমানে অভিযুক্ত ব্যক্তি জামিন ছাড়া আটক রয়েছেন এবং তার বিরুদ্ধে পূর্বপরিকল্পিত (ফার্স্ট-ডিগ্রি) হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নৈতিক ব্যবহার এবং এর আইনি দায়বদ্ধতা নিয়ে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। প্রযুক্তি অপরাধে সহায়ক ভূমিকা রাখলে তার নিয়ন্ত্রণ ও জবাবদিহি কীভাবে নির্ধারিত হবে—এ প্রশ্ন এখন আইন ও প্রযুক্তি মহলে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

বিষয় : বাংলাদেশি দুই শিক্ষার্থী হত্যাকাণ্ড

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সোমবার, ১১ মে ২০২৬


বাংলাদেশি দুই শিক্ষার্থী হত্যাকাণ্ড: তদন্তে চ্যাটজিপিটি ব্যবহার ইস্যু

প্রকাশের তারিখ : ২৯ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী হত্যাকাণ্ডে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাটবট চ্যাটজিপিটির সম্ভাব্য ব্যবহার নিয়ে নতুন করে তদন্ত শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মের ভূমিকা কতটা হতে পারে—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে ফ্লোরিডার অ্যাটর্নি জেনারেল দপ্তর।

স্থানীয় সময় সোমবার (২৭ এপ্রিল) অ্যাটর্নি জেনারেল জেমস উথমেয়াইর জানান, ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার (ইউএসএফ) এই দ্বৈত হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে চলমান তদন্তের পরিধি বাড়ানো হয়েছে। তদন্তকারীরা এখন প্রযুক্তির সম্ভাব্য অপব্যবহার এবং অপরাধ পরিকল্পনায় এর ভূমিকা বিশ্লেষণ করছেন।

ঘটনায় অভিযুক্ত ২৬ বছর বয়সী হিশাম আবুঘারবিয়েহ। তার বিরুদ্ধে নিজের রুমমেট জামিল লিমন ও বন্ধু নাহিদা বৃষ্টি—দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থীকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। নিহতদের বয়স ছিল ২৭ বছর। পুলিশ জানায়, গত ১৬ এপ্রিল তাদের শেষবার জীবিত দেখা যায়।

পরে তদন্তে লিমনের মরদেহ একাধিক প্লাস্টিক ব্যাগে ভরে ফেলে দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়। আরেকজনের মরদেহের খণ্ডিত অংশ কাছের একটি জলাশয় থেকে উদ্ধার করা হলেও সেটির পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী কমিউনিটিতে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি করেছে।

আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ঘটনার কয়েক দিন আগে সন্দেহভাজন ব্যক্তি চ্যাটজিপিটিতে একাধিক প্রশ্ন করেন। এর মধ্যে ছিল—কীভাবে কাউকে গোপনে প্লাস্টিক ব্যাগে লুকিয়ে ফেলা যায়, “নিখোঁজ ঝুঁকিপূর্ণ প্রাপ্তবয়স্ক” বলতে কী বোঝায়, এবং আগ্নেয়াস্ত্র বা গাড়ির পরিচয়সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশ্ন। তদন্তকারীদের মতে, এসব প্রশ্ন অপরাধ পরিকল্পনার ইঙ্গিত দিতে পারে।

এই তথ্যের ভিত্তিতে কর্তৃপক্ষ মনে করছে, অপরাধ পরিকল্পনায় প্রযুক্তির সম্ভাব্য ব্যবহার থাকতে পারে। এ কারণে ওপেনএআইয়ের ভূমিকা এবং এআই প্ল্যাটফর্মের দায়বদ্ধতা নিয়ে তদন্ত সম্প্রসারণ করা হয়েছে।

অ্যাটর্নি জেনারেল জেমস উথমেয়াইর সামাজিক মাধ্যমে বলেন, “প্রধান সন্দেহভাজন চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করেছেন—এই তথ্যের পর আমরা ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে তদন্ত আরও বিস্তৃত করছি।”

তবে ওপেনএআই এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এটি একটি ভয়াবহ ও মর্মান্তিক ঘটনা। প্রতিষ্ঠানটি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে। একই সঙ্গে তারা বলেছে, তদন্তে প্রয়োজনীয় সব ধরনের তথ্য দিয়ে সহায়তা করা হবে।

বর্তমানে অভিযুক্ত ব্যক্তি জামিন ছাড়া আটক রয়েছেন এবং তার বিরুদ্ধে পূর্বপরিকল্পিত (ফার্স্ট-ডিগ্রি) হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নৈতিক ব্যবহার এবং এর আইনি দায়বদ্ধতা নিয়ে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। প্রযুক্তি অপরাধে সহায়ক ভূমিকা রাখলে তার নিয়ন্ত্রণ ও জবাবদিহি কীভাবে নির্ধারিত হবে—এ প্রশ্ন এখন আইন ও প্রযুক্তি মহলে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ