ঢাকা    সোমবার, ১১ মে ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

জাতিসংঘের এনপিটি সম্মেলনে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ পদে মনোনয়ন


আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ২৯ এপ্রিল ২০২৬

জাতিসংঘের এনপিটি সম্মেলনে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ পদে মনোনয়ন

জাতিসংঘের পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (এনপিটি) পর্যালোচনার ১১তম সম্মেলনে ইরানের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে মনোনয়ন ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে তীব্র বাকযুদ্ধ সৃষ্টি হয়েছে। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে শুরু হওয়া মাসব্যাপী এই সম্মেলনে ইরানের অংশগ্রহণ ও ভূমিকা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

১৯৭০ সালে কার্যকর হওয়া এনপিটি চুক্তির বাস্তবায়ন পর্যালোচনার অংশ হিসেবে আয়োজিত এ সম্মেলনে বিভিন্ন আঞ্চলিক গ্রুপ ৩৪ জন সহ-সভাপতি মনোনীত করে। সম্মেলনের সভাপতির দায়িত্বে থাকা ভিয়েতনামের জাতিসংঘ রাষ্ট্রদূত দো হুং ভিয়েত জানান, নিরপেক্ষ জোটভুক্ত দেশগুলোর পাশাপাশি অন্যান্য আঞ্চলিক গ্রুপ থেকেও প্রতিনিধি নির্বাচিত করা হয়েছে, যেখানে ইরানও স্থান পেয়েছে।

ইরানের এই মনোনয়নকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ও নিরস্ত্রীকরণ ব্যুরোর সহকারী সচিব ক্রিস্টোফার ইয়াও সম্মেলনে বলেন, ইরানকে এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে অন্তর্ভুক্ত করা এনপিটির মূল উদ্দেশ্যের পরিপন্থী এবং এটি চুক্তির প্রতি অবমাননাকর সিদ্ধান্ত। তার মতে, দীর্ঘদিন ধরে ইরান এনপিটির অধীনে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো যথাযথভাবে মানছে না এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার সঙ্গে সহযোগিতার ক্ষেত্রেও ঘাটতি রয়েছে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ থাকা সত্ত্বেও দেশটি পর্যবেক্ষণ সংস্থার সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ সহযোগিতা করতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে, যা বৈশ্বিক পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করছে। যুক্তরাষ্ট্রের মতে, এমন পরিস্থিতিতে ইরানকে সম্মেলনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় রাখা হলে তা পুরো প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

অন্যদিকে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের এসব অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত রেজা নাজাফি বলেন, বিশ্বের একমাত্র দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রই পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করেছে এবং এখনো তাদের অস্ত্রভাণ্ডার আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ অব্যাহত রেখেছে। এমন অবস্থায় তাদের নৈতিক কর্তৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলাই স্বাভাবিক।

তিনি আরও বলেন, ইরানের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচি আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় পরিচালিত হচ্ছে এবং দেশের অধিকার ক্ষুণ্ন করার কোনো প্রচেষ্টাই গ্রহণযোগ্য নয়। যুক্তরাষ্ট্র রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগ করে ইরানকে লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

এদিকে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে পারমাণবিক ইস্যুটি আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ও বর্তমান রাজনৈতিক নেতৃত্ব ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখার বিষয়ে কঠোর অবস্থান বজায় রেখেছে। একই সময়ে ইরান দাবি করছে, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার তাদের বৈধ অধিকার।

সংঘাত নিরসনে ইরান সম্প্রতি একটি নতুন প্রস্তাবও দিয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে, উপসাগরীয় অঞ্চলের জাহাজ চলাচল সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি এবং সামরিক উত্তেজনা কমানো না পর্যন্ত পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা স্থগিত রাখা উচিত।

বিশ্লেষকদের মতে, এনপিটি সম্মেলনে ইরানের ভূমিকা নিয়ে এই বিতর্ক আন্তর্জাতিক পারমাণবিক কূটনীতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান অবিশ্বাস ভবিষ্যতে বৈশ্বিক পারমাণবিক নিরাপত্তা আলোচনাকে প্রভাবিত করতে পারে।

বিষয় : ইরান

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সোমবার, ১১ মে ২০২৬


জাতিসংঘের এনপিটি সম্মেলনে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ পদে মনোনয়ন

প্রকাশের তারিখ : ২৯ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

জাতিসংঘের পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (এনপিটি) পর্যালোচনার ১১তম সম্মেলনে ইরানের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে মনোনয়ন ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে তীব্র বাকযুদ্ধ সৃষ্টি হয়েছে। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে শুরু হওয়া মাসব্যাপী এই সম্মেলনে ইরানের অংশগ্রহণ ও ভূমিকা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

১৯৭০ সালে কার্যকর হওয়া এনপিটি চুক্তির বাস্তবায়ন পর্যালোচনার অংশ হিসেবে আয়োজিত এ সম্মেলনে বিভিন্ন আঞ্চলিক গ্রুপ ৩৪ জন সহ-সভাপতি মনোনীত করে। সম্মেলনের সভাপতির দায়িত্বে থাকা ভিয়েতনামের জাতিসংঘ রাষ্ট্রদূত দো হুং ভিয়েত জানান, নিরপেক্ষ জোটভুক্ত দেশগুলোর পাশাপাশি অন্যান্য আঞ্চলিক গ্রুপ থেকেও প্রতিনিধি নির্বাচিত করা হয়েছে, যেখানে ইরানও স্থান পেয়েছে।

ইরানের এই মনোনয়নকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ও নিরস্ত্রীকরণ ব্যুরোর সহকারী সচিব ক্রিস্টোফার ইয়াও সম্মেলনে বলেন, ইরানকে এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে অন্তর্ভুক্ত করা এনপিটির মূল উদ্দেশ্যের পরিপন্থী এবং এটি চুক্তির প্রতি অবমাননাকর সিদ্ধান্ত। তার মতে, দীর্ঘদিন ধরে ইরান এনপিটির অধীনে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো যথাযথভাবে মানছে না এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার সঙ্গে সহযোগিতার ক্ষেত্রেও ঘাটতি রয়েছে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ থাকা সত্ত্বেও দেশটি পর্যবেক্ষণ সংস্থার সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ সহযোগিতা করতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে, যা বৈশ্বিক পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করছে। যুক্তরাষ্ট্রের মতে, এমন পরিস্থিতিতে ইরানকে সম্মেলনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় রাখা হলে তা পুরো প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

অন্যদিকে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের এসব অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত রেজা নাজাফি বলেন, বিশ্বের একমাত্র দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রই পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করেছে এবং এখনো তাদের অস্ত্রভাণ্ডার আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ অব্যাহত রেখেছে। এমন অবস্থায় তাদের নৈতিক কর্তৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলাই স্বাভাবিক।

তিনি আরও বলেন, ইরানের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচি আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় পরিচালিত হচ্ছে এবং দেশের অধিকার ক্ষুণ্ন করার কোনো প্রচেষ্টাই গ্রহণযোগ্য নয়। যুক্তরাষ্ট্র রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগ করে ইরানকে লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

এদিকে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে পারমাণবিক ইস্যুটি আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ও বর্তমান রাজনৈতিক নেতৃত্ব ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখার বিষয়ে কঠোর অবস্থান বজায় রেখেছে। একই সময়ে ইরান দাবি করছে, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার তাদের বৈধ অধিকার।

সংঘাত নিরসনে ইরান সম্প্রতি একটি নতুন প্রস্তাবও দিয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে, উপসাগরীয় অঞ্চলের জাহাজ চলাচল সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি এবং সামরিক উত্তেজনা কমানো না পর্যন্ত পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা স্থগিত রাখা উচিত।

বিশ্লেষকদের মতে, এনপিটি সম্মেলনে ইরানের ভূমিকা নিয়ে এই বিতর্ক আন্তর্জাতিক পারমাণবিক কূটনীতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান অবিশ্বাস ভবিষ্যতে বৈশ্বিক পারমাণবিক নিরাপত্তা আলোচনাকে প্রভাবিত করতে পারে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ