ব্যাপক ভোটার অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম ধাপের ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। বিচ্ছিন্ন সহিংসতা, হামলা ও উত্তেজনার অভিযোগ থাকলেও ভোটার উপস্থিতির হার নজির গড়েছে। ভারতের নির্বাচন কমিশনের প্রাথমিক হিসাবে বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত এ ভোটে অংশগ্রহণের হার দাঁড়িয়েছে ৯১ দশমিক ৮৩ শতাংশ, যা স্বাধীনতার পর সর্বোচ্চ বলে দাবি করা হয়েছে।
প্রথম ধাপে রাজ্যের ২৯৪ সদস্যের বিধানসভার ১৫২টি আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এসব আসনে মোট ১ হাজার ৪৭৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর রাত ৮টা পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে কমিশন এ উপস্থিতির হার প্রকাশ করে। চূড়ান্ত হিসাব পরে জানানো হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
জেলাভিত্তিক হিসাবে দক্ষিণ দিনাজপুরে সবচেয়ে বেশি ভোট পড়েছে। সেখানে ভোটার উপস্থিতির হার ৯৪ দশমিক ৮৫ শতাংশ। এরপর কুচবিহারে ৯৪ দশমিক ৫৪ শতাংশ এবং বীরভূমে ৯৩ দশমিক ৭ শতাংশ ভোট পড়েছে। প্রথম ধাপে ভোট হওয়া ১৬ জেলার প্রায় সবকটিতেই অংশগ্রহণের হার ৮২ শতাংশের বেশি ছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই নির্বাচনে উচ্চ ভোটার উপস্থিতির সংস্কৃতি রয়েছে। তবে এবারের ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা, রাজনৈতিক মেরুকরণ এবং ক্ষমতা ধরে রাখার লড়াই ভোটারদের আরও বেশি সক্রিয় করেছে। বিশেষ করে গ্রামীণ ও সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে ভোটকেন্দ্রগুলোতে সকাল থেকেই দীর্ঘ লাইন দেখা যায়।
ভোটগ্রহণ চলাকালে বিভিন্ন স্থানে সহিংসতা ও উত্তেজনার খবরও পাওয়া গেছে। পুলিশ জানিয়েছে, আসানসোল দক্ষিণ আসনে বিজেপি প্রার্থী অগ্নিমিত্রা পলের গাড়িতে রহমান নগরের কাছে পাথর নিক্ষেপ করা হয়। এতে গাড়ির পেছনের কাচ ভেঙে যায়। ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা মোতায়েন করা হয়।
কুমারগঞ্জে বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু সরকার অভিযোগ করেছেন, তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীরা তার ওপর হামলা চালিয়েছে এবং তার গাড়ি ভাঙচুর করেছে। যদিও এ অভিযোগের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে তৃণমূল কংগ্রেসের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
মুর্শিদাবাদেও উত্তেজনা ছড়ায়। সেখানে তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীরা স্লোগান দিতে দিতে এলাকায় আসা আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রতিষ্ঠাতা হুমায়ুন কবিরকে ঘিরে ফেলে। এ সময় পুলিশ ও দলীয় কর্মীদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। একই জেলার ডোমকলে কয়েকজন ভোটারকে ভোট দিতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এসব ঘটনায় নির্বাচন কমিশন স্থানীয় কর্মকর্তাদের কাছে প্রতিবেদন চেয়েছে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাডুতে অনুষ্ঠিত ভোটে ব্যাপক অংশগ্রহণের প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর দুই রাজ্যেই এবার সর্বোচ্চ ভোটের হার দেখা গেছে। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ ইতিবাচক বার্তা বহন করে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
পশ্চিমবঙ্গের এ নির্বাচনকে ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক রাজনৈতিক লড়াই হিসেবে দেখা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস টানা ক্ষমতা ধরে রাখার চ্যালেঞ্জে রয়েছে। অন্যদিকে বিজেপি রাজ্যে নিজেদের শক্ত অবস্থান গড়ে তুলতে সর্বশক্তি নিয়োগ করেছে। বাম ও কংগ্রেস জোটও কয়েকটি অঞ্চলে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে।
দ্বিতীয় ধাপে আগামী ২৯ এপ্রিল কলকাতা ও আশপাশের ১৪২টি আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এরপর আগামী ৪ মে ভোট গণনার মাধ্যমে ফল ঘোষণা করা হবে। প্রথম ধাপের বিপুল ভোটার উপস্থিতি দেখে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, পরবর্তী ধাপগুলোতেও উচ্চ অংশগ্রহণ অব্যাহত থাকতে পারে।
সহিংসতার অভিযোগ থাকলেও প্রথম ধাপের ভোটে সাধারণ মানুষের ব্যাপক সাড়া প্রমাণ করেছে, রাজনৈতিক উত্তাপের মধ্যেও পশ্চিমবঙ্গের ভোটাররা নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে আগ্রহী। রেকর্ড উপস্থিতি সেই বার্তাই নতুন করে সামনে এনেছে।
#আর
বিষয় : পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচন

সোমবার, ১১ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ এপ্রিল ২০২৬
ব্যাপক ভোটার অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম ধাপের ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। বিচ্ছিন্ন সহিংসতা, হামলা ও উত্তেজনার অভিযোগ থাকলেও ভোটার উপস্থিতির হার নজির গড়েছে। ভারতের নির্বাচন কমিশনের প্রাথমিক হিসাবে বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত এ ভোটে অংশগ্রহণের হার দাঁড়িয়েছে ৯১ দশমিক ৮৩ শতাংশ, যা স্বাধীনতার পর সর্বোচ্চ বলে দাবি করা হয়েছে।
প্রথম ধাপে রাজ্যের ২৯৪ সদস্যের বিধানসভার ১৫২টি আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এসব আসনে মোট ১ হাজার ৪৭৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর রাত ৮টা পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে কমিশন এ উপস্থিতির হার প্রকাশ করে। চূড়ান্ত হিসাব পরে জানানো হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
জেলাভিত্তিক হিসাবে দক্ষিণ দিনাজপুরে সবচেয়ে বেশি ভোট পড়েছে। সেখানে ভোটার উপস্থিতির হার ৯৪ দশমিক ৮৫ শতাংশ। এরপর কুচবিহারে ৯৪ দশমিক ৫৪ শতাংশ এবং বীরভূমে ৯৩ দশমিক ৭ শতাংশ ভোট পড়েছে। প্রথম ধাপে ভোট হওয়া ১৬ জেলার প্রায় সবকটিতেই অংশগ্রহণের হার ৮২ শতাংশের বেশি ছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই নির্বাচনে উচ্চ ভোটার উপস্থিতির সংস্কৃতি রয়েছে। তবে এবারের ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা, রাজনৈতিক মেরুকরণ এবং ক্ষমতা ধরে রাখার লড়াই ভোটারদের আরও বেশি সক্রিয় করেছে। বিশেষ করে গ্রামীণ ও সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে ভোটকেন্দ্রগুলোতে সকাল থেকেই দীর্ঘ লাইন দেখা যায়।
ভোটগ্রহণ চলাকালে বিভিন্ন স্থানে সহিংসতা ও উত্তেজনার খবরও পাওয়া গেছে। পুলিশ জানিয়েছে, আসানসোল দক্ষিণ আসনে বিজেপি প্রার্থী অগ্নিমিত্রা পলের গাড়িতে রহমান নগরের কাছে পাথর নিক্ষেপ করা হয়। এতে গাড়ির পেছনের কাচ ভেঙে যায়। ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা মোতায়েন করা হয়।
কুমারগঞ্জে বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু সরকার অভিযোগ করেছেন, তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীরা তার ওপর হামলা চালিয়েছে এবং তার গাড়ি ভাঙচুর করেছে। যদিও এ অভিযোগের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে তৃণমূল কংগ্রেসের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
মুর্শিদাবাদেও উত্তেজনা ছড়ায়। সেখানে তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীরা স্লোগান দিতে দিতে এলাকায় আসা আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রতিষ্ঠাতা হুমায়ুন কবিরকে ঘিরে ফেলে। এ সময় পুলিশ ও দলীয় কর্মীদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। একই জেলার ডোমকলে কয়েকজন ভোটারকে ভোট দিতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এসব ঘটনায় নির্বাচন কমিশন স্থানীয় কর্মকর্তাদের কাছে প্রতিবেদন চেয়েছে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাডুতে অনুষ্ঠিত ভোটে ব্যাপক অংশগ্রহণের প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর দুই রাজ্যেই এবার সর্বোচ্চ ভোটের হার দেখা গেছে। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ ইতিবাচক বার্তা বহন করে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
পশ্চিমবঙ্গের এ নির্বাচনকে ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক রাজনৈতিক লড়াই হিসেবে দেখা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস টানা ক্ষমতা ধরে রাখার চ্যালেঞ্জে রয়েছে। অন্যদিকে বিজেপি রাজ্যে নিজেদের শক্ত অবস্থান গড়ে তুলতে সর্বশক্তি নিয়োগ করেছে। বাম ও কংগ্রেস জোটও কয়েকটি অঞ্চলে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে।
দ্বিতীয় ধাপে আগামী ২৯ এপ্রিল কলকাতা ও আশপাশের ১৪২টি আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এরপর আগামী ৪ মে ভোট গণনার মাধ্যমে ফল ঘোষণা করা হবে। প্রথম ধাপের বিপুল ভোটার উপস্থিতি দেখে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, পরবর্তী ধাপগুলোতেও উচ্চ অংশগ্রহণ অব্যাহত থাকতে পারে।
সহিংসতার অভিযোগ থাকলেও প্রথম ধাপের ভোটে সাধারণ মানুষের ব্যাপক সাড়া প্রমাণ করেছে, রাজনৈতিক উত্তাপের মধ্যেও পশ্চিমবঙ্গের ভোটাররা নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে আগ্রহী। রেকর্ড উপস্থিতি সেই বার্তাই নতুন করে সামনে এনেছে।
#আর

আপনার মতামত লিখুন