ঢাকা    সোমবার, ১১ মে ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

উত্তপ্ত পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি, বিজেপিকে সরাসরি আক্রমণ মমতার


আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ১৭ এপ্রিল ২০২৬

উত্তপ্ত পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি, বিজেপিকে সরাসরি আক্রমণ মমতার

পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটার তালিকা সংশোধন ও নির্বাচন কমিশনের এসআইআর প্রক্রিয়া ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে উত্তেজনা তীব্র হয়েছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই বিজেপির বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান জানিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “যারা তাড়িয়ে দেওয়ার কথা বলছে, আমি তাদেরই ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠানোর ব্যবস্থা করব”—এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

মাথাভাঙায় কোচবিহারের নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, পরিকল্পিতভাবে ভোটার তালিকা থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। তাঁর দাবি, জাতীয় নির্বাচন কমিশনের উদ্যোগে চালু হওয়া বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রায় ৯১ লাখ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। এই ঘটনাকে তিনি গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব করার প্রচেষ্টা হিসেবে অভিহিত করেন।

তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রীর অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সরকারের প্রভাব ব্যবহার করে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ভোটার তালিকা প্রভাবিত করা হচ্ছে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, যাদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ যাচ্ছে, ভবিষ্যতে তাদের ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠিয়ে দেশ থেকে বের করে দেওয়ার পরিকল্পনা থাকতে পারে। এই ইস্যুতে কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকা নিয়েও তীব্র সমালোচনা করেন তিনি।

সভায় বিজেপিকে সরাসরি আক্রমণ করে মমতা বলেন, রাজ্যে কোনো ধরনের অত্যাচার বা বিভাজনের রাজনীতি সহ্য করা হবে না। তাঁর দাবি, জনগণের আস্থা থাকলে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপিকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করা হবে এবং রাজ্যের ভেতরে বিভাজনমূলক কর্মকাণ্ড চলতে দেওয়া হবে না। তিনি আরও দাবি করেন, আগের তুলনায় তৃণমূল কংগ্রেস এবারের নির্বাচনে আরও শক্ত অবস্থানে থাকবে।

জনসভায় ছিটমহল ইস্যু নিয়েও বক্তব্য রাখেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ছিটমহল সমস্যার সমাধানে তাঁর সরকারের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ, যার ফলে বহু মানুষ এখন নাগরিক অধিকার ও স্বীকৃতি নিয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন করছে। এই উন্নয়নকে তিনি সরকারের সাফল্য হিসেবে তুলে ধরেন।

এছাড়া কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে নতুন করে দেশভাগের রাজনীতি করার অভিযোগও আনেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সংসদে নারীদের জন্য ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ বিলের সঙ্গে ডিলিমিটেশন বিল আনার সমালোচনা করে তিনি বলেন, এটি বিভিন্ন অঞ্চলকে বিভক্ত করার একটি প্রচেষ্টা হতে পারে। তাঁর মতে, এর পেছনে ভোটার কাঠামো পরিবর্তন এবং এনআরসি বাস্তবায়নের ইঙ্গিত থাকতে পারে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটের আগে এই ধরনের তীব্র ভাষার পাল্টাপাল্টি বক্তব্য পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিবেশকে আরও উত্তপ্ত করে তুলছে। ভোটার তালিকা সংশোধন, নাগরিকত্ব ইস্যু এবং কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্ক—সব মিলিয়ে রাজ্যের রাজনীতি এখন এক জটিল সমীকরণের মধ্যে রয়েছে।

অন্যদিকে বিজেপির পক্ষ থেকে এখনো মমতার এই মন্তব্যের সরাসরি জবাব না এলেও রাজনৈতিক মহলে ধারণা করা হচ্ছে, এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজ্যে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক ও পাল্টা অভিযোগের ধারা আরও তীব্র হবে।

আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মাঠে উত্তাপ যে আরও বাড়তে যাচ্ছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই মন্তব্য তা স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দিচ্ছে।

বিষয় : পশ্চিমবঙ্গ

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সোমবার, ১১ মে ২০২৬


উত্তপ্ত পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি, বিজেপিকে সরাসরি আক্রমণ মমতার

প্রকাশের তারিখ : ১৭ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটার তালিকা সংশোধন ও নির্বাচন কমিশনের এসআইআর প্রক্রিয়া ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে উত্তেজনা তীব্র হয়েছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই বিজেপির বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান জানিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “যারা তাড়িয়ে দেওয়ার কথা বলছে, আমি তাদেরই ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠানোর ব্যবস্থা করব”—এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

মাথাভাঙায় কোচবিহারের নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, পরিকল্পিতভাবে ভোটার তালিকা থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। তাঁর দাবি, জাতীয় নির্বাচন কমিশনের উদ্যোগে চালু হওয়া বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রায় ৯১ লাখ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। এই ঘটনাকে তিনি গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব করার প্রচেষ্টা হিসেবে অভিহিত করেন।

তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রীর অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সরকারের প্রভাব ব্যবহার করে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ভোটার তালিকা প্রভাবিত করা হচ্ছে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, যাদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ যাচ্ছে, ভবিষ্যতে তাদের ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠিয়ে দেশ থেকে বের করে দেওয়ার পরিকল্পনা থাকতে পারে। এই ইস্যুতে কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকা নিয়েও তীব্র সমালোচনা করেন তিনি।

সভায় বিজেপিকে সরাসরি আক্রমণ করে মমতা বলেন, রাজ্যে কোনো ধরনের অত্যাচার বা বিভাজনের রাজনীতি সহ্য করা হবে না। তাঁর দাবি, জনগণের আস্থা থাকলে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপিকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করা হবে এবং রাজ্যের ভেতরে বিভাজনমূলক কর্মকাণ্ড চলতে দেওয়া হবে না। তিনি আরও দাবি করেন, আগের তুলনায় তৃণমূল কংগ্রেস এবারের নির্বাচনে আরও শক্ত অবস্থানে থাকবে।

জনসভায় ছিটমহল ইস্যু নিয়েও বক্তব্য রাখেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ছিটমহল সমস্যার সমাধানে তাঁর সরকারের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ, যার ফলে বহু মানুষ এখন নাগরিক অধিকার ও স্বীকৃতি নিয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন করছে। এই উন্নয়নকে তিনি সরকারের সাফল্য হিসেবে তুলে ধরেন।

এছাড়া কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে নতুন করে দেশভাগের রাজনীতি করার অভিযোগও আনেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সংসদে নারীদের জন্য ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ বিলের সঙ্গে ডিলিমিটেশন বিল আনার সমালোচনা করে তিনি বলেন, এটি বিভিন্ন অঞ্চলকে বিভক্ত করার একটি প্রচেষ্টা হতে পারে। তাঁর মতে, এর পেছনে ভোটার কাঠামো পরিবর্তন এবং এনআরসি বাস্তবায়নের ইঙ্গিত থাকতে পারে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটের আগে এই ধরনের তীব্র ভাষার পাল্টাপাল্টি বক্তব্য পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিবেশকে আরও উত্তপ্ত করে তুলছে। ভোটার তালিকা সংশোধন, নাগরিকত্ব ইস্যু এবং কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্ক—সব মিলিয়ে রাজ্যের রাজনীতি এখন এক জটিল সমীকরণের মধ্যে রয়েছে।

অন্যদিকে বিজেপির পক্ষ থেকে এখনো মমতার এই মন্তব্যের সরাসরি জবাব না এলেও রাজনৈতিক মহলে ধারণা করা হচ্ছে, এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজ্যে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক ও পাল্টা অভিযোগের ধারা আরও তীব্র হবে।

আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মাঠে উত্তাপ যে আরও বাড়তে যাচ্ছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই মন্তব্য তা স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দিচ্ছে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ