ঢাকা    সোমবার, ১১ মে ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

ট্রাম্পের জন্য সতর্ক সংকেত

কুয়েতের ভুল হামলায় বিধ্বস্ত মার্কিন যুদ্ধবিমান


আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
প্রকাশ : ০৩ মার্চ ২০২৬

কুয়েতের ভুল হামলায় বিধ্বস্ত মার্কিন যুদ্ধবিমান

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে মার্কিন বিমানবাহিনী বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে বলে দাবি উঠেছে। অপারেশন ‘এপিক ফিউরি’র তৃতীয় দিনে কুয়েতের আকাশসীমায় কুয়েতি বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনীর ফ্রেন্ডলি ফায়ারে মার্কিন বিমানবাহিনীর তিনটি অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। ঘটনাটি এমন সময় সামনে এলো, যখন ওয়াশিংটন দাবি করছিল যে তারা ইরানের সামরিক সক্ষমতাকে প্রায় পঙ্গু করে দিয়েছে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের বরাত দিয়ে জানানো হয়, বিধ্বস্ত হওয়ার সময় বিমানগুলো ইরানের দিক থেকে আসা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পাল্টা জবাব দিতে কুয়েতের আকাশে অবস্থান করছিল। তীব্র উত্তেজনার মধ্যে কুয়েতি রাডার ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বিমানগুলোকে শত্রুপক্ষ হিসেবে শনাক্ত করে ভুলবশত আঘাত হানে। অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম ও রাডার থাকা সত্ত্বেও দুর্ঘটনা এড়ানো যায়নি। তবে বিমানে থাকা তিন পাইলট ও তিনজন ওয়েপন সিস্টেম অফিসার প্যারাসুটের মাধ্যমে নিরাপদে অবতরণ করেছেন এবং তারা বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছেন।

কুয়েত সরকার ইতোমধ্যে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ভুলের দায় স্বীকার করে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ঘটনাটি কেবল কারিগরি ত্রুটি নয়; বরং মধ্যপ্রাচ্যের মিত্রদেশগুলোর মধ্যে আকাশসীমা নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয়ের গভীর সংকটকে সামনে এনেছে। যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বিপুল সংখ্যক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের ভিড়ে নিজেদের ও শত্রুপক্ষের বিমান শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে বলেও তারা উল্লেখ করেন।

বিমানগুলো বিধ্বস্ত হওয়ার পর পাইলটরা কুয়েতের লোকালয়ে নামলে সেখানে উত্তেজনা দেখা দেয়। স্থানীয় কিছু নাগরিক মার্কিন পাইলটদের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। অনেকের হাতে লাঠিসোঁটা দেখা যায় এবং তারা এই যুদ্ধের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করছেন বলে উল্লেখ করা হয়। ঘটনাটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের নৈতিকতা নিয়ে নতুন বিতর্ক উসকে দিয়েছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পক্ষ থেকে ইরানের আক্রমণাত্মক সক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ার দাবি করা হলেও বিশ্লেষকদের মতে, ইরান এখনো বিভিন্ন স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অব্যাহত রেখেছে। এই পরিস্থিতিতে সমন্বয়হীনতা বাড়ছে এবং তা ওয়াশিংটনের পূর্ববর্তী দাবিকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে।

বিধ্বস্ত যুদ্ধবিমানগুলো ছিল মার্কিন বিমানবাহিনীর বহুল ব্যবহৃত এফ-১৫ই স্ট্রাইক ইগল মডেল। দুই ইঞ্জিনবিশিষ্ট এই যুদ্ধবিমান উচ্চগতিতে দীর্ঘপাল্লার অভিযান পরিচালনায় সক্ষম বলে পরিচিত। তবে আধুনিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রনির্ভর যুদ্ধের বাস্তবতায় এর সীমাবদ্ধতা নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ব্র্যান্ডন জে. উইকার্ট মনে করেন, ঘটনাটি মার্কিন সামরিক প্রযুক্তির শ্রেষ্ঠত্বের দাবির ওপর বড় ধাক্কা। উন্নত সেন্সর ও ট্র্যাকিং ব্যবস্থার পরও মিত্র দেশের ভুল শনাক্তকরণ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়নি, যা যুদ্ধক্ষেত্রের অনিশ্চয়তাকেই সামনে আনে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই দুর্ঘটনা বৃহত্তর সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা উচিত। অপারেশন ‘এপিক ফিউরি’ যে সহজ বা স্বল্পমেয়াদি সংঘাত নয়, তার ইঙ্গিত মিলছে প্রতিটি ধাপে। বন্ধুপ্রতিম দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় নিজেদের বিমান ধ্বংস হওয়া এবং জনরোষের মুখে পড়া পেন্টাগনের জন্য বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে। চলমান সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে মার্কিন বাহিনীকে আরও জটিল বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হতে পারে।

বিষয় : MiddleEastConflict কুয়েত FriendlyFire Kuwait USAirForce Trump

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সোমবার, ১১ মে ২০২৬


কুয়েতের ভুল হামলায় বিধ্বস্ত মার্কিন যুদ্ধবিমান

প্রকাশের তারিখ : ০৩ মার্চ ২০২৬

featured Image

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে মার্কিন বিমানবাহিনী বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে বলে দাবি উঠেছে। অপারেশন ‘এপিক ফিউরি’র তৃতীয় দিনে কুয়েতের আকাশসীমায় কুয়েতি বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনীর ফ্রেন্ডলি ফায়ারে মার্কিন বিমানবাহিনীর তিনটি অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। ঘটনাটি এমন সময় সামনে এলো, যখন ওয়াশিংটন দাবি করছিল যে তারা ইরানের সামরিক সক্ষমতাকে প্রায় পঙ্গু করে দিয়েছে।


মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের বরাত দিয়ে জানানো হয়, বিধ্বস্ত হওয়ার সময় বিমানগুলো ইরানের দিক থেকে আসা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পাল্টা জবাব দিতে কুয়েতের আকাশে অবস্থান করছিল। তীব্র উত্তেজনার মধ্যে কুয়েতি রাডার ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বিমানগুলোকে শত্রুপক্ষ হিসেবে শনাক্ত করে ভুলবশত আঘাত হানে। অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম ও রাডার থাকা সত্ত্বেও দুর্ঘটনা এড়ানো যায়নি। তবে বিমানে থাকা তিন পাইলট ও তিনজন ওয়েপন সিস্টেম অফিসার প্যারাসুটের মাধ্যমে নিরাপদে অবতরণ করেছেন এবং তারা বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছেন।


কুয়েত সরকার ইতোমধ্যে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ভুলের দায় স্বীকার করে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ঘটনাটি কেবল কারিগরি ত্রুটি নয়; বরং মধ্যপ্রাচ্যের মিত্রদেশগুলোর মধ্যে আকাশসীমা নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয়ের গভীর সংকটকে সামনে এনেছে। যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বিপুল সংখ্যক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের ভিড়ে নিজেদের ও শত্রুপক্ষের বিমান শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে বলেও তারা উল্লেখ করেন।


বিমানগুলো বিধ্বস্ত হওয়ার পর পাইলটরা কুয়েতের লোকালয়ে নামলে সেখানে উত্তেজনা দেখা দেয়। স্থানীয় কিছু নাগরিক মার্কিন পাইলটদের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। অনেকের হাতে লাঠিসোঁটা দেখা যায় এবং তারা এই যুদ্ধের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করছেন বলে উল্লেখ করা হয়। ঘটনাটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের নৈতিকতা নিয়ে নতুন বিতর্ক উসকে দিয়েছে।


এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পক্ষ থেকে ইরানের আক্রমণাত্মক সক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ার দাবি করা হলেও বিশ্লেষকদের মতে, ইরান এখনো বিভিন্ন স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অব্যাহত রেখেছে। এই পরিস্থিতিতে সমন্বয়হীনতা বাড়ছে এবং তা ওয়াশিংটনের পূর্ববর্তী দাবিকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে।


বিধ্বস্ত যুদ্ধবিমানগুলো ছিল মার্কিন বিমানবাহিনীর বহুল ব্যবহৃত এফ-১৫ই স্ট্রাইক ইগল মডেল। দুই ইঞ্জিনবিশিষ্ট এই যুদ্ধবিমান উচ্চগতিতে দীর্ঘপাল্লার অভিযান পরিচালনায় সক্ষম বলে পরিচিত। তবে আধুনিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রনির্ভর যুদ্ধের বাস্তবতায় এর সীমাবদ্ধতা নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।


প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ব্র্যান্ডন জে. উইকার্ট মনে করেন, ঘটনাটি মার্কিন সামরিক প্রযুক্তির শ্রেষ্ঠত্বের দাবির ওপর বড় ধাক্কা। উন্নত সেন্সর ও ট্র্যাকিং ব্যবস্থার পরও মিত্র দেশের ভুল শনাক্তকরণ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়নি, যা যুদ্ধক্ষেত্রের অনিশ্চয়তাকেই সামনে আনে।


বিশ্লেষকদের মতে, এই দুর্ঘটনা বৃহত্তর সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা উচিত। অপারেশন ‘এপিক ফিউরি’ যে সহজ বা স্বল্পমেয়াদি সংঘাত নয়, তার ইঙ্গিত মিলছে প্রতিটি ধাপে। বন্ধুপ্রতিম দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় নিজেদের বিমান ধ্বংস হওয়া এবং জনরোষের মুখে পড়া পেন্টাগনের জন্য বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে। চলমান সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে মার্কিন বাহিনীকে আরও জটিল বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হতে পারে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ