ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার একটি গ্রামে প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে এক প্রতিবেশী যুবকের বিরুদ্ধে। অভিযোগের পাশাপাশি আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, ঘটনার পরপরই স্থানীয় প্রভাবশালীদের উদ্যোগে বিষয়টি ‘মীমাংসা’র নামে রাতারাতি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলে দাবি করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।
অভিযোগ অনুযায়ী, পাগলা থানার নিগুয়ারি ইউনিয়নের ছোট বারইহাটী গ্রামের মৃত আবদুল গফুরের ছেলে রুহুল আমিনসহ তার দুই ভাই দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসে অবস্থান করছেন। ফলে বাড়িটি পুরুষশূন্য থাকায় ওই পরিবারের নারী সদস্যরা একপ্রকার অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছিলেন। স্থানীয়দের ধারণা, এই সুযোগটিই কাজে লাগাতে চেয়েছিল প্রতিবেশী সোহরাব উদ্দিন, যিনি দীর্ঘদিন ধরে গৃহবধূর ওপর নজর রাখছিলেন।
ঘটনার সূত্রপাত ঘটে গত ২০ এপ্রিল রাতে। অভিযোগ রয়েছে, ওই রাতে গৃহবধূ প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে ঘরের বাইরে গেলে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ওঁত পেতে থাকা সোহরাব তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা করে। এ সময় গৃহবধূ চিৎকার করতে গেলে অভিযুক্ত তার মুখ চেপে ধরে। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে পাশের ঘরে থাকা শাশুড়ি বিষয়টি টের পেয়ে বাইরে এসে চিৎকার শুরু করলে আশপাশের লোকজন ছুটে আসে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে বুঝতে পেরে সোহরাব সেখান থেকে পালিয়ে যায়।
ঘটনার পরপরই অভিযুক্তের ভাই নূরু মিয়া এবং তার সহযোগীরা ভুক্তভোগী পরিবারকে ভয়ভীতি দেখিয়ে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে ‘মীমাংসা’ করার জন্য চাপ প্রয়োগ করে বলে অভিযোগ উঠেছে। পরিবারটির দাবি, তাদেরকে হুমকি দিয়ে বিষয়টি প্রকাশ না করার জন্য বাধ্য করার চেষ্টা করা হয়।
পরিস্থিতি আরও জটিল হয় পরদিন রাতে। ২১ এপ্রিল দিবাগত রাত আনুমানিক ১১টার দিকে ভুক্তভোগী নারীকে ঘুম থেকে ডেকে তোলা হয়। এরপর একই গ্রামের উৎপল, রুকন, নজরুল ও সেলিম রেজাসহ প্রায় ১৫ থেকে ২০ জন প্রভাবশালী ব্যক্তি ‘সমাধান’ করার নামে সেখানে জড়ো হন। অভিযোগ রয়েছে, তারা সবাই মিলে ভুক্তভোগী পরিবারকে বিষয়টি চেপে যেতে চাপ দেন এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, পুরো প্রক্রিয়ায় নেতৃত্ব দেন উৎপল।
এদিকে এলাকাবাসীর একটি অংশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত সোহরাব উদ্দিনের বিরুদ্ধে এর আগেও অনৈতিক আচরণের অভিযোগ রয়েছে। এমনকি তিনি পূর্বে নিজের ভাইয়ের স্ত্রীর সঙ্গেও জোরপূর্বক অসদাচরণের চেষ্টা করেছিলেন বলে অভিযোগ আছে। তবে সেই ঘটনাটিও প্রভাব খাটিয়ে ধামাচাপা দেওয়া হয়েছিল বলে স্থানীয়রা দাবি করেন।
অভিযুক্ত সোহরাব উদ্দিন অবশ্য এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, ঘটনার রাতে তিনি ওই বাড়ির সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় গৃহবধূ ভয় পেয়ে চিৎকার করেন। পরে তার ভাই ও এলাকার লোকজন বিষয়টি ‘মীমাংসা’ করে ফেলেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তবে স্থানীয় সূত্র বলছে, অভিযুক্তের ভাই নূরুসহ কয়েকজন ব্যক্তি ঘটনার আংশিক সত্যতা স্বীকার করেছেন, যা পুরো ঘটনাকে আরও সন্দেহজনক করে তুলেছে।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা দায়ের হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে এলাকাবাসী দ্রুত সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আর না ঘটে।

সোমবার, ১১ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ মে ২০২৬
ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার একটি গ্রামে প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে এক প্রতিবেশী যুবকের বিরুদ্ধে। অভিযোগের পাশাপাশি আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, ঘটনার পরপরই স্থানীয় প্রভাবশালীদের উদ্যোগে বিষয়টি ‘মীমাংসা’র নামে রাতারাতি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলে দাবি করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।
অভিযোগ অনুযায়ী, পাগলা থানার নিগুয়ারি ইউনিয়নের ছোট বারইহাটী গ্রামের মৃত আবদুল গফুরের ছেলে রুহুল আমিনসহ তার দুই ভাই দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসে অবস্থান করছেন। ফলে বাড়িটি পুরুষশূন্য থাকায় ওই পরিবারের নারী সদস্যরা একপ্রকার অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছিলেন। স্থানীয়দের ধারণা, এই সুযোগটিই কাজে লাগাতে চেয়েছিল প্রতিবেশী সোহরাব উদ্দিন, যিনি দীর্ঘদিন ধরে গৃহবধূর ওপর নজর রাখছিলেন।
ঘটনার সূত্রপাত ঘটে গত ২০ এপ্রিল রাতে। অভিযোগ রয়েছে, ওই রাতে গৃহবধূ প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে ঘরের বাইরে গেলে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ওঁত পেতে থাকা সোহরাব তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা করে। এ সময় গৃহবধূ চিৎকার করতে গেলে অভিযুক্ত তার মুখ চেপে ধরে। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে পাশের ঘরে থাকা শাশুড়ি বিষয়টি টের পেয়ে বাইরে এসে চিৎকার শুরু করলে আশপাশের লোকজন ছুটে আসে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে বুঝতে পেরে সোহরাব সেখান থেকে পালিয়ে যায়।
ঘটনার পরপরই অভিযুক্তের ভাই নূরু মিয়া এবং তার সহযোগীরা ভুক্তভোগী পরিবারকে ভয়ভীতি দেখিয়ে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে ‘মীমাংসা’ করার জন্য চাপ প্রয়োগ করে বলে অভিযোগ উঠেছে। পরিবারটির দাবি, তাদেরকে হুমকি দিয়ে বিষয়টি প্রকাশ না করার জন্য বাধ্য করার চেষ্টা করা হয়।
পরিস্থিতি আরও জটিল হয় পরদিন রাতে। ২১ এপ্রিল দিবাগত রাত আনুমানিক ১১টার দিকে ভুক্তভোগী নারীকে ঘুম থেকে ডেকে তোলা হয়। এরপর একই গ্রামের উৎপল, রুকন, নজরুল ও সেলিম রেজাসহ প্রায় ১৫ থেকে ২০ জন প্রভাবশালী ব্যক্তি ‘সমাধান’ করার নামে সেখানে জড়ো হন। অভিযোগ রয়েছে, তারা সবাই মিলে ভুক্তভোগী পরিবারকে বিষয়টি চেপে যেতে চাপ দেন এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, পুরো প্রক্রিয়ায় নেতৃত্ব দেন উৎপল।
এদিকে এলাকাবাসীর একটি অংশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত সোহরাব উদ্দিনের বিরুদ্ধে এর আগেও অনৈতিক আচরণের অভিযোগ রয়েছে। এমনকি তিনি পূর্বে নিজের ভাইয়ের স্ত্রীর সঙ্গেও জোরপূর্বক অসদাচরণের চেষ্টা করেছিলেন বলে অভিযোগ আছে। তবে সেই ঘটনাটিও প্রভাব খাটিয়ে ধামাচাপা দেওয়া হয়েছিল বলে স্থানীয়রা দাবি করেন।
অভিযুক্ত সোহরাব উদ্দিন অবশ্য এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, ঘটনার রাতে তিনি ওই বাড়ির সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় গৃহবধূ ভয় পেয়ে চিৎকার করেন। পরে তার ভাই ও এলাকার লোকজন বিষয়টি ‘মীমাংসা’ করে ফেলেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তবে স্থানীয় সূত্র বলছে, অভিযুক্তের ভাই নূরুসহ কয়েকজন ব্যক্তি ঘটনার আংশিক সত্যতা স্বীকার করেছেন, যা পুরো ঘটনাকে আরও সন্দেহজনক করে তুলেছে।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা দায়ের হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে এলাকাবাসী দ্রুত সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আর না ঘটে।

আপনার মতামত লিখুন