রাজধানী ঢাকায় দিন দিন বাড়ছে আন্ডারওয়ার্ল্ড সন্ত্রাসীদের দৌরাত্ম্য- এমন অভিযোগ জোরালো হয়ে উঠছে বিভিন্ন মহলে। চাঁদা না দিলে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষকে গুলি, কুপিয়ে হত্যা কিংবা গুরুতর জখম করার মতো ঘটনাও বাড়ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে নগরজীবনে এক ধরনের অস্থিরতা ও নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি ছড়িয়ে পড়ছে।
বিশ্বস্ত একাধিক সূত্র জানায়, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের পরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে অনেক সন্ত্রাসী তাদের পরিচয় বদলে নতুন করে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। পুরনো ও নতুন মিলে রাজধানীসহ ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় শতাধিক ছোট-বড় সন্ত্রাসী চক্র সক্রিয় রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদের মধ্যে কিছু গ্রুপ নির্দিষ্ট এলাকা নিয়ন্ত্রণ করে চাঁদাবাজি চালাচ্ছে, আবার কিছু গ্রুপ ভাসমানভাবে বিভিন্ন এলাকায় অপরাধ সংঘটিত করছে।
এই সন্ত্রাসী চক্রগুলোর প্রধান আয়ের উৎস হিসেবে চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজি সবচেয়ে বেশি উল্লেখ করা হচ্ছে। পাশাপাশি ছিনতাই, চুরি, ডাকাতি, মাদক ব্যবসা ও দখলবাজির সঙ্গেও তারা জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। ফুটপাতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে বড় দোকান, মার্কেট, নির্মাণকাজ, পরিবহন খাত- সবখানেই চাঁদা আদায়ের বিস্তার লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট হারে নিয়মিত চাঁদা দিতে বাধ্য করা হচ্ছে ব্যবসায়ীদের।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালেই শুরু হয় হুমকি-ধামকি, মারধর, দোকান ভাঙচুর এমনকি গুলিবর্ষণের মতো সহিংসতা। কিছু ক্ষেত্রে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনাও ঘটছে বলে জানা গেছে। এসব কারণে অনেক ব্যবসায়ী আতঙ্কে মুখ খুলতে চান না, আবার কেউ কেউ ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়ার কথাও ভাবছেন।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বসবাসকারী সাধারণ মানুষের মধ্যেও চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সন্ধ্যার পর চলাফেরা নিয়ে অনেকে শঙ্কা প্রকাশ করছেন। বিশেষ করে অলিগলি ও তুলনামূলক নির্জন এলাকাগুলোতে ছিনতাই ও হামলার আশঙ্কা বেশি বলে মনে করছেন বাসিন্দারা।
এদিকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির অভিযোগও উঠছে বিভিন্ন মহল থেকে। যদিও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়মিত অভিযান পরিচালনার কথা বলছে, তবুও সাধারণ মানুষের মধ্যে দৃশ্যমান নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়ায় উদ্বেগ কাটছে না।
সচেতন নাগরিকরা বলছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। সন্ত্রাসীদের রাজনৈতিক ছত্রছায়া বন্ধ, গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার, নিয়মিত বিশেষ অভিযান পরিচালনা এবং অপরাধীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা। একই সঙ্গে ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে অভিযোগ জানানোর পরিবেশ তৈরি করার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য শুধু অভিযান নয়, বরং সুশাসন, স্বচ্ছতা এবং সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগও সমানভাবে প্রয়োজন। তবেই রাজধানী ঢাকায় স্থিতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।

সোমবার, ১১ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ মে ২০২৬
রাজধানী ঢাকায় দিন দিন বাড়ছে আন্ডারওয়ার্ল্ড সন্ত্রাসীদের দৌরাত্ম্য- এমন অভিযোগ জোরালো হয়ে উঠছে বিভিন্ন মহলে। চাঁদা না দিলে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষকে গুলি, কুপিয়ে হত্যা কিংবা গুরুতর জখম করার মতো ঘটনাও বাড়ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে নগরজীবনে এক ধরনের অস্থিরতা ও নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি ছড়িয়ে পড়ছে।
বিশ্বস্ত একাধিক সূত্র জানায়, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের পরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে অনেক সন্ত্রাসী তাদের পরিচয় বদলে নতুন করে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। পুরনো ও নতুন মিলে রাজধানীসহ ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় শতাধিক ছোট-বড় সন্ত্রাসী চক্র সক্রিয় রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদের মধ্যে কিছু গ্রুপ নির্দিষ্ট এলাকা নিয়ন্ত্রণ করে চাঁদাবাজি চালাচ্ছে, আবার কিছু গ্রুপ ভাসমানভাবে বিভিন্ন এলাকায় অপরাধ সংঘটিত করছে।
এই সন্ত্রাসী চক্রগুলোর প্রধান আয়ের উৎস হিসেবে চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজি সবচেয়ে বেশি উল্লেখ করা হচ্ছে। পাশাপাশি ছিনতাই, চুরি, ডাকাতি, মাদক ব্যবসা ও দখলবাজির সঙ্গেও তারা জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। ফুটপাতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে বড় দোকান, মার্কেট, নির্মাণকাজ, পরিবহন খাত- সবখানেই চাঁদা আদায়ের বিস্তার লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট হারে নিয়মিত চাঁদা দিতে বাধ্য করা হচ্ছে ব্যবসায়ীদের।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালেই শুরু হয় হুমকি-ধামকি, মারধর, দোকান ভাঙচুর এমনকি গুলিবর্ষণের মতো সহিংসতা। কিছু ক্ষেত্রে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনাও ঘটছে বলে জানা গেছে। এসব কারণে অনেক ব্যবসায়ী আতঙ্কে মুখ খুলতে চান না, আবার কেউ কেউ ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়ার কথাও ভাবছেন।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বসবাসকারী সাধারণ মানুষের মধ্যেও চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সন্ধ্যার পর চলাফেরা নিয়ে অনেকে শঙ্কা প্রকাশ করছেন। বিশেষ করে অলিগলি ও তুলনামূলক নির্জন এলাকাগুলোতে ছিনতাই ও হামলার আশঙ্কা বেশি বলে মনে করছেন বাসিন্দারা।
এদিকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির অভিযোগও উঠছে বিভিন্ন মহল থেকে। যদিও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়মিত অভিযান পরিচালনার কথা বলছে, তবুও সাধারণ মানুষের মধ্যে দৃশ্যমান নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়ায় উদ্বেগ কাটছে না।
সচেতন নাগরিকরা বলছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। সন্ত্রাসীদের রাজনৈতিক ছত্রছায়া বন্ধ, গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার, নিয়মিত বিশেষ অভিযান পরিচালনা এবং অপরাধীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা। একই সঙ্গে ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে অভিযোগ জানানোর পরিবেশ তৈরি করার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য শুধু অভিযান নয়, বরং সুশাসন, স্বচ্ছতা এবং সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগও সমানভাবে প্রয়োজন। তবেই রাজধানী ঢাকায় স্থিতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।

আপনার মতামত লিখুন