নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের (নাসিক) প্রশাসককে লক্ষ্য করে ‘হকারদের অভিশাপ নিয়েন না, তওবা পড়েন’- এমন ঔদ্ধত্যপূর্ণ ও হুমকি স্বরূপ মন্তব্য করে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন শাহজাহান নামের এক ব্যক্তি। স্থানীয়ভাবে ‘জুয়াড়ি শাহজাহান’ নামে পরিচিত এই ব্যক্তির বিরুদ্ধে হকারদের আবেগ ও অভাবকে পুঁজি করে নিজের আখের গোছানো, মামলা বাণিজ্য এবং রেললাইন এলাকায় অপরাধের সাম্রাজ্য গড়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, শাহজাহান পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে তার পরিচয় পরিবর্তন করেন। কখনো তিনি নিজেকে হকার নেতা, কখনো বাস মালিক সমিতির নেতা, আবার কখনো পরিবহন চালক নেতা হিসেবে পরিচয় দেন। তার এই বহুরূপী পরিচয়ের আড়ালে লুকিয়ে আছে চাঁদাবাজি এবং প্রভাব বিস্তারের এক বিশাল সিন্ডিকেট। ১ নম্বর রেলগেট ও তৎসংলগ্ন এলাকায় তার কথাই শেষ কথা- এমন এক বিভীষিকা তৈরি করেছেন তিনি।
শাহজাহানের বিরুদ্ধে সবচেয়ে ভয়াবহ অভিযোগটি হলো জুলাই আন্দোলনের পরবর্তী সময়ের কর্মকাণ্ড নিয়ে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি আন্দোলনের প্রকৃত শহীদ বা আহতদের পরিবারের আবেগ কাজে লাগিয়ে ভুয়া ও বানোয়াট মামলা দায়ের করছেন। এরপর সেই মামলার আসামিদের তালিকায় প্রভাব খাটিয়ে নিরপরাধ মানুষকে ফাঁসিয়ে দিচ্ছেন। পরবর্তীতে মামলার বাদীকে সাথে নিয়ে আসামিদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ‘সমাধান’ করার নামে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। এই ‘মামলা বাণিজ্য’ নারায়ণগঞ্জে এখন ওপেন সিক্রেটে পরিণত হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ রেললাইনের আশপাশে ১ নম্বর গেট এলাকায় সরকারি বিদ্যুৎ চুরি করে শাহজাহান গড়ে তুলেছেন অবৈধ আস্তানা। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই বিদ্যুৎ চুরির মাধ্যমেই তিনি তার নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোতে জুয়ার আসর এবং মাদকের আড্ডা পরিচালনা করেন। বছরের পর বছর এভাবে সরকারি সম্পদ লুটে তিনি আজ অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছেন।
শাহজাহানের এই অপরাধের সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুললেই জোটে মিথ্যা মামলা আর জীবননাশের হুমকি। আইনের নানা ফাঁকফোকর ব্যবহার করে তিনি বারবার পার পেয়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ এখন তটস্থ। তিনি মূলত হকারদের উচ্ছেদকে ইস্যু বানিয়ে প্রশাসনের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে চান, যাতে তার ব্যক্তিগত অবৈধ ব্যবসাগুলো নির্বিঘ্নে চলতে পারে।
একজন ব্যক্তি কীভাবে প্রকাশ্যে প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের হুমকি দেওয়ার সাহস পান, তা নিয়ে নগরবাসীর মনে ক্ষোভ দানা বাঁধছে। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন- কে এই শাহজাহান? তার খুটির জোর কোথায়? কেন প্রশাসন তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে না?
নারায়ণগঞ্জের সচেতন মহল মনে করেন, জুলাই আন্দোলনের ফসল হিসেবে মানুষ যে বৈষম্যহীন সমাজের স্বপ্ন দেখছে, শাহজাহানের মতো ‘সুবিধাবাদী’ ও ‘চাঁদাবাজ’রা সেই স্বপ্নকে ধূলিসাৎ করে দিচ্ছে। হকার সমস্যার স্থায়ী সমাধানের পাশাপাশি এই ধরণের অপরাধী চক্রের মূল উৎপাটন করা এখন সময়ের দাবি।

সোমবার, ১১ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ মে ২০২৬
নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের (নাসিক) প্রশাসককে লক্ষ্য করে ‘হকারদের অভিশাপ নিয়েন না, তওবা পড়েন’- এমন ঔদ্ধত্যপূর্ণ ও হুমকি স্বরূপ মন্তব্য করে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন শাহজাহান নামের এক ব্যক্তি। স্থানীয়ভাবে ‘জুয়াড়ি শাহজাহান’ নামে পরিচিত এই ব্যক্তির বিরুদ্ধে হকারদের আবেগ ও অভাবকে পুঁজি করে নিজের আখের গোছানো, মামলা বাণিজ্য এবং রেললাইন এলাকায় অপরাধের সাম্রাজ্য গড়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, শাহজাহান পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে তার পরিচয় পরিবর্তন করেন। কখনো তিনি নিজেকে হকার নেতা, কখনো বাস মালিক সমিতির নেতা, আবার কখনো পরিবহন চালক নেতা হিসেবে পরিচয় দেন। তার এই বহুরূপী পরিচয়ের আড়ালে লুকিয়ে আছে চাঁদাবাজি এবং প্রভাব বিস্তারের এক বিশাল সিন্ডিকেট। ১ নম্বর রেলগেট ও তৎসংলগ্ন এলাকায় তার কথাই শেষ কথা- এমন এক বিভীষিকা তৈরি করেছেন তিনি।
শাহজাহানের বিরুদ্ধে সবচেয়ে ভয়াবহ অভিযোগটি হলো জুলাই আন্দোলনের পরবর্তী সময়ের কর্মকাণ্ড নিয়ে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি আন্দোলনের প্রকৃত শহীদ বা আহতদের পরিবারের আবেগ কাজে লাগিয়ে ভুয়া ও বানোয়াট মামলা দায়ের করছেন। এরপর সেই মামলার আসামিদের তালিকায় প্রভাব খাটিয়ে নিরপরাধ মানুষকে ফাঁসিয়ে দিচ্ছেন। পরবর্তীতে মামলার বাদীকে সাথে নিয়ে আসামিদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ‘সমাধান’ করার নামে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। এই ‘মামলা বাণিজ্য’ নারায়ণগঞ্জে এখন ওপেন সিক্রেটে পরিণত হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ রেললাইনের আশপাশে ১ নম্বর গেট এলাকায় সরকারি বিদ্যুৎ চুরি করে শাহজাহান গড়ে তুলেছেন অবৈধ আস্তানা। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই বিদ্যুৎ চুরির মাধ্যমেই তিনি তার নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোতে জুয়ার আসর এবং মাদকের আড্ডা পরিচালনা করেন। বছরের পর বছর এভাবে সরকারি সম্পদ লুটে তিনি আজ অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছেন।
শাহজাহানের এই অপরাধের সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুললেই জোটে মিথ্যা মামলা আর জীবননাশের হুমকি। আইনের নানা ফাঁকফোকর ব্যবহার করে তিনি বারবার পার পেয়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ এখন তটস্থ। তিনি মূলত হকারদের উচ্ছেদকে ইস্যু বানিয়ে প্রশাসনের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে চান, যাতে তার ব্যক্তিগত অবৈধ ব্যবসাগুলো নির্বিঘ্নে চলতে পারে।
একজন ব্যক্তি কীভাবে প্রকাশ্যে প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের হুমকি দেওয়ার সাহস পান, তা নিয়ে নগরবাসীর মনে ক্ষোভ দানা বাঁধছে। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন- কে এই শাহজাহান? তার খুটির জোর কোথায়? কেন প্রশাসন তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে না?
নারায়ণগঞ্জের সচেতন মহল মনে করেন, জুলাই আন্দোলনের ফসল হিসেবে মানুষ যে বৈষম্যহীন সমাজের স্বপ্ন দেখছে, শাহজাহানের মতো ‘সুবিধাবাদী’ ও ‘চাঁদাবাজ’রা সেই স্বপ্নকে ধূলিসাৎ করে দিচ্ছে। হকার সমস্যার স্থায়ী সমাধানের পাশাপাশি এই ধরণের অপরাধী চক্রের মূল উৎপাটন করা এখন সময়ের দাবি।

আপনার মতামত লিখুন