দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার দাউদপুর বালিকা বিদ্যালয়ের এক শিক্ষিকার বিরুদ্ধে ভুয়া শিক্ষক নিবন্ধন সনদ ব্যবহার করে দীর্ঘ ২০ বছর চাকরি করার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তার প্রাপ্ত প্রায় ১৪ লাখ ৪০ হাজার ৯০০ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিষয়ের সহকারী শিক্ষিকা মোসা. রেবেকা সুলতানা জাল নিবন্ধন সনদের মাধ্যমে ২০০৬ সালে নিয়োগ পান এবং দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
২০১৯ সালে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের এক পরিদর্শনে তার সনদটি জাল বলে শনাক্ত হয়। পরিদর্শক টুটুল কুমার নাগের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, তার দাখিলকৃত শিক্ষক নিবন্ধন সনদটি ভুয়া। তবে ওই প্রতিবেদন প্রকাশের পরও দীর্ঘ সময় দৃশ্যমান কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা না নেওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে সংশ্লিষ্ট মহলে।
পরবর্তীতে তার নিবন্ধন সনদ যাচাইয়ের জন্য বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)-এর কাছে চিঠি পাঠানো হলে সংস্থাটি জানায়, তার সনদটি সঠিক নয়। ফলে তার নিয়োগ বিধিসম্মত হয়নি এবং তিনি সরকারি বেতন-ভাতার জন্য বৈধভাবে প্রাপ্য নন। চাকরিকালে তিনি যে মোট অর্থ গ্রহণ করেছেন, তা সরকারি কোষাগারে ফেরতযোগ্য বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযুক্ত শিক্ষিকা রেবেকা সুলতানা দাবি করেন, তিনি যথাযথভাবে নিবন্ধন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছেন এবং সনদও পেয়েছেন। অডিট প্রতিবেদনে তার সনদকে কেন জাল বলা হয়েছে, তা তিনি বুঝতে পারছেন না। বিষয়টি পরিষ্কার করতে তিনি পুনরায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়েছেন বলে জানান।
বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ ফজলুল হক বলেন, শিক্ষিকার নিবন্ধন সনদটি জাল হওয়ার বিষয়টি প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নবাবগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দীপক কুমার বনিক জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত হয়েছেন। তবে তার দপ্তরে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো কপি পৌঁছায়নি। সাধারণত এ ধরনের কাগজপত্র জেলা শিক্ষা অফিসে আসে এবং পরে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে জানানো হয়। বিস্তারিত জানার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিল্লুর রহমান বলেন, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাধ্যমে সুষ্ঠু তদন্ত করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা খন্দকার মো. আলাউদ্দীন আল আজাদ বলেন, অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে প্রয়োজনীয় প্রমাণাদি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সোমবার, ১১ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ মে ২০২৬
দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার দাউদপুর বালিকা বিদ্যালয়ের এক শিক্ষিকার বিরুদ্ধে ভুয়া শিক্ষক নিবন্ধন সনদ ব্যবহার করে দীর্ঘ ২০ বছর চাকরি করার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তার প্রাপ্ত প্রায় ১৪ লাখ ৪০ হাজার ৯০০ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিষয়ের সহকারী শিক্ষিকা মোসা. রেবেকা সুলতানা জাল নিবন্ধন সনদের মাধ্যমে ২০০৬ সালে নিয়োগ পান এবং দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
২০১৯ সালে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের এক পরিদর্শনে তার সনদটি জাল বলে শনাক্ত হয়। পরিদর্শক টুটুল কুমার নাগের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, তার দাখিলকৃত শিক্ষক নিবন্ধন সনদটি ভুয়া। তবে ওই প্রতিবেদন প্রকাশের পরও দীর্ঘ সময় দৃশ্যমান কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা না নেওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে সংশ্লিষ্ট মহলে।
পরবর্তীতে তার নিবন্ধন সনদ যাচাইয়ের জন্য বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)-এর কাছে চিঠি পাঠানো হলে সংস্থাটি জানায়, তার সনদটি সঠিক নয়। ফলে তার নিয়োগ বিধিসম্মত হয়নি এবং তিনি সরকারি বেতন-ভাতার জন্য বৈধভাবে প্রাপ্য নন। চাকরিকালে তিনি যে মোট অর্থ গ্রহণ করেছেন, তা সরকারি কোষাগারে ফেরতযোগ্য বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযুক্ত শিক্ষিকা রেবেকা সুলতানা দাবি করেন, তিনি যথাযথভাবে নিবন্ধন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছেন এবং সনদও পেয়েছেন। অডিট প্রতিবেদনে তার সনদকে কেন জাল বলা হয়েছে, তা তিনি বুঝতে পারছেন না। বিষয়টি পরিষ্কার করতে তিনি পুনরায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়েছেন বলে জানান।
বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ ফজলুল হক বলেন, শিক্ষিকার নিবন্ধন সনদটি জাল হওয়ার বিষয়টি প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নবাবগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দীপক কুমার বনিক জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত হয়েছেন। তবে তার দপ্তরে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো কপি পৌঁছায়নি। সাধারণত এ ধরনের কাগজপত্র জেলা শিক্ষা অফিসে আসে এবং পরে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে জানানো হয়। বিস্তারিত জানার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিল্লুর রহমান বলেন, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাধ্যমে সুষ্ঠু তদন্ত করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা খন্দকার মো. আলাউদ্দীন আল আজাদ বলেন, অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে প্রয়োজনীয় প্রমাণাদি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন