নোয়াখালী সরকারি কলেজে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে চলমান উত্তেজনার অবসান ঘটেছে স্থানীয় সংসদ সদস্যের মধ্যস্থতায়। কলেজে শিক্ষককে হুমকি ও ভাঙচুরের ঘটনায় বহিষ্কৃত ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকে শেষ পর্যন্ত ক্ষমা করে দিয়েছেন কলেজ অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. ছানা উল্যা। শনিবার বিকেলে অধ্যক্ষের কক্ষে নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. শাহজাহানের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এই সমঝোতা হয়।
কলেজ সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার দুপুরে নোয়াখালী সরকারি কলেজে একটি উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। অভিযোগ রয়েছে, ওই সময় ছাত্রদলের একটি অংশ ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে শিক্ষকদের সঙ্গে অসদাচরণ করে এবং ভাঙচুর চালায়। ঘটনাটির সময় এক শিক্ষক আহত হন এবং অন্যান্য শিক্ষকরা হুমকির মুখে পড়েন বলে দাবি করা হয়। ঘটনার পরপরই কলেজ প্রশাসন জরুরি সভা করে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করার সিদ্ধান্ত নেয়। একই সঙ্গে শিক্ষকেরা নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণসহ ৮ দফা দাবি উত্থাপন করেন।
ঘটনার পর বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনেও প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ওই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নোয়াখালী সরকারি কলেজ শাখার সিনিয়র সহসভাপতি মুর্শিদুর রহমান রায়হান, সহসভাপতি আক্তারুজ্জামান বিশাল এবং সহসাধারণ সম্পাদক তানভীর হোসেন শাওনকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়। পাশাপাশি সভাপতি রাশেদুল ইসলাম সোহাগের পদ দুই মাসের জন্য স্থগিত করা হয় এবং সাবেক সভাপতি আকবর হোসেনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. শাহজাহান উদ্যোগ নেন। শনিবার বিকেলে তিনি কলেজে গিয়ে অধ্যক্ষ, শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে তাদের ভুল স্বীকার করে দুঃখ প্রকাশ করা হয়। দীর্ঘ আলোচনার পর শিক্ষক ও প্রশাসনের সঙ্গে সমঝোতা হলে বহিষ্কৃতদের বিষয়ে ক্ষমার সিদ্ধান্ত আসে।
বৈঠক শেষে অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. ছানা উল্যা বলেন, সংসদ সদস্যের উপস্থিতিতে বিষয়টি সমাধান করা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে ক্ষমা চেয়েছে। তারা আমার ছাত্র, তাই বিষয়টি এখানেই শেষ করা হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
অন্যদিকে সংসদ সদস্য মো. শাহজাহান বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর সম্পর্কের মধ্যে কোনো ধরনের রাজনৈতিক উত্তেজনা থাকা উচিত নয়। যারা শিক্ষার্থী, তারা শিক্ষার্থী হিসেবেই থাকবে এবং শিক্ষকদের সর্বদা সম্মান করতে হবে। ভবিষ্যতে যেন এমন ঘটনা না ঘটে সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
এ ঘটনায় কলেজ ক্যাম্পাসে কয়েক দিন ধরে চলা অস্থিরতা কিছুটা প্রশমিত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে এই সমঝোতাকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিষয় : ছাত্রদল

সোমবার, ১১ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ মে ২০২৬
নোয়াখালী সরকারি কলেজে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে চলমান উত্তেজনার অবসান ঘটেছে স্থানীয় সংসদ সদস্যের মধ্যস্থতায়। কলেজে শিক্ষককে হুমকি ও ভাঙচুরের ঘটনায় বহিষ্কৃত ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকে শেষ পর্যন্ত ক্ষমা করে দিয়েছেন কলেজ অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. ছানা উল্যা। শনিবার বিকেলে অধ্যক্ষের কক্ষে নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. শাহজাহানের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এই সমঝোতা হয়।
কলেজ সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার দুপুরে নোয়াখালী সরকারি কলেজে একটি উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। অভিযোগ রয়েছে, ওই সময় ছাত্রদলের একটি অংশ ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে শিক্ষকদের সঙ্গে অসদাচরণ করে এবং ভাঙচুর চালায়। ঘটনাটির সময় এক শিক্ষক আহত হন এবং অন্যান্য শিক্ষকরা হুমকির মুখে পড়েন বলে দাবি করা হয়। ঘটনার পরপরই কলেজ প্রশাসন জরুরি সভা করে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করার সিদ্ধান্ত নেয়। একই সঙ্গে শিক্ষকেরা নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণসহ ৮ দফা দাবি উত্থাপন করেন।
ঘটনার পর বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনেও প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ওই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নোয়াখালী সরকারি কলেজ শাখার সিনিয়র সহসভাপতি মুর্শিদুর রহমান রায়হান, সহসভাপতি আক্তারুজ্জামান বিশাল এবং সহসাধারণ সম্পাদক তানভীর হোসেন শাওনকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়। পাশাপাশি সভাপতি রাশেদুল ইসলাম সোহাগের পদ দুই মাসের জন্য স্থগিত করা হয় এবং সাবেক সভাপতি আকবর হোসেনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. শাহজাহান উদ্যোগ নেন। শনিবার বিকেলে তিনি কলেজে গিয়ে অধ্যক্ষ, শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে তাদের ভুল স্বীকার করে দুঃখ প্রকাশ করা হয়। দীর্ঘ আলোচনার পর শিক্ষক ও প্রশাসনের সঙ্গে সমঝোতা হলে বহিষ্কৃতদের বিষয়ে ক্ষমার সিদ্ধান্ত আসে।
বৈঠক শেষে অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. ছানা উল্যা বলেন, সংসদ সদস্যের উপস্থিতিতে বিষয়টি সমাধান করা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে ক্ষমা চেয়েছে। তারা আমার ছাত্র, তাই বিষয়টি এখানেই শেষ করা হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
অন্যদিকে সংসদ সদস্য মো. শাহজাহান বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর সম্পর্কের মধ্যে কোনো ধরনের রাজনৈতিক উত্তেজনা থাকা উচিত নয়। যারা শিক্ষার্থী, তারা শিক্ষার্থী হিসেবেই থাকবে এবং শিক্ষকদের সর্বদা সম্মান করতে হবে। ভবিষ্যতে যেন এমন ঘটনা না ঘটে সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
এ ঘটনায় কলেজ ক্যাম্পাসে কয়েক দিন ধরে চলা অস্থিরতা কিছুটা প্রশমিত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে এই সমঝোতাকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন