বৈষম্যহীন, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মর্যাদাপূর্ণ সমাজ গঠনের প্রত্যয়ে আত্মপ্রকাশ করেছে ‘জাতীয় প্রতিবন্ধী নাগরিক শক্তি’। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমর্থনে গঠিত এ সংগঠনটি দেশের প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর সাংবিধানিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করার ঘোষণা দিয়েছে।
শনিবার (২ মে) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে সংগঠনটির আত্মপ্রকাশ এবং ‘আগামী বাজেটে প্রতিবন্ধী নাগরিকের প্রত্যাশা’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, রাজনৈতিক নেতা, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন সংগঠনের সদস্যরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে এনসিপির পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন, যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক নাভিদ নওরোজ শাহ এবং ছায়া বাজেট প্রণয়ন কমিটির উপপ্রধান আবদুল্লাহ আল ফয়সল।
বক্তারা বলেন, দেশের উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীকে বাদ দিয়ে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠন সম্ভব নয়। তাদের দান বা অনুদানের দৃষ্টিতে না দেখে রাষ্ট্রের সক্রিয় অংশীদার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানান তারা।
তারা আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনায় নতুন বাংলাদেশ গঠনে প্রতিবন্ধী নাগরিকদের রাজনৈতিক ও সামাজিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তাদের প্রতিনিধিত্ব বাড়ানো জরুরি।
আলোচনা সভায় সংগঠনের প্রস্তাবিত কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে আহ্বায়ক হিসেবে ইফতেখার মাহমুদ, যুগ্ম আহ্বায়ক মো. সাইফুল হক, সদস্য সচিব বাপ্পি সরকার এবং যুগ্ম সদস্য সচিব মোছা. চেনবানু দায়িত্ব পেয়েছেন। এছাড়া সদস্য হিসেবে রয়েছেন আমজাদ হোসেন, মতিউর রহমান হৃদয় ও মো. জহিরুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে সংগঠনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার প্রতিষ্ঠা, রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন, নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা, সচেতনতা বৃদ্ধি, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন গড়ে তোলা এবং প্রতিবন্ধীবান্ধব অবকাঠামো ও সেবা নিশ্চিত করা।
আলোচনা সভা থেকে আগামী জাতীয় বাজেটের জন্য ১১ দফা দাবি উপস্থাপন করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে প্রতিবন্ধী ভাতা বৃদ্ধি করে ২,৫০০ টাকা করা, বাংলাদেশ ব্যাংকে ১,০০০ কোটি টাকার তহবিল গঠন, ৪ শতাংশ সুদে ঋণ প্রদান, কর সুবিধা, সহায়ক উপকরণ আমদানিতে শুল্ক প্রত্যাহার, কর্মসংস্থানে বিশেষ বরাদ্দ, সরকারি চাকরিতে কোটা বৃদ্ধি এবং গণপরিবহনে ভাড়া ছাড়।
বক্তারা বলেন, প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীকে উন্নয়ন প্রক্রিয়ার বাইরে রেখে টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠন সম্ভব নয়। তাই রাষ্ট্রীয় কাঠামোর সব পর্যায়ে তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তারা।
অনুষ্ঠান শেষে সংগঠনের পক্ষ থেকে দেশের প্রতিবন্ধী নাগরিকদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে অধিকারভিত্তিক আন্দোলনে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
বিষয় : এনসিপি

সোমবার, ১১ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ মে ২০২৬
বৈষম্যহীন, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মর্যাদাপূর্ণ সমাজ গঠনের প্রত্যয়ে আত্মপ্রকাশ করেছে ‘জাতীয় প্রতিবন্ধী নাগরিক শক্তি’। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমর্থনে গঠিত এ সংগঠনটি দেশের প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর সাংবিধানিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করার ঘোষণা দিয়েছে।
শনিবার (২ মে) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে সংগঠনটির আত্মপ্রকাশ এবং ‘আগামী বাজেটে প্রতিবন্ধী নাগরিকের প্রত্যাশা’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, রাজনৈতিক নেতা, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন সংগঠনের সদস্যরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে এনসিপির পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন, যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক নাভিদ নওরোজ শাহ এবং ছায়া বাজেট প্রণয়ন কমিটির উপপ্রধান আবদুল্লাহ আল ফয়সল।
বক্তারা বলেন, দেশের উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীকে বাদ দিয়ে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠন সম্ভব নয়। তাদের দান বা অনুদানের দৃষ্টিতে না দেখে রাষ্ট্রের সক্রিয় অংশীদার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানান তারা।
তারা আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনায় নতুন বাংলাদেশ গঠনে প্রতিবন্ধী নাগরিকদের রাজনৈতিক ও সামাজিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তাদের প্রতিনিধিত্ব বাড়ানো জরুরি।
আলোচনা সভায় সংগঠনের প্রস্তাবিত কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে আহ্বায়ক হিসেবে ইফতেখার মাহমুদ, যুগ্ম আহ্বায়ক মো. সাইফুল হক, সদস্য সচিব বাপ্পি সরকার এবং যুগ্ম সদস্য সচিব মোছা. চেনবানু দায়িত্ব পেয়েছেন। এছাড়া সদস্য হিসেবে রয়েছেন আমজাদ হোসেন, মতিউর রহমান হৃদয় ও মো. জহিরুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে সংগঠনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার প্রতিষ্ঠা, রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন, নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা, সচেতনতা বৃদ্ধি, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন গড়ে তোলা এবং প্রতিবন্ধীবান্ধব অবকাঠামো ও সেবা নিশ্চিত করা।
আলোচনা সভা থেকে আগামী জাতীয় বাজেটের জন্য ১১ দফা দাবি উপস্থাপন করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে প্রতিবন্ধী ভাতা বৃদ্ধি করে ২,৫০০ টাকা করা, বাংলাদেশ ব্যাংকে ১,০০০ কোটি টাকার তহবিল গঠন, ৪ শতাংশ সুদে ঋণ প্রদান, কর সুবিধা, সহায়ক উপকরণ আমদানিতে শুল্ক প্রত্যাহার, কর্মসংস্থানে বিশেষ বরাদ্দ, সরকারি চাকরিতে কোটা বৃদ্ধি এবং গণপরিবহনে ভাড়া ছাড়।
বক্তারা বলেন, প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীকে উন্নয়ন প্রক্রিয়ার বাইরে রেখে টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠন সম্ভব নয়। তাই রাষ্ট্রীয় কাঠামোর সব পর্যায়ে তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তারা।
অনুষ্ঠান শেষে সংগঠনের পক্ষ থেকে দেশের প্রতিবন্ধী নাগরিকদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে অধিকারভিত্তিক আন্দোলনে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

আপনার মতামত লিখুন