ড. ইউনূস-রিজওয়ানা-আসিফ নজরুলদের বিরুদ্ধে মামলা নিলেন না আদালত রাজধানীর দিয়াবাড়ীতে সংঘটিত মর্মান্তিক “মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি” ঘটনায় সাবেক প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনুস, অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, রিজওয়ানা সহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম-এর আদালতে মামলার আবেদন করেন নিহত শিক্ষার্থী উক্য ছাইং মারমার বাবা উসাইমং মারমা। আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণের পর আদেশের জন্য আবেদনটি অপেক্ষমাণ রাখেন। পরে বিকেলে মামলাটি গ্রহণ করার মতো পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপিত হয়নি উল্লেখ করে আদালত আবেদনটি খারিজ করে দেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট আদালতের সহকারী পেশকার শাহাদাত হোসেন।
ভয়াবহ সেই বিমান দুর্ঘটনা- ২০২৫ সালের ২১ জুলাই রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়ী এলাকায় অবস্থিত মাইলস্টোন স্কুল এন্ড কলেজ ক্যাম্পাসে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়। ভয়াবহ এ দুর্ঘটনায় মোট ৩৬ জন প্রাণ হারান। নিহতদের মধ্যে ২৮ জনই ছিলেন শিক্ষার্থী। এছাড়া বিমানটির পাইলট ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মো. তৌকির ইসলামও নিহত হন।
ঘটনার পর দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে এবং দুর্ঘটনার কারণ, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও প্রশাসনিক দায়িত্ব নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
মামলার আবেদনে যেসব অভিযোগ মামলার আবেদনে বলা হয়, দুর্ঘটনার সময় দেশের নির্বাহী ক্ষমতার প্রধান হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও সশস্ত্র বাহিনীর দায়িত্বও তার অধীনে ছিল। তার নিয়ন্ত্রণাধীন বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমান দুর্ঘটনার সঙ্গে জড়িত হওয়ায় দায়িত্ব পালনে অবহেলার অভিযোগ আনা হয়।
এছাড়া অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, দুর্ঘটনার পর ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য সর্বোচ্চ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। এজন্য তার বিরুদ্ধে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ ও প্রতারণার অভিযোগও আনা হয়।
সাবেক উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, রিজওয়ানা হাসান এবং তৎকালীন প্রেসসচিব শফিকুল আলমের বিরুদ্ধে অভিযোগে বলা হয়, দুর্ঘটনার পর আহতদের দ্রুত চিকিৎসা, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ এবং কার্যকর উদ্ধার তৎপরতা নিশ্চিত করতে তারা যথাযথ ভূমিকা পালন করতে ব্যর্থ হয়েছেন।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধেও অভিযোগ মামলার আবেদনে মাইলস্টোন স্কুল এন্ড কলেজ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধেও গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়। বলা হয়, প্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা, জরুরি বহির্গমন পথ এবং মানসম্মত সিঁড়ির ব্যবস্থা ছিল না। অব্যবস্থাপনা ও খামখেয়ালিপূর্ণ পরিচালনার কারণেই হতাহতের সংখ্যা বেড়েছে বলে দাবি করেন বাদী।
এ ঘটনায় দায়ীদের বিচার এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য ন্যায়বিচারের দাবি জানানো হলেও আদালত প্রাথমিকভাবে মামলাটি গ্রহণযোগ্য মনে না করায় আবেদনটি খারিজ করে দেন।

সোমবার, ১১ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ মে ২০২৬
ড. ইউনূস-রিজওয়ানা-আসিফ নজরুলদের বিরুদ্ধে মামলা নিলেন না আদালত রাজধানীর দিয়াবাড়ীতে সংঘটিত মর্মান্তিক “মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি” ঘটনায় সাবেক প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনুস, অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, রিজওয়ানা সহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম-এর আদালতে মামলার আবেদন করেন নিহত শিক্ষার্থী উক্য ছাইং মারমার বাবা উসাইমং মারমা। আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণের পর আদেশের জন্য আবেদনটি অপেক্ষমাণ রাখেন। পরে বিকেলে মামলাটি গ্রহণ করার মতো পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপিত হয়নি উল্লেখ করে আদালত আবেদনটি খারিজ করে দেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট আদালতের সহকারী পেশকার শাহাদাত হোসেন।
ভয়াবহ সেই বিমান দুর্ঘটনা- ২০২৫ সালের ২১ জুলাই রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়ী এলাকায় অবস্থিত মাইলস্টোন স্কুল এন্ড কলেজ ক্যাম্পাসে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়। ভয়াবহ এ দুর্ঘটনায় মোট ৩৬ জন প্রাণ হারান। নিহতদের মধ্যে ২৮ জনই ছিলেন শিক্ষার্থী। এছাড়া বিমানটির পাইলট ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মো. তৌকির ইসলামও নিহত হন।
ঘটনার পর দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে এবং দুর্ঘটনার কারণ, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও প্রশাসনিক দায়িত্ব নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
মামলার আবেদনে যেসব অভিযোগ মামলার আবেদনে বলা হয়, দুর্ঘটনার সময় দেশের নির্বাহী ক্ষমতার প্রধান হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও সশস্ত্র বাহিনীর দায়িত্বও তার অধীনে ছিল। তার নিয়ন্ত্রণাধীন বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমান দুর্ঘটনার সঙ্গে জড়িত হওয়ায় দায়িত্ব পালনে অবহেলার অভিযোগ আনা হয়।
এছাড়া অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, দুর্ঘটনার পর ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য সর্বোচ্চ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। এজন্য তার বিরুদ্ধে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ ও প্রতারণার অভিযোগও আনা হয়।
সাবেক উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, রিজওয়ানা হাসান এবং তৎকালীন প্রেসসচিব শফিকুল আলমের বিরুদ্ধে অভিযোগে বলা হয়, দুর্ঘটনার পর আহতদের দ্রুত চিকিৎসা, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ এবং কার্যকর উদ্ধার তৎপরতা নিশ্চিত করতে তারা যথাযথ ভূমিকা পালন করতে ব্যর্থ হয়েছেন।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধেও অভিযোগ মামলার আবেদনে মাইলস্টোন স্কুল এন্ড কলেজ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধেও গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়। বলা হয়, প্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা, জরুরি বহির্গমন পথ এবং মানসম্মত সিঁড়ির ব্যবস্থা ছিল না। অব্যবস্থাপনা ও খামখেয়ালিপূর্ণ পরিচালনার কারণেই হতাহতের সংখ্যা বেড়েছে বলে দাবি করেন বাদী।
এ ঘটনায় দায়ীদের বিচার এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য ন্যায়বিচারের দাবি জানানো হলেও আদালত প্রাথমিকভাবে মামলাটি গ্রহণযোগ্য মনে না করায় আবেদনটি খারিজ করে দেন।

আপনার মতামত লিখুন