শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার নড়িয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী তানজিলা আক্তারের হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) দুপুরে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
নিহতের পরিবার, নড়িয়া কলেজ ছাত্রদল, সাধারণ শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড হাতে ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধনে অংশ নেন। এ সময় তারা তানজিলার হত্যার বিচার দাবি করে নানা স্লোগান দেন।
মানববন্ধনে বক্তারা জানান, নড়িয়া উপজেলার কলারগাঁও এলাকার তানজিলা আক্তারের সঙ্গে একই উপজেলার বাহির কুশিয়া এলাকার অপু বেপারীর গত ৪ জানুয়ারি পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই স্বামী ও তার পরিবার তানজিলার পরিবারের কাছে ৫ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে আসছিল। যৌতুক দিতে অস্বীকৃতি জানালে তানজিলার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়।
অভিযোগ করা হয়, গত ২৩ এপ্রিল রাতে তানজিলাকে তার স্বামী অপু বেপারী, শ্বশুর রাসেল বেপারী ও শাশুড়ি আলো বেগম মারধর ও নির্যাতন করে। গুরুতর অবস্থায় তাকে নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মূলফৎগঞ্জে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে চালাতে মরদেহ বাড়িতে এনে ঘরের গ্রিলের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলিয়ে রাখা হয় এবং অভিযুক্তরা পালিয়ে যান।
মানববন্ধনে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, ঘটনার পর নড়িয়া থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ শুরুতে টালবাহানা করে। পরবর্তীতে তাদের অভিযোগ অনুযায়ী হত্যা মামলা না নিয়ে আত্মহত্যায় প্ররোচনার ধারা (৩০৬) উল্লেখ করে মামলা নেওয়া হয়, যা তাদের প্রত্যাশার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।
নিহতের বড় বোন শাকিলা আক্তার বলেন, “আমার বোনকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু মামলাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করা হচ্ছে। আমরা সঠিক বিচার চাই। আমরা আমাদের বোনের শেষ মুখটাও দেখতে পারিনি, জানাজায় অংশ নিতে পারিনি- এটা আমাদের জন্য খুব কষ্টের।”
এদিকে পুলিশ জানায়, মামলার পর গত ২৭ এপ্রিল শরীয়তপুর আদালত চত্বর থেকে তানজিলার স্বামী অপু বেপারী, শ্বশুর রাসেল বেপারী ও শাশুড়ি আলো বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ২৮ এপ্রিল তাদের ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়। এ বিষয়ে ৩০ এপ্রিল আদালতে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
পুলিশ আরও জানায়, সুরতহাল শেষে মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে বলা যাবে।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা দ্রুত সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান। তারা বলেন, এ ঘটনায় কোনো ধরনের গাফিলতি বা প্রভাব যেন বিচার প্রক্রিয়াকে ব্যাহত না করে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।

সোমবার, ১১ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ এপ্রিল ২০২৬
শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার নড়িয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী তানজিলা আক্তারের হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) দুপুরে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
নিহতের পরিবার, নড়িয়া কলেজ ছাত্রদল, সাধারণ শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড হাতে ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধনে অংশ নেন। এ সময় তারা তানজিলার হত্যার বিচার দাবি করে নানা স্লোগান দেন।
মানববন্ধনে বক্তারা জানান, নড়িয়া উপজেলার কলারগাঁও এলাকার তানজিলা আক্তারের সঙ্গে একই উপজেলার বাহির কুশিয়া এলাকার অপু বেপারীর গত ৪ জানুয়ারি পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই স্বামী ও তার পরিবার তানজিলার পরিবারের কাছে ৫ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে আসছিল। যৌতুক দিতে অস্বীকৃতি জানালে তানজিলার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়।
অভিযোগ করা হয়, গত ২৩ এপ্রিল রাতে তানজিলাকে তার স্বামী অপু বেপারী, শ্বশুর রাসেল বেপারী ও শাশুড়ি আলো বেগম মারধর ও নির্যাতন করে। গুরুতর অবস্থায় তাকে নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মূলফৎগঞ্জে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে চালাতে মরদেহ বাড়িতে এনে ঘরের গ্রিলের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলিয়ে রাখা হয় এবং অভিযুক্তরা পালিয়ে যান।
মানববন্ধনে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, ঘটনার পর নড়িয়া থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ শুরুতে টালবাহানা করে। পরবর্তীতে তাদের অভিযোগ অনুযায়ী হত্যা মামলা না নিয়ে আত্মহত্যায় প্ররোচনার ধারা (৩০৬) উল্লেখ করে মামলা নেওয়া হয়, যা তাদের প্রত্যাশার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।
নিহতের বড় বোন শাকিলা আক্তার বলেন, “আমার বোনকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু মামলাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করা হচ্ছে। আমরা সঠিক বিচার চাই। আমরা আমাদের বোনের শেষ মুখটাও দেখতে পারিনি, জানাজায় অংশ নিতে পারিনি- এটা আমাদের জন্য খুব কষ্টের।”
এদিকে পুলিশ জানায়, মামলার পর গত ২৭ এপ্রিল শরীয়তপুর আদালত চত্বর থেকে তানজিলার স্বামী অপু বেপারী, শ্বশুর রাসেল বেপারী ও শাশুড়ি আলো বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ২৮ এপ্রিল তাদের ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়। এ বিষয়ে ৩০ এপ্রিল আদালতে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
পুলিশ আরও জানায়, সুরতহাল শেষে মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে বলা যাবে।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা দ্রুত সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান। তারা বলেন, এ ঘটনায় কোনো ধরনের গাফিলতি বা প্রভাব যেন বিচার প্রক্রিয়াকে ব্যাহত না করে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।

আপনার মতামত লিখুন