ঢাকা    সোমবার, ১১ মে ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

আবুল কালাম মজুমদার

আবুল কালাম মজুমদার

কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি কুমিল্লা


মাদকের 'সেফ জোন' কুমিল্লার সীমান্ত ও হাইওয়ে- প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন?

প্রাচীন ঐতিহ্য আর শিক্ষা-সংস্কৃতির জনপদ কুমিল্লা বর্তমানে ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে মাদক সমস্যার এক জটিল সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে।ভারতের সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ায় কুমিল্লার বিভিন্ন সীমান্ত পথ দিয়ে আসা মাদক যুব সমাজকে বিপথে পরিচালিত করছে। বিশেষ করে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী এবং বেকার যুবকদের মধ্যে মাদকের আসক্তি এখন এক নীরব ঘাতক। অনুসন্ধানে দেখা যায়, কুমিল্লার বিবিরবাজার, সদর দক্ষিণ, চৌদ্দগ্রাম এবং বুড়িচং সীমান্ত দিয়ে ফেনসিডিল, ইয়াবা ও বিভিন্ন সিন্থেটিক মাদক অবাধে প্রবেশ করছে।তবে ভীতি জাগানিয়া তথ্য হলো- ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের গাংরা, বেতিয়ারা, বাবুর্চি বাজার, জোড়কানন, সুয়াগঞ্জ এবং কুমিল্লা বিশ্বরোড এলাকার ট্রাক হোটেলগুলোতে এখন মাদকের হাট বসছে। অভিযোগ রয়েছে, হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন এসব পয়েন্ট থেকে নিয়মিত আর্থিক সুবিধা পাওয়ায় বিষয়গুলো দেখেও না দেখার ভান করছে।কুমিল্লা জেলা প্রশাসন বিচ্ছিন্ন কিছু কাজ করলেও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (DNC) কর্মকাণ্ড নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে চরম অসন্তোষ রয়েছে। জনমনে প্রশ্ন উঠেছে- মাদক নির্মূলে এই অধিদপ্তরের প্রকৃত ভূমিকা কী?সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে র‍্যাব-১১ মাঝে মধ্যে অভিযান চালালেও ডিএনসি-র দৃশ্যমান কোনো বড় সাফল্য নেই বললেই চলে। স্থানীয়দের মতে, পুলিশ, র‍্যাব এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মধ্যে সমন্বিত কাজের অভাবই মাদক ব্যবসায়ীদের সাহস বাড়িয়ে দিচ্ছে।চৌদ্দগ্রামের বাবুর্চি বাজারের একজন ব্যবসায়ীর মতে, স্থানীয় কিছু অসাধু রাজনৈতিক নেতা সরাসরি এই ব্যবসার নিয়ন্ত্রক। গত ৫ই আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরবর্তী সময়েও এক শ্রেণির মানুষ মাদক ব্যবসার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন, যা কুমিল্লার সামাজিক স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলেছে। ​প্রশাসনের অঙ্গীকার বনাম বাস্তবতা রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় মাদক ব্যবসা এটা সাধারণ মানুষ বেশি বিচলিত করে। জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে ‘মাদকমুক্ত কুমিল্লা’ গড়ার অঙ্গীকার বারবার করা হলেও কাজের সাথে কথার পার্থক্য অনেক।যদিও উদ্ধারকৃত মাদকের পরিমাণ এবং গ্রেপ্তারের সংখ্যা বাড়ছে, তবে অপরাধের ব্যাপকতার তুলনায় তা সামান্য। মাদক নির্মূলে শুধু লৌকিকতা নয়, বরং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা। এখন সময়ের দাবি।​উত্তরণের প্রস্তাবনা: ১. সমন্বিত অভিযান: পুলিশ, র‍্যাব ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মধ্যে দ্রুত সমন্বয় তৈরি করতে হবে। ২. হাইওয়েতে বিশেষ নজরদারি: মহাসড়কের ট্রাক হোটেলগুলোতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়িয়ে জড়িত পুলিশ সদস্যদেরও শাস্তির আওতায় আনতে হবে। ৩. রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত প্রশাসন: মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত রাজনৈতিক নেতাদের পরিচয় যাই হোক, তাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করতে হবে। ৪. সামাজিক প্রতিরোধ: ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে মাদকবিরোধী কমিটি গঠন এবং তরুণদের জন্য খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশ তৈরি করতে হবে।মাদক কেবল একটি ব্যক্তিকে নয়, বরং একটি রাষ্ট্রকে পঙ্গু করে দেয়। কুমিল্লার সচেতন জনগোষ্ঠী এবং প্রশাসনের সৎ প্রচেষ্টায় এই জেলাকে মাদকমুক্ত করা সম্ভব। আগামীর স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে মাদকমুক্ত কুমিল্লার কোনো বিকল্প নেই।এ বিষয়ে চৌদ্দগ্রাম থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের কার্যক্রম নিয়মিত চলমান আছে। ক্যান্টমেন্ট হাইওয়ে পুলিশ ইনচার্জ বলেন প্রতি মাসেই মাদক বিরোধী অভিযান চলমান আছে। 

মাদকের 'সেফ জোন' কুমিল্লার সীমান্ত ও হাইওয়ে- প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন?